আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবেলায় ইলেকট্রিক বাস সহ যে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার

April 4, 2026 11:12 AM
জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবেলায় ইলেকট্রিক বাস সহ যে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার

দেশে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় একসঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন, অফিস সময়সূচি নির্ধারণ এবং জ্বালানি আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজার মতো বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও যানজট পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে রাত ১২টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন-সব গাড়ির জন্য আসছে ‘ফুয়েল কার্ড’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো এবং শহরের যানজট নিরসনে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে শিগগিরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পৃথক নির্দেশনা দেবে। জানা গেছে, আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।

এই উদ্যোগের আওতায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্ত হবে, তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমবে এবং এতে শহরের যানজটও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বাণিজ্যিক খাতেও ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে উৎসাহ দিতে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি শর্ত রাখা হয়েছে—কোনো পুরনো বাস আমদানি করা যাবে না। ফলে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

এদিকে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে।

বাংলাদেশ যেহেতু প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন উৎস খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখিস্তান থেকে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার অফিস সময়সূচিতেও পরিবর্তন এনেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

এছাড়া দেশের সব ধরনের মার্কেট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে খাদ্য ও ওষুধের মতো জরুরি সেবাগুলো এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা অব্যাহত থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার যে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সময়োপযোগী। বিশেষ করে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো, বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়—এই তিনটি বিষয় দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

সব মিলিয়ে, সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলো শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবেলা নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই জ্বালানি ও পরিবহন ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি নিতে লাগবে ফুয়েল কার্ড ১ এপ্রিল থেকে নতুন নিয়ম চালু

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now