বাংলাদেশে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে নতুন শুল্ক কাঠামো অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন। এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকরা তুলনামূলক কম দামে বেশি গতির ইন্টারনেট সুবিধা পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংস্থাটির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন ট্যারিফ পরিকল্পনার বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারের ঘোষিত ‘এক দেশ, এক রেট’ নীতিমালার আলোকে এই নতুন মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে দেশের সব অঞ্চলে একই দামে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন-মোবাইল ডাটার মেয়াদ আনলিমিটেড করার উদ্যোগ সরকারের
নতুন কাঠামো অনুযায়ী ৫ এমবিপিএস থেকে ৪০ এমবিপিএস পর্যন্ত ব্যান্ডউইডথের আনুপাতিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকাতেই গ্রাহকরা সমান সুবিধা পাবেন, যা ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নির্দিষ্ট শর্তে সেবার মান নিশ্চিত করার মাধ্যমে Sam Online-কে ৩০ এমবিপিএস থেকে ২৫০ এমবিপিএস পর্যন্ত বিভিন্ন প্যাকেজ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের ইন্টারনেট সেবার মান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন ট্যারিফ তালিকা অনুযায়ী, ৩০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ মাসিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা, ১০০ এমবিপিএসের জন্য ১০০০ টাকা এবং ২৫০ এমবিপিএস প্যাকেজের জন্য ৩০০০ টাকা। এই মূল্য নির্ধারণের ফলে উচ্চগতির ইন্টারনেট এখন আরও বেশি মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, নতুন নীতিমালায় সংযোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শেয়ারড কন্টেনশন রেশিও ১:৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট ব্যান্ডউইডথ একসঙ্গে সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর মধ্যে ভাগ করা হবে, যাতে ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন মূল্য কাঠামো বাস্তবায়িত হলে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন শিক্ষা, স্ট্রিমিং ও ই-কমার্স খাত আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট সহজলভ্য হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে তারা আরও সতর্ক করে বলেন, শুধু মূল্য নির্ধারণই যথেষ্ট নয়—সেবার মান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি নির্ধারিত গতির সেবা বাস্তবে গ্রাহকরা না পান, তাহলে এই উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।
সামগ্রিকভাবে, নতুন এই ব্রডব্যান্ড ট্যারিফ পরিকল্পনা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে।
সূত্র-বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) প্রকাশিত অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে সংকলিত।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে সরকারি উদ্যোগে চালু হওয়া BTCL GPON ইন্টারনেটের সুবিধাসমূহ
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









