দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চিকিৎসা ব্যয়, বিশেষ করে ওষুধের অতিরিক্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ২৯৫টি ওষুধকে ‘জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা’তে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এসব ওষুধের দাম এখন থেকে সরাসরি সরকার নির্ধারণ করবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
আরও পড়ুন-রোগ অনুযায়ী কোন ডাক্তার দেখাবেন?
📌 কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে একজন রোগীর মোট চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৬৫–৭০ শতাংশই ব্যয় হয় ওষুধ কিনতে। সরকারি হাসপাতালেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে রোগীদের বাইরে থেকে উচ্চ দামে ওষুধ কিনতে হয়। অন্যদিকে উন্নত দেশগুলোতে স্বাস্থ্য বীমা বা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এই ব্যয় অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত থাকলেও, বাংলাদেশে এখনো সে ধরনের কাঠামো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।
এই বাস্তবতায় ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছিল।
🏛️ কোথায় ও কবে এই ঘোষণা আসে?
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদের সভায়
👉 জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা
👉 ওষুধের মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত নতুন গাইডলাইন
অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
🧾 ১৯৮২ সালের পর বড় পরিবর্তন
ডা. সায়েদুর রহমান বলেন,
“১৯৮২ সালের ওষুধ নীতির পর দীর্ঘ সময় ধরে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা কার্যত অপরিবর্তিত ছিল। অথচ বাজারে ওষুধের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০০-এর বেশি, যার অনেকগুলোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।”
আগে যেখানে মাত্র ১১৭টি ওষুধ অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় ছিল, সেখানে এবার
✔️ পুরোনো ওষুধ +
✔️ নতুন করে যুক্ত ১৩৬টি ওষুধসহ
➡️ মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি।
💊 ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ’ বলতে কী বোঝায়?
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ বলতে বোঝানো হয়—
-
যেগুলো সাধারণ ও গুরুতর রোগের চিকিৎসায় নিয়মিত প্রয়োজন
-
বিকল্প নেই বা সীমিত
-
জনস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য
যেমন—
✔️ জ্বর, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ
✔️ সংক্রমণ, হৃদরোগ
✔️ মা ও শিশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ
এই তালিকাভুক্ত ওষুধগুলোর মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে এবং সেই মূল্যের বেশি দামে বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় হবে।
⚖️ ওষুধ ব্যবসায়ীদের জন্য কী নির্দেশনা?
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়—
-
যারা বর্তমানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছেন।
-
তাদের পর্যায়ক্রমে সরকারি মূল্যে নামিয়ে আনতে হবে.
-
নিয়ম না মানলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর মাধ্যমে বাজারে অরাজক মূল্য নির্ধারণ বন্ধ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
👥 সাধারণ মানুষের জন্য কী সুবিধা আসবে?
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে—
✅ ওষুধের দাম কমবে।
✅ চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আসবে।
✅ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশ সহজ হবে।
✅ চিকিৎসা নিতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
✅ জনস্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে স্বাস্থ্যখাতে একটি বড় সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হবে।
📰 কারা উপস্থিত ছিলেন?
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—
-
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
-
উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ।
-
সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
🔍 বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে—
-
নিয়মিত বাজার তদারকি।
-
ওষুধ কোম্পানি ও ফার্মেসিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি।
-
ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি।
এই তিনটি বিষয়ের দিকে গুরুত্ব না দিলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
✍️ উপসংহার
চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকার যে ২৯৫টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে জনস্বার্থে একটি সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের কোটি মানুষের।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা ফোন নাম্বার ও ঠিকানা(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


