আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

বাতাস থেকেই তৈরি হচ্ছে জ্বালানি,নতুন প্রযুক্তিতে চমক

April 1, 2026 9:48 AM
বাতাস থেকেই তৈরি হচ্ছে জ্বালানি

মাটির নিচে থাকা তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার বাতাস থেকেই জ্বালানি তৈরির যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বিশ্ব। অবাক করা এই প্রযুক্তি বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছে জাপানের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এনিওস করপোরেশন, যা ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে সফলতাও দেখিয়েছে।

আরও পড়ুন-সব গাড়ির জন্য আসছে ‘ফুয়েল কার্ড’

জাপানের ইয়োকোহামায় স্থাপিত একটি ডেমোনস্ট্রেশন প্ল্যান্টে বাতাস থেকে সংগৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে কৃত্রিম জ্বালানি তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে জ্বালানি উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রযুক্তির মূল ধারণা বেশ সহজ হলেও কার্যকর। বিজ্ঞানীরা মাটির নিচে নতুন কার্বন উত্তোলন না করে বায়ুমণ্ডলে ইতোমধ্যে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগ্রহ করছেন। এই কার্বন ডাই-অক্সাইড আসে বাতাস কিংবা শিল্পকারখানার নির্গমন থেকে।

পরবর্তী ধাপে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ইলেকট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় পানি ভেঙে হাইড্রোজেন তৈরি করা হয়। এরপর বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কার্বন ও হাইড্রোজেনকে একত্র করে তরল হাইড্রোকার্বনে রূপান্তর করা হয়। এর ফলেই তৈরি হয় কৃত্রিম ডিজেল বা এভিয়েশন ফুয়েল, যা প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির মতোই ব্যবহারযোগ্য।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই কৃত্রিম জ্বালানি ব্যবহার করতে বিদ্যমান গাড়ি, বিমান বা জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। ফলে এটি সহজেই বর্তমান ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও সব খাতে তা ব্যবহার করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে বিমান, জাহাজ ও ভারী শিল্প খাতে এখনো তরল জ্বালানির বিকল্প খুব সীমিত। এই জায়গাতেই কৃত্রিম জ্বালানি বড় সমাধান হয়ে উঠতে পারে।

জাপানের মতো দেশ, যেখানে নিজস্ব জীবাশ্ম জ্বালানির উৎস নেই, তাদের জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে তারা আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্বভাবে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ পাবে।

তবে এই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগে এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইয়োকোহামার প্ল্যান্টে বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র এক ব্যারেল জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে, যা বাণিজ্যিকভাবে যথেষ্ট নয়।

যদিও প্রতিষ্ঠানটি ২০৪০ সালের মধ্যে প্রতিদিন ১০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তবুও এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, খরচ কমানো এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বাতাস থেকে জ্বালানি তৈরির এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি উদ্ভাবন। যদিও এখনই এটি বড় পরিসরে ব্যবহারের উপযোগী হয়নি, তবে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি নিতে লাগবে ফুয়েল কার্ড ১ এপ্রিল থেকে নতুন নিয়ম চালু

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now