ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। ব্যাংক একাউন্ট খোলা, সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট, চাকরি, সরকারি ভাতা, জমি রেজিস্ট্রেশন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই কার্ডটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, ভোটার আইডি কার্ডে নামের বানান ভুল, নামের অংশ বাদ পড়া বা জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য কাগজের সঙ্গে নামের অমিল রয়েছে। এমন সমস্যার কারণে নাগরিকরা নানা ভোগান্তিতে পড়েন।
এই ব্লগ পোস্টে আপডেট নিয়ম অনুযায়ী ভোটার আইডি কার্ডে নাম সংশোধন করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি, অনলাইন আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি ও সময় সম্পর্কে সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম আপডেট গাইড
ভোটার আইডি কার্ডে নাম সংশোধন কেন প্রয়োজন হয়
ভোটার আইডি কার্ডে নাম সংশোধনের প্রয়োজন সাধারণত নিচের কারণগুলোতে দেখা যায়—
-
নামের বানান ভুল (বাংলা বা ইংরেজি)।
-
জন্মনিবন্ধন বা শিক্ষাগত সনদের সঙ্গে নামের অমিল।
-
পূর্ণ নামের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত নাম লেখা।
-
বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে মিল না থাকা।
-
বিয়ের পর নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন।
এই ভুলগুলো সংশোধন না করলে ভবিষ্যতে সরকারি বা বেসরকারি সেবা পেতে সমস্যা হতে পারে।
ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধনের দায়িত্ব কোন সংস্থার
বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
নাম সংশোধনের আবেদন অনলাইন ও সরাসরি—দুইভাবেই গ্রহণ করা হয়।
ভোটার আইডি কার্ডে নাম সংশোধন করার ধরন
নাম সংশোধন সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে—
১. ছোটখাটো সংশোধন
-
বানান সংশোধন।
-
এক/দুটি অক্ষরের ভুল।
-
বাংলা ও ইংরেজি বানানের সামান্য পার্থক্য।
২. বড় ধরনের সংশোধন
-
পুরো নাম পরিবর্তন।
-
নামের অংশ যোগ বা বাদ।
-
জন্মসনদ ও শিক্ষাগত সনদের সঙ্গে নাম মিল করা।
বড় ধরনের সংশোধনের ক্ষেত্রে বেশি কাগজপত্র ও যাচাই প্রয়োজন হয়।
ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম
বর্তমানে অনলাইনে নাম সংশোধনের আবেদন করাই সবচেয়ে সহজ ও প্রচলিত পদ্ধতি।
ধাপ–১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ
প্রথমে আপনার ব্রাউজার থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
ধাপ–২: একাউন্ট লগইন / রেজিস্ট্রেশন
যদি আগে একাউন্ট করা থাকে, তাহলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
নতুন হলে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ ও মোবাইল নম্বর দিয়ে একাউন্ট তৈরি করুন।
ধাপ–৩: প্রোফাইল থেকে সংশোধন অপশন নির্বাচন
লগইন করার পর ড্যাশবোর্ডে গিয়ে—
👉 তথ্য সংশোধন / Correction অপশন নির্বাচন করুন
👉 এরপর নাম সংশোধন অপশন বাছাই করুন
ধাপ–৪: সংশোধিত নাম প্রদান
এখানে দুটি ঘর থাকবে—
-
বর্তমান নাম (স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখাবে)।
-
সংশোধিত নাম (যেটি আপনি করতে চান)।
বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই সঠিকভাবে নাম লিখুন।
ধাপ–৫: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড
নাম সংশোধনের জন্য নিচের ডকুমেন্টগুলোর স্ক্যান কপি আপলোড করতে হয়—
-
জন্ম নিবন্ধন সনদ।
-
এসএসসি/এইচএসসি সনদ (যদি থাকে)।
-
পাসপোর্ট (যদি থাকে)।
-
বাবা-মায়ের NID (প্রয়োজনে)।
সব ডকুমেন্ট পরিষ্কার ও নির্ধারিত ফরম্যাটে আপলোড করতে হবে।
ধাপ–৬: আবেদন ফি পরিশোধ
নাম সংশোধনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়।
সাধারণত—
-
ছোট সংশোধন: কম ফি।
-
বড় সংশোধন: তুলনামূলক বেশি ফি।
ফি অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।
ধাপ–৭: আবেদন সাবমিট ও ট্র্যাকিং
সব তথ্য ও ডকুমেন্ট যাচাই করে আবেদন সাবমিট করুন।
সাবমিট করার পর একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়া যাবে, যার মাধ্যমে আবেদনের অগ্রগতি দেখা যাবে।
সরাসরি অফিসে গিয়ে নাম সংশোধনের নিয়ম
যারা অনলাইনে আবেদন করতে পারছেন না, তারা সরাসরি উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবেদন করতে পারেন।
এক্ষেত্রে—
-
সংশোধন ফরম পূরণ।
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা।
-
নির্ধারিত ফি পরিশোধ।
এরপর নির্বাচন অফিস আবেদন যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।
নাম সংশোধন হতে কত সময় লাগে
নাম সংশোধনের সময়সীমা নির্ভর করে সংশোধনের ধরন ও কাগজপত্রের ওপর।
সাধারণত—
-
ছোট সংশোধন: ১৫–৩০ কার্যদিবস।
-
বড় সংশোধন: ৩০–৬০ কার্যদিবস বা তার বেশি।
যাচাই জটিল হলে সময় আরও বাড়তে পারে।
আবেদন বাতিল হলে কী করবেন
যদি আবেদন বাতিল বা স্থগিত হয়—
-
বাতিলের কারণ ভালোভাবে পড়ুন।
-
ভুল ডকুমেন্ট ঠিক করে পুনরায় আবেদন করুন।
-
প্রয়োজনে নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।
ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্ন–উত্তর
প্রশ্ন: একাধিকবার নাম সংশোধন করা যাবে?
উত্তর: সাধারণত একাধিকবার সংশোধন নিরুৎসাহিত করা হয়, তবে যৌক্তিক কারণ থাকলে সম্ভব।
প্রশ্ন: নাম সংশোধন হলে নতুন স্মার্ট কার্ড পাওয়া যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, সংশোধন অনুমোদিত হলে নতুন কার্ড ইস্যু করা হয়।
প্রশ্ন: অনলাইনে আবেদন করলে অফিসে যেতে হবে কি?
উত্তর: অধিকাংশ ক্ষেত্রে না, তবে যাচাইয়ের জন্য ডাকা হতে পারে।
প্রশ্ন: ভুল কাগজ দিলে কী হবে?
উত্তর: আবেদন বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।
উপসংহার
ভোটার আইডি কার্ডে নামের ভুল একটি ছোট সমস্যা মনে হলেও এর প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের নামের ভুল দ্রুত সংশোধন করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করলে ঘরে বসেই সহজে আবেদন করা যায় এবং আবেদন ট্র্যাক করাও সম্ভব। সঠিক কাগজপত্র ও নিয়ম অনুসরণ করলে ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন এখন আর কোনো কঠিন কাজ নয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-এখন আর থানায় জিডি নয়! হারানো NID অনলাইনে পাবেন সহজেই
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










