সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ঘরে বসে নিজেই জন্ম নিবন্ধন করুন’—এমন নানা পোস্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে। আকর্ষণীয় এসব পোস্ট দেখে অনেকেই মনে করছেন, এখন আর ইউনিয়ন পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে না গিয়েই সম্পূর্ণ জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব। তবে বাস্তবতা ভিন্ন—এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
সাতক্ষীরার বল্লী ইউনিয়নের বাসিন্দা মেহেদী হাসানও এমন একটি ফেসবুক পোস্ট দেখে অনলাইনে সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনটি সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ তা বাতিল করে দেয়। পরে জানা যায়, আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত না করা এবং গ্রামের নামের ইংরেজি বানান অফিসের নির্ধারিত বানানের সঙ্গে না মেলার কারণে আবেদনটি গ্রহণযোগ্য হয়নি।
আরও পড়ুন-অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই
পরে ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় তিনি পুনরায় আবেদন করে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
শুধু মেহেদী হাসানই নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেখে অনেকেই ভুল ধারণা পোষণ করছেন। ফেসবুকে একটি পোস্টের কমেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে নানা প্রশ্ন করছেন।
বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা। অন্তত ১৮টি নাগরিক সেবা পেতে এই সনদ বাধ্যতামূলক। সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এবং কিছু ক্ষেত্রে দূতাবাস থেকে এই সনদ প্রদান করা হয়।
ঘরে বসে কি পুরো জন্ম নিবন্ধন সম্ভব?
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঘরে বসে জন্ম নিবন্ধনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
তিনি জানান, অনলাইনে কেবল আবেদন করা যায়, কিন্তু আবেদন যাচাই, অনুমোদন এবং সনদ ইস্যুর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেতে হয়।
তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে আবেদনকারীরা ভুল করেন। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড না করা, অস্পষ্ট কাগজপত্র দেওয়া কিংবা ঠিকানার ইংরেজি বানান ভুল হওয়ার কারণে আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে
বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সিস্টেম BDRIS ব্যবহার করে যেকোনো ব্যক্তি অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে পারেন।
তবে আবেদন করার পর প্রিন্ট কপি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মূল কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা দপ্তরে যেতে হয়। সেখানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাগজপত্র যাচাই করে আবেদন গ্রহণ করেন এবং ফি গ্রহণের পর নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়।
যদি সংশোধনের আবেদন হয়, তাহলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় এবং অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
জন্ম নিবন্ধনে হয়রানির অভিযোগ কেন?
অনেকেই জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্যার মূল কারণ হলো আবেদনকারীদের প্রস্তুতির অভাব এবং নিয়ম সম্পর্কে অজ্ঞতা।
আশাশুনির কুল্যা ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেরাজুর রহমান জানান, মানুষ প্রক্রিয়া না জেনে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত না রেখেই সেবা নিতে আসেন। ফলে আবেদন সম্পন্ন করতে দেরি হয়।
তিনি বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী সন্তানের জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। এই সময়ের মধ্যে করলে প্রক্রিয়াটি সহজ এবং বিনামূল্যে সম্পন্ন করা যায়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নবজাতকের জন্ম নিবন্ধনের জন্য সাধারণত প্রয়োজন হয়—
- জন্মস্থান ও জন্মতারিখের প্রমাণপত্র
- পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ
- পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র
- হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ
- মোবাইল নম্বর
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত কাগজপত্র যেমন টিকা কার্ড, শিক্ষাগত সনদ ইত্যাদিও প্রয়োজন হতে পারে।
সরকারি ফি কত?
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী—
- জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে: ফ্রি
- ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর: ২৫ টাকা
- ৫ বছরের বেশি: ৫০ টাকা
- সংশোধন ফি: ৫০–১০০ টাকা
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত “ঘরে বসে সম্পূর্ণ জন্ম নিবন্ধন” দাবি সঠিক নয়।
বাস্তবে ঘরে বসে কেবল আবেদন করা যায়, কিন্তু সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেতে হয়। তাই বিভ্রান্তিকর পোস্টে বিশ্বাস না করে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সঠিকভাবে আবেদন করাই উত্তম।
আরও পড়ুন-জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করার নিয়ম
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










