সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচিতে অনিয়ম ও নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগের পর নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের খাদ্যনিরাপত্তা ও খাবারের মান নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে মায়েদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ গঠন করা হবে।
সোমবার রাজধানীর মিরপুরে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ববি হাজ্জাজ, যিনি বর্তমানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন- উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রির সময় বাড়লো, নতুন সময় জানাল ট্রাস্ট
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন গঠিত কমিটিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন সদস্য এবং তিনজন অভিভাবক মা সদস্য হিসেবে থাকবেন। তাদের মূল দায়িত্ব হবে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় পচা বা কাঁচা কলা, নিম্নমানের বানরুটি এবং নষ্ট সেদ্ধ ডিম বিতরণের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু করা হয়। বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া কমানো এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা।
বর্তমানে সপ্তাহে ছয় দিন বিভিন্ন ধরনের খাবার সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ ও ফর্টিফায়েড বিস্কুট।
তবে স্থানীয়ভাবে খাবার সংগ্রহ ও সরবরাহের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বাজারদরের তুলনায় কম দামে নিম্নমানের পণ্য কেনার অভিযোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সভায় পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, অনুমোদিত নমুনা অনুযায়ী প্যাকেজিং কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অনুমতি ছাড়া পণ্যের ধরন পরিবর্তন করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পণ্য পরিবহনকারী চালক ও জাতীয় পরিচয়পত্রধারী ব্যক্তি একই হতে হবে। সরবরাহের সময় পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে সাবকন্ট্রাক্ট বা উপঠিকাদারি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে।
এছাড়া সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতি মাসে অন্তত দুবার আকস্মিক কারখানা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মিড-ডে মিল কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে আলাদা তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশও দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
আরও পড়ুন- ২০২৮ সালে আসছে প্রাথমিকের নতুন কারিকুলাম, জানালেন প্রতিমন্ত্রী










