বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড নাগরিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। ব্যাংক হিসাব খোলা, সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট তৈরি, সরকারি ভাতা গ্রহণ কিংবা জমি সংক্রান্ত কাজে ভোটার আইডি অপরিহার্য। অনেক নাগরিকের কাছেই এখনো পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড রয়েছে, যেগুলো ল্যামিনেটেড কাগজ বা হাতে লেখা তথ্যসম্বলিত ছিল।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অনলাইন ও সরকারি সেবায় পুরাতন ভোটার আইডি নম্বর প্রয়োজন হয়। আবার অনেকেই জানতে চান, তাদের পুরাতন ভোটার আইডি তথ্য এখনো সরকারি ডাটাবেজে আছে কি না। এই ব্লগ পোস্টে আপডেট নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড কীভাবে চেক করবেন, কোন ওয়েবসাইটে যেতে হবে এবং কী তথ্য লাগবে—সবকিছু A–Z বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন-ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়?(আপডেট)
পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড কী
পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড বলতে সাধারণত সেই জাতীয় পরিচয়পত্রগুলোকে বোঝানো হয়, যেগুলো স্মার্ট আইডি কার্ড চালুর আগেই প্রদান করা হয়েছিল। এগুলোতে সাধারণত ১৩ বা ১৭ ডিজিটের ভোটার নম্বর থাকত এবং তথ্যগুলো কাগজে প্রিন্ট করা থাকত।
বর্তমানে সরকার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র চালু করলেও পুরাতন ভোটার আইডি তথ্য এখনো জাতীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত রয়েছে এবং সঠিক নিয়মে তা অনলাইনে যাচাই করা যায়।
কেন অনলাইনে পুরাতন ভোটার আইডি চেক করা প্রয়োজন
অনলাইনে পুরাতন ভোটার আইডি চেক করার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।
-
ভোটার তথ্য এখনও ডাটাবেজে আছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।
-
স্মার্ট আইডি বা নতুন এনআইডিতে রূপান্তরের আগে তথ্য যাচাই করা যায়।
-
ভুল নাম, জন্ম তারিখ বা ঠিকানা শনাক্ত করা যায়।
-
সরকারি সেবা নেওয়ার আগে আইডি সক্রিয় আছে কি না জানা যায়।
এই কারণে অনলাইনে ভোটার আইডি চেক করা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অনলাইনে পুরাতন ভোটার আইডি চেক করার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
বাংলাদেশে ভোটার তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অফিসিয়াল পোর্টাল রয়েছে।
👉 অফিসিয়াল ভোটার আইডি চেক ওয়েবসাইট:
https://services.nidw.gov.bd
এই ওয়েবসাইটটি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরিচালিত এবং এখান থেকেই ভোটার তথ্য যাচাই, সংশোধন ও অন্যান্য সেবা প্রদান করা হয়।
অনলাইনে চেক করার আগে যেসব তথ্য জানা দরকার
পুরাতন ভোটার আইডি অনলাইনে চেক করতে গেলে কিছু মৌলিক তথ্য জানা থাকা প্রয়োজন।
-
পুরাতন ভোটার আইডি নম্বর।
-
জন্ম তারিখ।
-
ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় দেওয়া নাম।
-
মোবাইল নম্বর (যদি একাউন্ট তৈরি করতে হয়)।
এই তথ্যগুলো সঠিক হলে অনলাইন যাচাই সহজ হয়।
ধাপে ধাপে অনলাইনে পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড চেক করার নিয়ম
এখন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ধাপে ধাপে চেক করার নিয়ম তুলে ধরা হলো।
ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার ব্রাউজার থেকে
https://services.nidw.gov.bd
এই লিংকে প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইটটি খুললে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার অপশন দেখতে পাবেন।
ধাপ ২: লগইন বা রেজিস্ট্রেশন অপশন নির্বাচন করুন
পুরাতন ভোটার আইডি চেক করতে সাধারণত আগে একটি একাউন্ট থাকতে হয়।
-
যদি আগে একাউন্ট থাকে, তাহলে লগইন করুন।
-
একাউন্ট না থাকলে “রেজিস্ট্রেশন” অপশনে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।
রেজিস্ট্রেশনের সময় ভোটার আইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দিতে হয়।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ভেরিফিকেশন করুন
রেজিস্ট্রেশন বা লগইনের সময়—
-
ভোটার আইডি নম্বর দিন।
-
জন্ম তারিখ লিখুন।
-
প্রয়োজন হলে মোবাইলে আসা OTP কোড দিয়ে ভেরিফিকেশন করুন।
সব তথ্য সঠিক হলে একাউন্ট সক্রিয় হবে।
ধাপ ৪: ভোটার তথ্য অপশনে প্রবেশ করুন
লগইন সফল হলে ড্যাশবোর্ডে “ভোটার তথ্য” বা “NID Information” সম্পর্কিত অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করুন।
ধাপ ৫: পুরাতন ভোটার আইডি তথ্য দেখুন
এই ধাপে আপনার পুরাতন ভোটার আইডির তথ্য স্ক্রিনে দেখাবে।
-
নাম ও পিতার নাম।
-
জন্ম তারিখ।
-
ঠিকানা।
-
ভোটার নম্বর।
এই তথ্যগুলো ভালোভাবে মিলিয়ে দেখুন।
অনলাইনে চেক করতে গিয়ে সাধারণ সমস্যা
অনলাইনে পুরাতন ভোটার আইডি চেক করার সময় কিছু সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
-
পুরাতন তথ্য পুরোপুরি ডিজিটাল না হওয়া।
-
নাম বা জন্ম তারিখে সামান্য ভুল থাকা।
-
ভুল ভোটার নম্বর ইনপুট করা।
এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করা প্রয়োজন হতে পারে।
পুরাতন ভোটার আইডি থেকে স্মার্ট আইডিতে রূপান্তর
যাদের এখনো পুরাতন ভোটার আইডি রয়েছে, তারা চাইলে সেটিকে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রে রূপান্তরের জন্য আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে অনলাইন পোর্টাল বা স্থানীয় নির্বাচন অফিস থেকে নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হয়।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: অনলাইনে পুরাতন ভোটার আইডি চেক করতে কোনো ফি লাগে?
উত্তর: না। অনলাইনে ভোটার আইডি তথ্য চেক করা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
প্রশ্ন: মোবাইল ফোন দিয়ে কি চেক করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ। মোবাইল ব্রাউজার দিয়েও অনলাইনে চেক করা যায়।
প্রশ্ন: তথ্য ভুল থাকলে কী করবেন?
উত্তর: অনলাইন সংশোধন সেবার মাধ্যমে অথবা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।
উপসংহার
অনলাইনে পুরাতন ভোটার আইডি কার্ড চেক করার সুযোগ চালু হওয়ায় নাগরিকদের ভোগান্তি অনেক কমে গেছে। সঠিক ওয়েবসাইট ও নিয়ম অনুসরণ করলে ঘরে বসেই নিজের ভোটার তথ্য যাচাই করা সম্ভব। সরকারি যেকোনো সেবা নেওয়ার আগে পুরাতন ভোটার আইডি তথ্য অনলাইনে চেক করে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-এখন আর থানায় জিডি নয়! হারানো NID অনলাইনে পাবেন সহজেই
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









