দেশের পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের সব বিমানবন্দর ও দূরপাল্লার ট্রেনে ধাপে ধাপে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
আরও পড়ুন-সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে ফ্রি ওয়াই-ফাই, ৬ মাসে বড় উদ্যোগ সরকারের
শনিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে আধুনিক ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্যেই পরিবহন ও পর্যটন খাতকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের চারটি ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে, যার মধ্যে দুটি ট্রেন কক্সবাজার রুটে চলাচল করছে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে দেশের সব দূরপাল্লার ট্রেনে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে দেশের সব বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোতেও বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা চালুর কাজ চলছে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতেও ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এতে রোগী ও তাদের স্বজনরা সহজে অনলাইন সেবা ব্যবহার করতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যটন খাতকে আরও আকর্ষণীয় করতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে এবং বিনিয়োগের সুযোগও বাড়বে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, পর্যটকদের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ এবং পর্যটন এলাকাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। এসব বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে এই উদ্যোগের সুফল আরও বেশি পাওয়া যাবে।
সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান। এতে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা প্রদান, জরুরি যোগাযোগ এবং জলদস্যুতা প্রতিরোধে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সভায় প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার নিয়েও আলোচনা হয়। উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহেন আসিফ আসাদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খানসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় বিটিসিএলের ইন্টারনেট সেবা নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়ও উঠে আসে। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্টরা।
পরে মন্ত্রী কক্সবাজার সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশন এবং কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই জোনের উদ্বোধন করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দেশের পরিবহন ও পর্যটন খাতে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ডিজিটাল সেবার বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে এটি পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালু: দাম, স্পিড, সুবিধা
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










