বিকাশে যুক্ত হল ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস, যেভাবে ডিপিএস করবেন

প্রকাশিত: 22-05-2026 1:34 PM
বিকাশে যুক্ত হল ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস

দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশে যুক্ত হয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL)-এর ডিপিএস সেবা। ফলে এখন থেকে গ্রাহকরা খুব সহজেই বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে ইস্টার্ন ব্যাংকে ডিজিটাল ডিপিএস খুলতে পারবেন। ব্যাংকে না গিয়েই ঘরে বসে কয়েক মিনিটের মধ্যে মাসিক সঞ্চয় পরিকল্পনা চালু করার এই সুবিধা ইতোমধ্যে প্রযুক্তিপ্রেমী ও সঞ্চয়মুখী গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন-বিকাশ ডিপিএস অফার ২০২৬: খুললেই পাবেন ৳৬০০ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক ও কুপন

সম্প্রতি বিকাশ অ্যাপে “সেভিংস” অপশনের আওতায় ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস যুক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মাসিক, সাপ্তাহিক কিংবা অন্যান্য মেয়াদভিত্তিক সঞ্চয় স্কিম বেছে নিতে পারবেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ছোট অঙ্কের টাকা জমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে চান, তাদের জন্য এটি বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিকাশ সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল আর্থিক সেবা আরও সহজ ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ানো হচ্ছে। আগে বিকাশে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপিএস সুবিধা চালু থাকলেও এবার যুক্ত হলো ইস্টার্ন ব্যাংক। এর ফলে ব্যবহারকারীরা এখন এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই বিভিন্ন ব্যাংকের সঞ্চয় স্কিম তুলনা করে নিজেদের জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা বেছে নিতে পারবেন।

বিকাশ অ্যাপের হোমপেজে থাকা “সেভিংস” অপশনে প্রবেশ করলে “ডিপিএস” এবং “ইসলামিক ডিপিএস” নামে দুটি ক্যাটাগরি দেখা যাচ্ছে। ডিপিএস অপশনে ঢোকার পর ব্যবহারকারীরা প্রথমে সঞ্চয়ের ধরন নির্বাচন করতে পারবেন। সেখানে মাসিক, সাপ্তাহিক বা নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক সঞ্চয় পরিকল্পনার সুযোগ রয়েছে।

এরপর গ্রাহককে মেয়াদ নির্বাচন করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে ৪৮ মাস মেয়াদে ৩ হাজার টাকা মাসিক ডিপিএস নির্বাচন করলে অ্যাপে সম্ভাব্য মুনাফা ও মোট প্রাপ্ত অর্থ দেখানো হচ্ছে। স্ক্রিনশটে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক প্রায় ৯.৭৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার হার প্রদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফার, জনপ্রিয়তা এবং মোট রিটার্নও আলাদাভাবে দেখানো হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

ডিজিটাল ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও বাড়বে। বিশেষ করে যেসব মানুষ নিয়মিত ব্যাংকে যেতে পারেন না, তারা এখন মোবাইল ফোন থেকেই সঞ্চয় পরিকল্পনায় যুক্ত হতে পারবেন। এতে ছোট অঙ্কের সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়বে এবং ডিজিটাল ফাইন্যান্স খাত আরও শক্তিশালী হবে।

বিকাশ অ্যাপে ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস খোলার প্রক্রিয়াও তুলনামূলক সহজ রাখা হয়েছে। প্রথমে ব্যবহারকারীকে বিকাশ অ্যাপে লগইন করতে হবে। এরপর “সেভিংস” অপশনে গিয়ে “ডিপিএস” নির্বাচন করতে হবে। সেখানে মেয়াদ, মাসিক কিস্তির পরিমাণ এবং পছন্দের ব্যাংক নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে। সব তথ্য পূরণ করার পর আবেদন নিশ্চিত করলে ডিপিএস অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে যাবে।

ব্যবহারকারীরা চাইলে বিভিন্ন ব্যাংকের ডিপিএস স্কিম একসঙ্গে তুলনাও করতে পারবেন।IDLC Finance, Eastern Bank PLC এবং Dhaka Bank PLC–এর বিভিন্ন সঞ্চয় পরিকল্পনা ও মুনাফার হার প্রদর্শন করা হচ্ছে। ফলে গ্রাহক সহজেই কোন প্রতিষ্ঠানে বেশি সুবিধা মিলবে তা যাচাই করতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের তরুণ প্রজন্ম এখন ধীরে ধীরে ক্যাশলেস ও ডিজিটাল সঞ্চয়ের দিকে ঝুঁকছে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিপিএস খোলার সুবিধা এই পরিবর্তনকে আরও গতিশীল করবে। আগে যেখানে একটি ডিপিএস চালু করতে ব্যাংকে গিয়ে কাগজপত্র পূরণ করতে হতো, এখন সেটি কয়েক মিনিটেই স্মার্টফোনে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

এছাড়া এই সেবায় নিরাপত্তাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিকাশের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব যাচাই প্রক্রিয়াও যুক্ত থাকায় গ্রাহকের তথ্য ও লেনদেন সুরক্ষিত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবহারকারীদের মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে এই সেবা পরিচালিত হচ্ছে।

প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল সেভিংস বা মোবাইলভিত্তিক সঞ্চয় ব্যবস্থার জনপ্রিয়তা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। কারণ বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মানুষ এখন আর্থিক সেবাও ডিজিটাল মাধ্যমে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিকাশে ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস যুক্ত হওয়াকে সেই পরিবর্তনেরই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন। শুধুমাত্র অফিসিয়াল বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে ডিপিএস খোলার কথা বলা হয়েছে। কোনো অপরিচিত লিংক, ভুয়া অ্যাপ বা ফেসবুক পেজে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিপিএস খোলার আগে মুনাফার হার, কিস্তির পরিমাণ এবং শর্তাবলি ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সবমিলিয়ে, বিকাশ অ্যাপে ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস যুক্ত হওয়া দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আরও সহজে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবেন এবং মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবার ব্যবহার আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: ইস্টার্ন ব্যাংক সম্পর্কিত তথ্য ।

আরও পড়ুন-নারীদের জন্য ইস্টার্ন ব্যাংকের বড় সুবিধা বাড়ি কিনতে মিলবে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now