আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

১৫ টাকায় চাল পাচ্ছে ৫৫ লাখ পরিবার, খাদ্য নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ

April 6, 2026 7:53 PM
১৫ টাকায় চাল পাচ্ছে ৫৫ লাখ পরিবার

দেশের নিম্ন আয়ের ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রেখেছে, যার মধ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অন্যতম। এই কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে সারা দেশে লাখ লাখ পরিবার স্বল্পমূল্যে চাল পাচ্ছে, যা বাজারের উচ্চমূল্যের চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় প্রায় ৫৫ লাখ পরিবার প্রতি মাসে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে চাল পাচ্ছে। বছরে মোট ৬ মাস—আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং মার্চ ও এপ্রিল মাসে—প্রতি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন-৪ বছরে ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড পাবে সব পরিবার

তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এই কর্মসূচিতে মোট ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দেশের খাদ্য সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইতোমধ্যে চলতি বছরের ১৯ মার্চ পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় ৭.৯৩ লাখ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

সরকার শুধু স্বল্পমূল্যে চাল বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং পুষ্টি নিশ্চিত করতেও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই কর্মসূচির আওতায় দেশের ২৪৮টি উপজেলায় ৩.৭ লাখ মেট্রিক টন পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এই চালের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, বি-১, বি-১২, বি-৯ (ফলিক অ্যাসিড), আয়রন ও জিংক—যা মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে বাজারে চাল ও আটা’র দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রম জোরদার করেছে। এর আওতায় দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ১৪টি শ্রমঘন জেলা এবং ৫২টি জেলা সদর পৌরসভায় মোট ১ হাজার ৯১টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

এই কার্যক্রমে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং ২ কেজি প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৮৫ মেট্রিক টন চাল এবং ১ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন আটা বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

এছাড়াও চালের দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেশের ৪১৮টি উপজেলায় ৮৩৬টি বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন ৪০৬ মেট্রিক টন চাল ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওএমএস খাতে ৩ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ৫ লাখ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ খাদ্যপণ্য বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে, যা সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নির্দেশ করে।

এদিকে Trading Corporation of Bangladesh (টিসিবি)-এর মাধ্যমে আরও বৃহৎ পরিসরে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে টিসিবির মাধ্যমে ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭টি পরিবারের কাছে প্রতি মাসে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এই ধরনের ভর্তুকিমূল্যের কর্মসূচি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সহায়ক।

সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বল্পমূল্যে চাল বিতরণ, পুষ্টিচাল সরবরাহ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম—এই তিনটি উদ্যোগ একসাথে দেশের খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও মানবিক করে তুলছে।

আরও পড়ুন-ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now