দেশে বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে PayPal চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও গতিশীল করা এবং ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয়ের পথ সহজ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে পেপ্যালের কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিষয়টি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
আরও পড়ুন-কিশোরদের জন্য এআই চরিত্র বন্ধ করছে মেটা
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা পেপ্যাল চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। কারণ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সহজেই বিদেশ থেকে আয় করা অর্থ দেশে আনা যায়। বর্তমানে পেপ্যাল সরাসরি চালু না থাকায় অনেক ফ্রিল্যান্সারকে বিকল্প জটিল পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের লক্ষাধিক ফ্রিল্যান্সার সরাসরি আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস থেকে আয় করতে পারবেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন আরও সহজ হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আইটি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জন ফ্রিল্যান্সারকে এই আইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারদের একটি স্বীকৃত পরিচয় তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারি সুবিধা ও নীতিনির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক উদ্যোগ। Bangladesh Hi-Tech Park Authority-এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের মধ্যে ২ হাজার ৪০০ জনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া Bangladesh Computer Council আগামী পাঁচ বছরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ হাজার আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েটকে আইটিইই (Information Technology Engineers Examination) প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। একই সঙ্গে বিসিসির মাধ্যমে ৫ হাজার ২০ জন চাকরি প্রার্থী ও শিক্ষার্থীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, পাইথন প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালাইটিক্স ও সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই পরিকল্পনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৭০০ জনকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৮৩টি সরকারি সেবা অনলাইনে চালু করা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পেপ্যাল চালু হলে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতে একটি বড় পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করার সুযোগ আরও বাড়বে এবং বৈদেশিক আয়ের নতুন দ্বার উন্মুক্ত হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পেপ্যাল চালুর উদ্যোগ, ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড প্রদান এবং প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতির একটি নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।
সূত্র: জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত তথ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল।
আরও পড়ুন-বিটিসিএল চালু করছে .bd ও .বাংলা ডোমেইন রিসেলার সিস্টেম!
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









