আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

জমি রেজিস্ট্রির পর দলিল পেতে আর ভোগান্তি নয়: নির্দিষ্ট সময়ে মিলবে মূল দলিল ও নকল

January 24, 2026 4:43 PM
জমি রেজিস্ট্রির পর দলিল পেতে আর ভোগান্তি নয়

জমি বা সম্পত্তি কেনার পর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম ছিল দলিল সংগ্রহের দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি। কখন দলিল প্রস্তুত হবে, কোথায় খোঁজ নিতে হবে—এসব নিয়ে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষকে পড়তে হতো চরম বিড়ম্বনায়। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।

প্রথমবারের মতো ঢাকা জেলার সব সাবরেজিস্ট্রি অফিসে একটি সেবাধর্মী উদ্যোগ কার্যকর করা হয়েছে, যার মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রির পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দলিল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। শুধু তাই নয়, সেবাপ্রার্থী চাইলে ফোন করেই জানতে পারবেন দলিলের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য সরবরাহের সময়।

আরও পড়ুন-অনলাইনে জমির পর্চা সংগ্রহের নিয়ম ২০২৬ (আপডেট)

📌 কী এই নতুন উদ্যোগ?

নতুন ব্যবস্থায় জমি রেজিস্ট্রির পর—

  • দলিল সংক্রান্ত রসিদে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে সিল দেওয়া হচ্ছে

  • ওই নম্বরে ফোন করলে জানা যাবে—

    • দলিল প্রস্তুত হয়েছে কি না

    • কবে নাগাদ সরবরাহ করা হবে

  • ভবিষ্যতে দলিল প্রস্তুত হলে গ্রহীতার মোবাইলে

    • প্রথমে SMS,

    • পরে ফোন কল করে জানানো হবে সরবরাহের তারিখ

এই উদ্যোগের ফলে দলিল পেতে আর দালাল বা অফিসে বারবার ঘোরাঘুরির প্রয়োজন পড়বে না।

🏢 ঢাকা জেলার সব সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কার্যকর

ঢাকা জেলা সাবরেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই সেবা বর্তমানে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়সহ জেলার আওতাধীন ২৩টি সাবরেজিস্ট্রি অফিসে চালু রয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিটি অফিসে—

  • কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী ফোন রিসিভ করবেন।

  • তাঁর নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর কী।

এসব উল্লেখ করে অফিসিয়াল চিঠি ইস্যু করা হয়েছে, যাতে সেবাপ্রার্থীরা সরাসরি নির্ভরযোগ্য তথ্য পান।

📅 জানুয়ারি থেকে আরও বড় পরিবর্তন

অহিদুল ইসলাম জানান, দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এই কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন করে যুক্ত হচ্ছে—

  • দলিল রেজিস্ট্রির ফরমেটে।

    • ভোটার আইডি নম্বরের নিচেই।

    • গ্রহীতার মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করা হবে

তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে—

  • কেউ মোবাইল নম্বর দিতে না চাইলে।

  • সেখানে লেখা থাকবে: “দিতে আগ্রহী নন”।

🕰️ ১১৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম এমন উদ্যোগ

সূত্র জানায়, ১৯০৮ সালে দলিল রেজিস্ট্রি প্রথা চালুর পর ১১৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এমন গ্রাহকবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হলো।

দীর্ঘদিন ধরে জমি রেজিস্ট্রেশন খাতে—

  • দেরি।

  • অস্পষ্ট তথ্য।

  • হয়রানি।

  • দালাল নির্ভরতা।

নিয়ে মানুষের অভিযোগ ছিল। এই উদ্যোগ সেই নেতিবাচক ধারণা ভাঙার পথে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

🧾 ভোগান্তি কমাতে আরও যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে

ঢাকা জেলা সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে ইতোমধ্যে চালু হয়েছে—

🟢 হেল্প ডেস্ক।

🟢 বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।

🟢 নিয়মিত গণশুনানি।

প্রতি মঙ্গলবার গণশুনানি হলেও বাস্তবে প্রায় প্রতিদিনই সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা হচ্ছে বলে জানান সাবরেজিস্ট্রার।

এছাড়া—

  • সপ্তাহে অন্তত তিন দিন আকস্মিক পরিদর্শন।

  • সাবরেজিস্ট্রি অফিস ঘুরে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানের নির্দেশ।

দেওয়া হচ্ছে।

📂 পুরোনো দলিল ডিজিটাল করার উদ্যোগ

পুরোনো দলিল সংরক্ষণের সমস্যাও মাথায় রেখে—

  • ভবন সম্প্রসারণের অনুমোদন পাওয়া গেছে।

  • বালাম বই স্ক্যান করে ডিজিটাল অটোমেশনে নেওয়ার জন্য।

    • আলাদা প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ চলছে।

ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে পুরোনো দলিল খোঁজা ও সংরক্ষণ আরও সহজ হবে।

🔍 কী বলছেন সাবরেজিস্ট্রার?

অহিদুল ইসলাম বলেন—

“এখনো আমরা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ সেবা দিতে পারছি না। তবে সাবরেজিস্ট্রি অফিস নিয়ে দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা ভাঙতে কাজ করে যাচ্ছি। ধীরে হলেও পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।”

উপসংহার

জমি রেজিস্ট্রির পর দলিল পেতে দীর্ঘ ভোগান্তির দিন ধীরে ধীরে শেষের পথে। ফোন কল, SMS নোটিফিকেশন ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলিল সরবরাহ—এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমবে।

বিশেষ করে ঢাকার মতো বড় জেলায় এই পরিবর্তন ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

তথ্যসূত্র-News24.com

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-জমির মামলা থেকে বাঁচতে আগে থেকেই যেসব কাজ করবেন

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now