১৬৫ সিসির বাইকে বছরে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত কর, যেভাবে অগ্রিম কর আদায় করা হবে

প্রকাশিত: 20-05-2026 12:14 PM
১৬৫ সিসির বাইকে বছরে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত কর

বাংলাদেশে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন করে অগ্রিম আয়কর বা এআইটি আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগামী বাজেটে মোটরসাইকেল ও কিছু অন্যান্য যানবাহনকে করের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে দেশের লাখ লাখ মোটরসাইকেল মালিককে প্রতি বছর অতিরিক্ত কর দিতে হতে পারে।

আরও পড়ুন-নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ না থাকলেই জরিমানা

বর্তমানে দেশে মোটরসাইকেল মালিকদের ট্যাক্স টোকেন ফি দিতে হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর তা নবায়ন করতে হয়। তবে এবার সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন করে অগ্রিম আয়কর যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সাধারণ বাইক ব্যবহারকারী, রাইড শেয়ারিং চালক ও ডেলিভারি কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। এর বড় একটি অংশ ব্যবহার করেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকেই ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাইক ব্যবহার করলেও বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন মোটরসাইকেলকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি ও কুরিয়ার সেবায় মোটরসাইকেল বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, মোটরসাইকেলসহ কর নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা যানবাহনের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অটোরিকশাকেও এই কর ব্যবস্থার আওতায় আনার চিন্তা করা হচ্ছে। যদিও এখনো বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি, তবে আগামী জাতীয় বাজেটে এটি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে আভাস মিলছে।

কর আদায়ের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলছে। এনবিআরের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার বা টিনের মাধ্যমে কর আদায়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থাৎ যাদের মোটরসাইকেল রয়েছে তাদের টিন নিতে হতে পারে এবং সেই টিন নম্বরের বিপরীতে অগ্রিম আয়কর আদায় করা হতে পারে।

তবে এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। কারণ দেশে অনেক মোটরসাইকেল মালিক আছেন যাদের করযোগ্য আয় নেই এবং তাদের টিন নম্বরও নেই। ফলে শুধুমাত্র টিনের মাধ্যমে কর আদায় করা হলে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ বাড়তি ঝামেলায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, সবাইকে কর ব্যবস্থার মধ্যে আনা গেলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং ধীরে ধীরে কর সংস্কৃতিও বিস্তৃত হবে। তবে তিনি বলেছেন, করের হার অবশ্যই যৌক্তিক হতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

অন্যদিকে বাইক মালিক ও চালকদের একটি বড় অংশ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন। ইতোমধ্যে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন তারা। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, বাংলাদেশে এমনিতেই মোটরসাইকেলের দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এর ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর চাপানো হলে সাধারণ মানুষ আর্থিক চাপে পড়বেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা আগে থেকেই ট্যাক্স টোকেন ফি দেন। এখন আবার নতুন কর আরোপ করা হলে সেটি দ্বৈত চাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে যারা রাইড শেয়ারিং বা ডেলিভারি করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের জন্য এটি বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

এনবিআরের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সম্ভাব্য কর হার নিয়েও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলকে নতুন করের আওতায় আনা হতে পারে। ১১১ সিসি থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের জন্য বছরে প্রায় ২ হাজার টাকা কর নির্ধারণের আলোচনা চলছে। ১৬৫ সিসি পর্যন্ত বাইকের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং এর বেশি সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

শুধু মোটরসাইকেল নয়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রেও নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য বছরে ৫ হাজার টাকা, পৌর এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করা হতে পারে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে এসব যানবাহনের লাইসেন্স ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে কর আদায়ের বিষয়টি যুক্ত করা হতে পারে। অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে লাইসেন্স নেওয়ার সময়ই অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করতে হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার করের আওতা বাড়াতে চাইছে এবং অপ্রচলিত খাতগুলো থেকেও রাজস্ব আদায়ের পথ খুঁজছে। তবে তারা মনে করছেন, কর আরোপের আগে জনগণের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। কারণ মোটরসাইকেল এখন অনেকের কাছে বিলাসপণ্য নয়, বরং প্রয়োজনীয় পরিবহন ও আয়ের মাধ্যম।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যদি কর আরোপ করতেই হয় তাহলে সেটি ধাপে ধাপে এবং যৌক্তিকভাবে করা উচিত। একই সঙ্গে যাদের আয় কম বা যারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের জন্য বিশেষ ছাড় বা ভিন্ন নীতিমালা বিবেচনা করা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে মোটরসাইকেলের ওপর সম্ভাব্য নতুন অগ্রিম আয়কর নিয়ে এখন আলোচনা ও বিতর্ক দুটোই বাড়ছে। আগামী বাজেটে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন দেশের লাখো মোটরসাইকেল মালিক ও চালক।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুন-ছোট সিসির বাইকে কর ছাড়, বড় ইঞ্জিনের মোটরসাইকেলে আসছে নতুন ট্যাক্স

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now