দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাজশাহীর তিনটি কারখানা পুনরায় চালু করে নতুন কর্মসংস্থানের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে PRAN-RFL Group। গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, যাদের বড় একটি অংশ নারী শ্রমিক।
পুনরায় চালু হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রাজশাহী টেক্সটাইল মিল, রাজশাহী জুট মিল এবং একটি বেসরকারি শিল্পকারখানা।
আরও পড়ুন- বয়সসীমা ছাড়াই মেঘনা গ্রুপে চাকরি, আবেদন চলবে ২৩ মে পর্যন্ত
বর্তমানে এসব কারখানায় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারের জন্য নন-লেদার জুতা, ব্যাগ, ট্রলি, তাঁবু, ছাতা ও বিভিন্ন চামড়াজাত বিকল্প পণ্য তৈরি হচ্ছে।
প্রাণ-আরএফএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরে এই কর্মসংস্থানের সংখ্যা আরও দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজশাহীর বানেশ্বর এলাকার বাসিন্দা সানজিদা আক্তার আগে সাভারের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সন্তান ও পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্টে একসময় চাকরি ছেড়ে রাজশাহীতে ফিরে আসেন। পরে পুনরায় চালু হওয়া কারখানায় চাকরি পেয়ে আবার নতুনভাবে জীবন শুরু করেন।
তিনি বলেন, “বাড়ির কাছেই চাকরি পাওয়ায় এখন পরিবার ও সন্তানের দেখাশোনার পাশাপাশি আয়ও করতে পারছি।”
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান পাবা উপজেলার স্বপ্না খাতুনও। আগে গাজীপুরে কাজ করতে গিয়ে সন্তানকে বাড়িতে রেখে যেতে হতো। এখন স্থানীয়ভাবে কাজ পাওয়ায় পারিবারিক জীবন অনেক সহজ হয়েছে বলে জানান তিনি।
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী টেক্সটাইল মিল দীর্ঘ লোকসানের কারণে ২০০৩ সালে বন্ধ হয়ে যায়। দুই দশকের বেশি সময় অচল থাকার পর প্রাণ-আরএফএলের বিনিয়োগে কারখানাটি আবার উৎপাদনে ফিরেছে।
বর্তমানে এই কারখানাতেই প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কাজ করছেন।
প্রাণ-আরএফএল গত দুই বছরে জুতা ও লাগেজ শিল্পে প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। চলতি বছর আরও ২০০ কোটি টাকা এবং আগামী তিন বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৪৮ লাখ জোড়া জুতা উৎপাদন করা হচ্ছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন দেড় কোটি জোড়ায় উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১১৯ কোটি ডলারের জুতা রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে নন-লেদার জুতা থেকে এসেছে ৫২ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, বৈশ্বিক বাজারে বড় ক্রয়াদেশ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সময় লাগছে। তাই বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা দ্রুত সমাধান দিচ্ছে।
এদিকে রাজশাহী জুট মিলেও এখন তাঁবু ও ছাতা তৈরি হচ্ছে। পরীক্ষামূলক উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ছাতা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার বাইরে শিল্পায়ন বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং রাজধানীমুখী শ্রমিক নির্ভরতাও কমবে।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও সংশ্লিষ্ট শিল্প সূত্র
আরও পড়ুন- বিকাশে চাকরির সুযোগ, ৩১ মে পর্যন্ত আবেদন









