বাংলাদেশের শহরভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থায় ই-রিকশা এখন আর নতুন কোনো শব্দ নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই ই-রিকশাগুলো নিয়ে ছিল নিরাপত্তাহীনতা, মানহীন যন্ত্রাংশ এবং সরকারি অনুমোদনের অভাব। ঠিক এই জায়গাটিতেই বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
বুয়েটের প্রকৌশলীদের নিজস্ব গবেষণা ও নকশায় তৈরি দেশের প্রথম মানসম্মত ও নিরাপদ ই-রিকশা সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে, যা নগর পরিবহনে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
আরও দেখুন – বুয়েটের নকশায় দেশের প্রথম ই-রিকশা চালু
বুয়েটের নকশায় ই-রিকশা: কেন এত আলোচনায়?
ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে চলমান অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ইজিবাইক কোনো নির্দিষ্ট মান বা বৈজ্ঞানিক নকশা অনুসরণ করে তৈরি নয়। ফলে—
-
দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি।
-
ব্রেক ও স্টিয়ারিং দুর্বল।
-
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণহীন।
-
বিদ্যুৎ ব্যবহারে অপচয়।
এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতেই সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুরোধে বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগ একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাভিত্তিক ই-রিকশার নকশা তৈরি করে।
এই নকশার মূল লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তা, টেকসই কাঠামো এবং শহরের জন্য উপযোগী গতি সীমা নিশ্চিত করা।
বুয়েটের ই-রিকশার নাম কী?
অনেকের সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন—
👉 রিকশাটির অফিসিয়াল নাম কী?
বর্তমানে সরকারিভাবে নির্দিষ্ট কোনো বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে এটি পরিচিত হচ্ছে—
-
BUET Designed E-Rickshaw
-
BUET Approved Auto Rickshaw
-
BUET Model E-Rickshaw
অর্থাৎ, এটি কোনো কোম্পানির নাম নয়; বরং বুয়েটের অনুমোদিত ও নকশাভিত্তিক একটি স্ট্যান্ডার্ড মডেল। ভবিষ্যতে বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এই নকশা অনুসরণ করে ই-রিকশা তৈরি ও বাজারজাত করবে।
বুয়েটের ই-রিকশার দাম কত?
সরকারি ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী—
👉 ই-রিকশার আনুমানিক মূল্য: ১,৯০,০০০ থেকে ২,২০,০০০ টাকা
দামের তারতম্য হতে পারে—
-
ব্যাটারির ধরন অনুযায়ী
-
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উপর
-
অতিরিক্ত ফিচার সংযোজনের কারণে
⚠️ মনে রাখতে হবে, এটি সাধারণ বাজারের ইজিবাইক নয়।
এই দামের মধ্যে রয়েছে—
-
উন্নত নিরাপত্তা কাঠামো
-
শক্তিশালী ব্রেকিং সিস্টেম
-
দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি
-
সরকারি মান অনুযায়ী ডিজাইন
কোথা থেকে কিনবেন বুয়েটের ই-রিকশা?
বর্তমানে এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত বাজারে একযোগে বিক্রি শুরু হয়নি। তবে নিচের উপায়ে পাওয়া যাচ্ছে বা পাওয়া যাবে—
🔹 ১. অনুমোদিত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান
সরকার বুয়েটের নকশা অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরির জন্য কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিচ্ছে।
🔹 ২. নির্দিষ্ট শোরুম ও ডিলার
ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে নির্ধারিত শোরুমের মাধ্যমে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
🔹 ৩. পর্যায়ক্রমিক বুকিং সিস্টেম
প্রাথমিকভাবে চালক সমিতি, সিটি করপোরেশন ও পরিবহন প্রকল্পের মাধ্যমে ই-রিকশা বিতরণ করা হচ্ছে।
📌 ভবিষ্যতে সাধারণ ক্রেতার জন্য সহজ কিস্তি ও ব্যাংক ফাইন্যান্স সুবিধা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বুয়েটের ই-রিকশার প্রধান বৈশিষ্ট্য
এই ই-রিকশাকে আলাদা করেছে এর বৈজ্ঞানিক নকশা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
⭐ উল্লেখযোগ্য ফিচারসমূহ:
-
নির্দিষ্ট গতি সীমা (ওভারস্পিড নিয়ন্ত্রণ)
-
উন্নত হাইড্রোলিক ব্রেক
-
ভারসাম্যপূর্ণ চ্যাসিস ডিজাইন
-
বেশি যাত্রী বহনে স্থিতিশীলতা
-
কম বিদ্যুৎ খরচ
-
পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি সিস্টেম
-
চালকের জন্য আরামদায়ক আসন
কোথায় চলবে এই ই-রিকশা?
প্রাথমিকভাবে—
-
ঢাকার নির্বাচিত কয়েকটি এলাকা
-
আবাসিক ও স্বল্প গতির সড়ক
-
নির্দিষ্ট রুট ও জোনে
পরবর্তীতে সফল হলে ধাপে ধাপে—
-
অন্যান্য মহানগর
-
জেলা শহর
-
পরিকল্পিত পৌর এলাকায়
চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
❓ প্রশ্ন–উত্তর
প্রশ্ন ১: এই ই-রিকশা কি লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন পাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, সরকারিভাবে নিবন্ধন ও লাইসেন্স ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশ্ন ২: সাধারণ চালকরা কি এটি কিনতে পারবেন?
উত্তর: পর্যায়ক্রমে হ্যাঁ। প্রথমে নির্দিষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে, পরে সাধারণ বাজারে।
প্রশ্ন ৩: চার্জ দিতে কত সময় লাগে?
উত্তর: ব্যাটারি অনুযায়ী ৬–৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ চার্জ হয়।
প্রশ্ন ৪: সাধারণ ইজিবাইক থেকে এটি কেন ভালো?
উত্তর: নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও সরকার অনুমোদনের কারণে এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।
🧾 উপসংহার
বুয়েটের নকশায় তৈরি ই-রিকশা শুধুমাত্র একটি নতুন যান নয়—
এটি নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।
যদি এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে—
-
দুর্ঘটনা কমবে।
-
চালক ও যাত্রী দুজনই নিরাপদ থাকবে।
-
পরিবেশ দূষণ কমবে।
-
শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বুয়েটের ই-রিকশা বাংলাদেশের স্মার্ট ও টেকসই পরিবহনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন-গণপরিবহনে স্বস্তির নতুন অধ্যায়: রাজধানীতে চালু হচ্ছে ৪০০ ইলেকট্রিক বাস
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


