প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে মানুষের জীবনযাত্রা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি এর অপ্রত্যাশিত কিছু প্রভাবও সামনে আসছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে স্মার্টফোন ব্যবহারের বিষয়টি এখন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, অল্প বয়সে স্মার্টফোন হাতে পাওয়া শিশুদের মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুনঃ হঠাৎ ধাক্কা বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন বিক্রি কমতে পারে ৭% কেন বাড়ছে দাম
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৩ বছরের আগেই স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ পেলে তা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যকে স্থায়ীভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ আচরণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মপরিচয় গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
“জার্নাল অব হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যাপাবিলিটিজ” এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ১২ বছর বা তার কম বয়সে প্রথম স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করে, তাদের মধ্যে আত্মহানিমূলক চিন্তা, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। একই সঙ্গে তাদের আত্মমর্যাদা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।
বিশ্বের বৃহৎ মানসিক স্বাস্থ্য ডেটাবেইস “স্যাপিয়েন ল্যাবস” এর গবেষকেরা এক লাখের বেশি তরুণ-তরুণীর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, অল্প বয়সে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশের ফলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা পরবর্তী জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
গবেষণার পরিসংখ্যান আরও উদ্বেগ বাড়ায়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রায় ৫৬ শতাংশের হাতে স্মার্টফোন রয়েছে। যদিও বেশিরভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৩ বছরের নিচে ব্যবহার নিষিদ্ধ, বাস্তবে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না। ফলে শিশুরা খুব সহজেই অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল পরিবেশে প্রবেশ করছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও নিউরোসায়েন্টিস্টদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যালগরিদম শিশুদের সামনে এমন কনটেন্ট তুলে ধরে যা তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সামাজিক তুলনা, লাইক-কমেন্টের নির্ভরতা এবং ভার্চুয়াল স্বীকৃতির প্রতি আকর্ষণ শিশুদের আত্মপরিচয় গঠনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
গবেষণায় ব্যবহৃত “মাইন্ড হেলথ কোশেন্ট” স্কোর অনুযায়ী দেখা গেছে, যারা অল্প বয়সে স্মার্টফোন পেয়েছে, তাদের সামাজিক, আবেগীয় এবং জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও গভীর তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং আবেগের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। অন্যদিকে ছেলেদের মধ্যে দেখা যায় নিয়ন্ত্রণহীন আবেগ এবং নেতিবাচক আচরণের প্রবণতা বৃদ্ধি।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুদের মস্তিষ্ক তখনও বিকাশমান থাকে, তাই এই সময়ে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং অনিয়ন্ত্রিত কনটেন্ট তাদের চিন্তা-ভাবনা ও আচরণে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে। বাস্তব জীবনের সামাজিক যোগাযোগের পরিবর্তে ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় কাটানো তাদের বাস্তবতা উপলব্ধির ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবক ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছেন। সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার আগে তাদের মানসিক প্রস্তুতি, বয়স এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ১৩ বছরের নিচে স্মার্টফোন মালিকানা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ম বাস্তবায়নের কথাও বলা হচ্ছে। স্কুল পর্যায় থেকে প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার শেখানো এবং শিশুদের ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
এছাড়া অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরও চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বয়স যাচাই ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট ফিল্টারিং আরও কার্যকর করা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
প্রযুক্তিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না হলেও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে সচেতনতা, নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন- রোগের আগেই সংকেত এআই বলবে ৫ বছর আগে আপনার হার্ট কতটা ঝুঁকিতে
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








