সরকারি বিভিন্ন সেবা এখন ধীরে ধীরে অনলাইনে চলে আসায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের নানা সনদ সংগ্রহে আগের মতো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো বা একাধিকবার অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন কমে এসেছে। ডিজিটাল সেবার এই ধারাবাহিকতায় এবার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য সনদ আবেদন প্রক্রিয়াও অনলাইনে চালু হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করতে পারছেন।
আরও পড়ুন-ভুলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাসায় রেখে আসলে জরিমানা দিতে হবে কিনা?
সম্প্রতি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভূমিহীন সনদ আবেদন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে নাগরিকরা নির্ধারিত ফরম পূরণ করে সহজেই আবেদন করতে পারবেন। এতে আবেদনকারীর নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পিতা বা স্বামীর নাম, মাতার নাম, গ্রাম বা মহল্লার নাম, ওয়ার্ড এবং ঠিকানাসহ বিভিন্ন তথ্য যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর ছবি এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রও অনলাইনে আপলোড করা যাবে।
ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রথমে ই-প্রত্যয়ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: e-Prottoyon Online Service
ধাপ ২: আবেদন ফরম পূরণ করুন
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর আবেদনকারীর নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পিতা/স্বামীর নাম, মাতার নাম, গ্রাম/মহল্লা, ওয়ার্ড ও ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ করুন।
ধাপ ৩: বিভাগ ও ইউনিয়ন নির্বাচন করুন
নিজের বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করুন। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে, তাই সতর্কভাবে তথ্য দিন।
ধাপ ৪: ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করুন
নির্ধারিত সাইজ অনুযায়ী আবেদনকারীর ছবি এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। সাধারণত এনআইডি বা অন্যান্য প্রমাণপত্র লাগতে পারে।
ধাপ ৫: আবেদন সাবমিট করুন
সব তথ্য পূরণ করার পর নিচের সম্মতিপত্রে টিক চিহ্ন দিয়ে “সংরক্ষণ করুন” বা সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৬: পেমেন্ট করুন
আবেদন গ্রহণের পর নির্ধারিত ফি থাকলে তা মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে পেমেন্টের সুবিধা থাকে।
ধাপ ৭: আবেদন যাচাই প্রক্রিয়া
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করবে। তথ্য সঠিক থাকলে আবেদন অনুমোদন করা হবে।
ধাপ ৮: সনদ সংগ্রহ করুন
আবেদন অনুমোদনের পর অনলাইনে ডাউনলোড করে প্রিন্ট নেওয়া যাবে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হার্ড কপি সংগ্রহ করা যাবে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন চালুর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে দালাল নির্ভরতা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগে অনেক মানুষ সঠিক তথ্য বা প্রক্রিয়া না জানার কারণে বিভিন্ন ভোগান্তির শিকার হতেন। এখন অনলাইনে আবেদন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে সেবা পাওয়া সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিহীন বা গৃহহীন সনদ দেশের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, পুনর্বাসন প্রকল্প এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক সময় সরকারি আবাসন প্রকল্প, ভিজিএফ, ভিজিডি কিংবা পুনর্বাসন সুবিধা পেতে এই ধরনের সনদ প্রয়োজন হয়। তাই আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় উপকার পাবেন নিম্নআয়ের মানুষ ও প্রকৃত সুবিধাভোগীরা।
ওয়েবসাইটে আবেদন করার সময় আবেদনকারীকে বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন নির্বাচন করতে হয়। এরপর নির্ধারিত তথ্য পূরণ করে ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হয়। আবেদন সম্পন্ন হলে তা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা কর্তৃপক্ষ যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে ই-গভর্নেন্স বা ডিজিটাল সরকারি সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে নানা সরকারি সেবা গ্রহণে আগ্রহ বাড়ছে। ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নাগরিক সেবা স্থানান্তর করলে সময় ও খরচ দুইই কমে আসে।
তবে অনলাইনে আবেদন করার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। আবেদন ফরমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রদত্ত তথ্য অসত্য প্রমাণিত হলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। তাই আবেদনকারীদের সতর্কতার সঙ্গে তথ্য পূরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ডিজিটাল আবেদন ব্যবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি ও অন্যান্য নথি অনলাইনে সংরক্ষিত হওয়ায় তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানোও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
বর্তমানে দেশে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সনদ অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ নানা সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ায় সরকারি অফিসে চাপও কিছুটা কমেছে। ভূমিহীন সনদ আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে চালু হওয়ায় সেই তালিকায় নতুন একটি সেবা যুক্ত হলো।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি সরকারি সেবা অনলাইনে যুক্ত হলে সাধারণ মানুষ দ্রুত এবং সহজ উপায়ে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম জোরদার হলে গ্রামাঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।
সব মিলিয়ে অনলাইনে ভূমিহীন সনদ আবেদন চালু হওয়ায় নাগরিক সেবায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে যেমন সময় সাশ্রয় হবে, তেমনি কমবে হয়রানি ও অতিরিক্ত খরচ। ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র:ই-প্রত্যয়ন অনলাইন সেবা প্ল্যাটফর্ম ও আবেদন ফরমের তথ্য
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-নতুন ভোটার প্রত্যয়ন অনলাইন আবেদন করার নিয়ম আপডেট










