জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড একজন বাংলাদেশি নাগরিকের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্রগুলোর একটি। ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট করা, সরকারি ভাতা গ্রহণ, চাকরির আবেদন কিংবা জমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজে এনআইডি কার্ড অপরিহার্য। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্ড যদি হারিয়ে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।
তবে এখন আর এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে এনআইডি কার্ড পুনরায় পাওয়ার আবেদন (Reissue) করা যায়। এই প্রতিবেদনে এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে ঠিক কী করতে হবে, কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন, কী কী লাগবে, কত টাকা খরচ হবে এবং কিভাবে হাতে পাবেন—সবকিছু বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম আপডেট গাইড
এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে প্রথম করণীয়
এনআইডি কার্ড হারানোর পর দেরি না করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এগুলো ভবিষ্যতের ঝামেলা কমাতে সাহায্য করে।
-
নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
-
জিডিতে এনআইডি কার্ড হারানোর তারিখ ও পরিস্থিতি উল্লেখ করতে হবে।
-
জিডি নম্বর, তারিখ ও থানার নাম লিখে রাখতে হবে।
-
যদি এনআইডির ফটোকপি বা ছবি থাকে, তা সংরক্ষণ করা ভালো।
-
এনআইডি নম্বর জানা থাকলে অনলাইন আবেদন সহজ হয়।
এই ধাপটি সম্পন্ন করলেই অনলাইন আবেদনের জন্য আপনি প্রস্তুত।
এনআইডি কার্ড পুনরায় পাওয়ার অনলাইন ব্যবস্থা কী
এনআইডি কার্ড পুনরায় পাওয়ার অনলাইন ব্যবস্থাকে সাধারণভাবে রিইস্যু (Reissue) বলা হয়। এর মাধ্যমে হারানো, নষ্ট বা নষ্ট হয়ে যাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের পরিবর্তে নতুন কার্ড পাওয়ার আবেদন করা যায়।
এই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি ডিজিটাল হওয়ায় নাগরিককে আর বারবার নির্বাচন অফিসে যেতে হয় না। প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র অনলাইনে জমা দিয়েই আবেদন সম্পন্ন করা যায়।
ধাপ ১ অনলাইন সিস্টেমে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা
যারা আগে কখনো অনলাইনে এনআইডি সেবা ব্যবহার করেননি, তাদের প্রথমেই একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
-
নিজের এনআইডি নম্বর দিতে হবে।
-
জন্ম তারিখ লিখতে হবে।
-
একটি সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে।
-
নিজের পছন্দ অনুযায়ী পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে।
অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে সেই এনআইডি নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে।
ধাপ ২ লগইন করে প্রোফাইলে প্রবেশ করা
লগইন সফল হলে নাগরিকের ব্যক্তিগত প্রোফাইল বা ড্যাশবোর্ড খুলবে। এখান থেকেই এনআইডি সংক্রান্ত সব ধরনের আবেদন ও সেবা নেওয়া যায়।
প্রোফাইলে নিজের নাম, জন্ম তারিখ ও অন্যান্য তথ্য দেখা যাবে। সব তথ্য ঠিক আছে কি না একবার দেখে নেওয়া ভালো।
ধাপ ৩ রিইস্যু অপশন নির্বাচন করা
প্রোফাইলের মেনুতে রিইস্যু নামে একটি অপশন থাকে। এই অপশনে ক্লিক করলেই এনআইডি কার্ড পুনরায় পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
রিইস্যু নির্বাচন করার পর সিস্টেম আপনাকে জানাবে যে এই সেবার জন্য নির্দিষ্ট ফি প্রযোজ্য।
ধাপ ৪ রিইস্যু আবেদন সম্পন্ন করার চারটি ধাপ
রিইস্যু আবেদন সাধারণত চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি ধাপ খুব গুরুত্ব দিয়ে পূরণ করতে হয়।
১. তথ্য এডিট ধাপ
এই ধাপে হারানোর তথ্য দিতে হয়।
-
পুনর্মুদ্রণের কারণ হিসেবে হারানো বা চুরি নির্বাচন করতে হবে।
-
থানার নাম লিখতে হবে।
-
জিডি নম্বর দিতে হবে।
-
জিডির তারিখ দিতে হবে।
-
পুলিশ কর্মকর্তার নাম ও পদবি লিখতে হবে।
এই তথ্যগুলো অবশ্যই থানার জিডির সঙ্গে মিল থাকতে হবে।
২. ট্রানজেকশন ধাপ
রিইস্যু আবেদন করতে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়।
-
ফি পরিশোধের মাধ্যম নির্বাচন করতে হবে।
-
পেমেন্ট করার পর ট্রানজেকশন নম্বর লিখতে হবে।
-
পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
ভুল ট্রানজেকশন নম্বর দিলে আবেদন স্থগিত হয়ে যেতে পারে।
৩. কাগজপত্র আপলোড ধাপ
এই ধাপে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হয়।
-
থানায় করা জিডির স্ক্যান কপি।
-
পুরনো এনআইডির কপি (যদি থাকে)।
-
আবেদনকারীর স্বাক্ষর।
সব কাগজপত্র পরিষ্কার ও পড়ার উপযোগী হতে হবে।
৪. নিশ্চিতকরণ ধাপ
সব তথ্য ও কাগজপত্র একবার দেখিয়ে নিশ্চিত করতে বলা হয়।
-
সব তথ্য সঠিক হলে সাবমিট করতে হবে।
-
সাবমিট করার পর একটি আবেদন নম্বর পাওয়া যায়।
-
এই নম্বরটি সংরক্ষণ করে রাখা জরুরি।
এনআইডি রিইস্যু করতে কত টাকা লাগে
এনআইডি কার্ড পুনরায় পাওয়ার ক্ষেত্রে ফি নির্ভর করে আবেদনের ধরন ও সময়ের ওপর।
-
সাধারণ ডেলিভারির ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ফি লাগে।
-
দ্রুত ডেলিভারির ক্ষেত্রে ফি কিছুটা বেশি হতে পারে।
-
ফি সরকার নির্ধারিত এবং সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।
আবেদনের সময় সিস্টেম নিজেই প্রযোজ্য ফি দেখিয়ে দেয়।
আবেদন করার পর কী হয়
আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর আবেদনটি যাচাই করে।
-
জিডি ও তথ্য যাচাই করা হয়।
-
সবকিছু ঠিক থাকলে আবেদন অনুমোদন হয়।
-
কার্ড প্রস্তুত হলে নির্দিষ্ট নির্বাচন অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
কিছু ক্ষেত্রে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়।
এনআইডি কার্ড হাতে পাওয়ার প্রক্রিয়া
এনআইডি কার্ড সাধারণত—
-
সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
-
কার্ড নিতে গেলে আবেদন নম্বর ও পরিচয় যাচাই করা হয়।
-
প্রয়োজন হলে স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ দেওয়া লাগে।
সব যাচাই শেষে নতুন এনআইডি কার্ড প্রদান করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
এনআইডি রিইস্যু করার সময় কিছু বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি।
-
ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
-
একাধিক এনআইডি কার্ড রাখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
-
কোনো দালালের সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
-
পাসওয়ার্ড ও ওটিপি কাউকে জানানো যাবে না।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: এনআইডি হারালে জিডি করা বাধ্যতামূলক কি?
উত্তর: হ্যাঁ, হারানো এনআইডির ক্ষেত্রে জিডি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: অনলাইনে আবেদন করলে কতদিনে কার্ড পাওয়া যায়?
উত্তর: সময় নির্ভর করে যাচাই ও ডেলিভারির ধরনের ওপর।
প্রশ্ন: এনআইডি নম্বর না জানলে আবেদন করা যাবে কি?
উত্তর: স্থানীয় নির্বাচন অফিস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আবেদন করা যায়।
উপসংহার
এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিক নিয়মে জিডি করে অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে রিইস্যু আবেদন করলে খুব সহজেই নতুন কার্ড পাওয়া সম্ভব। ডিজিটাল এই ব্যবস্থার ফলে নাগরিকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। নিয়ম মেনে, সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করলেই এনআইডি কার্ড পুনরায় হাতে পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়া সহজ হয়ে যায়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-এখন আর থানায় জিডি নয়! হারানো NID অনলাইনে পাবেন সহজেই
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









