বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কলেজশিক্ষার্থী ওয়াকিমুল ইসলামের তৈরি ‘এ টু আই স্মার্ট কার’ এখন পুরো দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, এই ছোট ব্যাটারিচালিত স্মার্ট কারে চড়েই তরুণ উদ্ভাবককে উৎসাহ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের প্রশ্ন—এই গাড়িটি আসলে কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, এতে কী কী প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে এবং পুরো গাড়ি বানাতে কত টাকা খরচ হয়েছে?
আরও পড়ুন-ইলেকট্রিক সাইটসিয়িং বাস শহরে, পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের নতুন সমাধান
শনিবার (৯ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে ওয়াকিমুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ওয়াকিমুল নিজের তৈরি স্মার্ট কারটি দেখান এবং পরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গাড়িটি চালিয়েও দেখান। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ব্যাটারিচালিত বাহনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এ টু আই স্মার্ট কার’।
যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াকিমুল ইসলাম মূলত নিজের চলাচলের সুবিধার জন্য এই গাড়ি তৈরি করেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় দীর্ঘদিন তিনি স্বাভাবিকভাবে বাইরে চলাফেরা করতে পারতেন না। সেই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই শুরু হয় তার উদ্ভাবনের যাত্রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকিমুলের তৈরি স্মার্ট কারে মূলত ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক মোটর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িটির কাঠামো তৈরি করা হয়েছে হালকা লোহার ফ্রেম ও স্টিল বডির সমন্বয়ে। এতে একটি ডিসি মোটর, রিচার্জেবল ব্যাটারি, কন্ট্রোল সার্কিট, ব্রেকিং সিস্টেম এবং স্টিয়ারিং কন্ট্রোল যুক্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের স্মার্ট কার তৈরিতে সাধারণত যে যন্ত্রাংশগুলো লাগে তার মধ্যে রয়েছে—
- উচ্চক্ষমতার ডিসি মোটর।
- রিচার্জেবল লিথিয়াম বা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি।
- মোটর কন্ট্রোলার।
- চার্জিং ইউনিট।
- স্টিয়ারিং ও ব্রেক সিস্টেম।
- লাইট ও সিগন্যাল সিস্টেম।
- লোহার বা স্টিলের ফ্রেম।
- চাকা ও সাসপেনশন ব্যবস্থা।
- ডিজিটাল সুইচিং বা কন্ট্রোল প্যানেল।
ওয়াকিমুলের স্মার্ট কারটি একবার চার্জ দিলে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেস) নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার।
তবে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে গাড়িটির খরচ নিয়ে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকিমুল ইসলাম মোট খরচের নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করেননি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন স্থানীয় বাজার থেকে যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে এই ধরনের একটি ব্যাটারিচালিত স্মার্ট কার তৈরি করতে প্রায় ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে খরচ হতে পারে। ব্যবহৃত ব্যাটারি, মোটরের ক্ষমতা এবং কাস্টম ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি প্রযুক্তির পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য যন্ত্রাংশ ব্যবহার করায় গাড়িটির খরচ তুলনামূলকভাবে কম রাখা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ওয়াকিমুল নিজেই অনেক কাজ হাতে-কলমে করেছেন, যা খরচ আরও কমিয়েছে।
দেশে বর্তমানে ইলেকট্রিক যানবাহনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত বাইক, ই-রিকশা ও ছোট স্মার্ট ভেহিকলের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে তরুণদের আগ্রহও বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় ওয়াকিমুল ইসলামের উদ্ভাবনকে অনেকে ‘বাংলাদেশি লোকাল ইনোভেশন’-এর অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ওয়াকিমুলের উদ্ভাবনী চিন্তার প্রশংসা করে তাকে আরও আধুনিক ও কম খরচে ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন।
ওয়াকিমুল জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন সংস্করণের স্মার্ট কার তৈরি করতে চান। সেখানে জিপিএস ট্র্যাকিং, অটোমেটিক ব্রেকিং, ভয়েস কন্ট্রোল এবং স্মার্ট ডিসপ্লে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়াও বয়স্ক মানুষের চলাচলের উপযোগী করে গাড়িটি তৈরি করতে চান তিনি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে ওয়াকিমুলের মতো তরুণ উদ্ভাবকরা ভবিষ্যতে দেশীয় প্রযুক্তি শিল্পে বড় অবদান রাখতে পারবেন। বিশেষ করে কম খরচে পরিবেশবান্ধব ব্যক্তিগত যানবাহন তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ দেশের জন্য ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করছে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের তরুণদের স্থানীয় উদ্ভাবন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পাওয়ার সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন-ঢাকায় আসছে সাইকেল শেয়ারিং সেবা যানজট কমাতে নতুন উদ্যোগ
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









