বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হওয়ার ফলে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করে সহজে পাসপোর্ট করা যাচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকলেও সঠিক তথ্য জানা থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ ও ঝামেলামুক্ত।
আরও পড়ুন-১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?
নারীদের ই-পাসপোর্ট করতে হলে প্রথমেই অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হয়। এজন্য সরকারি ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করে সেটির প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করতে হবে। এই প্রিন্ট করা আবেদনপত্রই পাসপোর্ট অফিসে জমা দেওয়ার অন্যতম প্রধান ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর পাশাপাশি বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তারিখের একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিট প্রয়োজন হয়। অনলাইনে আবেদন করার সময়ই এই তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং সেটির প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখতে হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হলো জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি। ১৮ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি বৈধ ও অনলাইন ভেরিফাইড NID থাকতে হবে। পাসপোর্ট আবেদন করার সময় NID-এর মূল কপি এবং ফটোকপি উভয়ই জমা দিতে হয়। আবেদনপত্রে দেওয়া সব তথ্য অবশ্যই NID-এর সঙ্গে মিল থাকতে হবে, নইলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
যেসব নারী আগে পাসপোর্ট করেছেন এবং নতুন করে নবায়ন করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে পুরাতন পাসপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এটি যাচাই করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।
পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার পর ব্যাংক বা অনলাইন পেমেন্টের একটি রশিদ পাওয়া যায়, যা আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হয়। এই রশিদ ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হয় না।
বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যদি জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম উল্লেখ না থাকে বা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তাহলে কাবিননামা বা বিবাহ সনদ জমা দিতে হতে পারে। এতে করে পাসপোর্টে সঠিক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়।
চাকরিজীবী নারীদের জন্য কিছু অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। যেমন—সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে প্রতিষ্ঠান থেকে NOC (No Objection Certificate) এবং পেশাগত পরিচয়ের প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়।
বর্তমানে পাসপোর্টের জন্য আলাদা ছবি নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পাসপোর্ট অফিসেই সরাসরি ছবি, আঙুলের ছাপ ও আইরিস স্ক্যান নেওয়া হয়। ফলে আবেদনকারীকে শুধু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উপস্থিত থাকতে হয়।
পাসপোর্ট ফি নির্ভর করে মেয়াদ ও ডেলিভারির সময়ের ওপর। সাধারণভাবে ৫ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের জন্য নিয়মিত সময়ে প্রায় ৪,০২৫ টাকা, জরুরি ভিত্তিতে ৬,৩২৫ টাকা এবং এক্সপ্রেস সার্ভিসে ৮,৬২৫ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অন্যদিকে ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এই ফি আরও কিছুটা বেশি হয়ে থাকে।
১৮ বছরের নিচে মেয়েদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের পরিবর্তে জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করা হয় এবং সেই সঙ্গে বাবা-মায়ের NID তথ্যও প্রয়োজন হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পাসপোর্ট আবেদন করার সময় সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য ভুল থাকলেও আবেদন বাতিল বা বিলম্বিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, নারীদের ই-পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ ও ডিজিটাল হয়েছে। সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করলে খুব কম সময়েই পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব, যা দেশের ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থার একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন-অনলাইনে নিজের পাসপোর্ট চেক করার সহজ নিয়ম
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










