মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সহজ হলো প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন, জানুন পুরো নিয়ম

প্রকাশিত: শনিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৩, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সহজ হলো প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন, জানুন পুরো নিয়ম

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন করার উপায়

৪২৪

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন আর প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা তুলতে ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় না। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই বা নিকটস্থ এজেন্ট পয়েন্ট থেকে সহজে ভাতা উত্তোলন করা যাচ্ছে। ফলে উপকারভোগীদের ভোগান্তি যেমন কমেছে, তেমনি সেবার গতি ও স্বচ্ছতাও বেড়েছে।

আরও পড়ুন-এখন থেকে সরাসরি বিকাশ থেকে নগদে টাকা পাঠানো যাবে

সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিকাশ, নগদ, রকেট (ডাচ-বাংলা ব্যাংক) এবং শিওর ক্যাশের মাধ্যমে সরকারি ভাতা সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সফলতা দেখিয়েছে, যার ফলে ধীরে ধীরে এটি দেশের সব এলাকায় সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

আগে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক বা বিধবা ভাতা তুলতে নির্দিষ্ট ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। এখন সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। মোবাইল ব্যাংকিং চালুর ফলে উপকারভোগীরা সহজেই তাদের প্রাপ্য অর্থ পেতে পারছেন।

মোবাইল ব্যাংকিং মূলত এমন একটি আর্থিক সেবা, যার মাধ্যমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে টাকা লেনদেন, ব্যালেন্স চেক, বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন কাজ করা যায়। এতে করে ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না এবং সময় ও শ্রম—দুটোই সাশ্রয় হয়।

প্রতিবন্ধী ভাতা হলো সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে শারীরিক, মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই ভাতার মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা সহায়তা পাওয়া যায়।

বর্তমানে এই ভাতার টাকা সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এজন্য ভাতা গ্রহণকারী ব্যক্তির একটি সক্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক। বিকাশ, নগদ, রকেট বা শিওর ক্যাশ—যেকোনো একটি অ্যাকাউন্ট থাকলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

সরকার যখন ভাতার টাকা প্রদান করে, তখন উপকারভোগীর মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস নোটিফিকেশন পাঠানো হয়। এই বার্তা পাওয়ার পর নিকটবর্তী এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে সহজেই টাকা উত্তোলন করা যায়।

প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা মোবাইলে এসেছে কি না, তা যাচাই করাও খুব সহজ। নগদ ব্যবহারকারীরা *১৬৭# ডায়াল করে ‘Balance Inquiry’ অপশনে গিয়ে ব্যালেন্স দেখতে পারেন। একইভাবে বিকাশ ব্যবহারকারীরা *২৪৭# ডায়াল করে ‘My bKash’ অপশনে গিয়ে ব্যালেন্স চেক করতে পারবেন।

অন্যদিকে রকেট ব্যবহারকারীরা *৩২২# ডায়াল করে ‘My Account’ অপশনে গিয়ে পিন নম্বর দিয়ে ব্যালেন্স দেখতে পারেন। এই সহজ পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে যে কেউ ঘরে বসেই তার ভাতার টাকা এসেছে কি না তা নিশ্চিত হতে পারেন।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকারভোগীরা শুধু টাকা তুলতেই নয়, বরং আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও আরও সচেতন হচ্ছেন। কারণ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের মাধ্যমে তারা সহজেই লেনদেনের হিসাব রাখতে পারছেন।

প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা। পাশাপাশি তাদের পরিবারকে সহায়তা করা, চিকিৎসা ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা এবং সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা প্রদান ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও মধ্যস্থতাকারীর সুযোগ কমেছে। একই সঙ্গে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে দ্রুত এবং নিরাপদে অর্থ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।

তবে এই সুবিধা নিতে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন—মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট অবশ্যই নিজের নামে হতে হবে এবং পিন নম্বর গোপন রাখতে হবে। কোনো সন্দেহজনক ফোন কল বা প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

সব মিলিয়ে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান ব্যবস্থা দেশের সামাজিক নিরাপত্তা খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এটি শুধু ভাতা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সহজ করেনি, বরং উপকারভোগীদের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুন-বিকাশ-নগদ-রকেট লেনদেনে হাজারে কাটবে মাত্র ১.৫০ টাকা

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page