দেশে মোটরসাইকেল নিবন্ধনের সময় অনেক মালিকই ১০ বছরের জন্য এককালীন ট্যাক্স টোকেন ফি পরিশোধ করে থাকেন। এতে দীর্ঘদিন ঝামেলা ছাড়াই বৈধভাবে গাড়ি চালানো যায়। তবে এই ১০ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কীভাবে ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করতে হবে—তা নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়েন। বাস্তবে প্রক্রিয়াটি খুব জটিল নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করলেই সহজে নবায়ন করা যায়।
আরও পড়ুন-বাইকের ট্রাস্টি বোর্ড সার্টিফিকেট অনলাইনে ডাউনলোডের নিয়ম
বাংলাদেশে যানবাহনের ট্যাক্স টোকেন সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তাই বাইকের ১০ বছরের ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের জন্য বিআরটিএর নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
প্রথমেই জানতে হবে—১০ বছরের ট্যাক্স টোকেন শেষ হওয়ার পর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয় না। অর্থাৎ মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে ট্যাক্স টোকেন নিতে হবে। অনেকেই মনে করেন একবার ১০ বছরের জন্য পরিশোধ করলে আবার নতুন করে কিছু করার দরকার নেই, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
মেয়াদ শেষ হলে বাইক মালিককে প্রথমে নিজের গাড়ির কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (স্মার্ট কার্ড), আগের ট্যাক্স টোকেন এবং ফিটনেস (যদি প্রযোজ্য হয়)। এরপর নিকটস্থ বিআরটিএ অফিসে যেতে হবে অথবা অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
নবায়ন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়। সাধারণত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ১ বছর বা একাধিক বছরের জন্য ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করা যায়। তবে ১০ বছরের মতো দীর্ঘ মেয়াদের জন্য একসাথে নবায়নের সুযোগ সাধারণত দেওয়া হয় না, বরং নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী নবায়ন করতে হয়।
ফি জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংক চালান বা অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে বিআরটিএ নির্ধারিত ব্যাংকে গিয়ে ফি জমা দিতে হয়। ফি জমা দেওয়ার পর রশিদ সংগ্রহ করতে হবে, যা পরবর্তী ধাপে প্রয়োজন হবে।
এরপর আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই ডিজিটাল সিস্টেম চালু হওয়ায় অনলাইনে ফরম পূরণ করার সুযোগ রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে। সাধারণত যেসব কাগজ লাগে—
- গাড়ির রেজিস্ট্রেশন কপি
- আগের ট্যাক্স টোকেন
- জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কপি
- ফি জমার রশিদ
সব তথ্য সঠিকভাবে জমা দিলে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করে নতুন ট্যাক্স টোকেন ইস্যু করে। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টোকেন সংগ্রহ করতে বলা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। কারণ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেরি হলে জরিমানা (লেট ফি) দিতে হতে পারে। তাই ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ কখন শেষ হচ্ছে তা আগেই দেখে রাখা উচিত।
এছাড়া অনেক সময় দেখা যায়, ১০ বছরের ট্যাক্স টোকেন নেওয়া থাকলেও অনলাইনে সেটি দেখা যায় না। এর কারণ হলো—পুরনো ডাটাবেস থেকে সব তথ্য এখনো ডিজিটাল সিস্টেমে আপডেট হয়নি। তাই অনলাইনে না দেখালেও কাগজপত্র থাকলে তা বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে নবায়নের সময় এসব তথ্য আপডেট হয়ে যায়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন হয়ে থাকলে বা কোনো তথ্য পরিবর্তন থাকলে আগে তা সংশোধন করতে হবে। অন্যথায় নবায়ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাইকের ১০ বছরের ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বিআরটিএ অফিসে যোগাযোগ করে বা অনলাইনে আবেদন করে সহজেই এটি নবায়ন করা সম্ভব।
সচেতনতা ও সঠিক তথ্য থাকলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি খুব সহজ হয়ে যায়। তাই সময়মতো নবায়ন করে বৈধভাবে গাড়ি চালানোই একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকালে জরিমানা কত?
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









