কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আবারও ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কার্যক্রম চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। ঈদ উপলক্ষে বাড়তি চাহিদা ও বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন-টিসিবিতে সারা দেশে ডিলার নিয়োগ শুরু অনলাইনে আবেদন চলছে
রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রি করা হবে। এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে পরিচালিত এই বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রমের আওতায় প্রতিদিন সারা দেশে ৭২০টি ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হবে। শুক্রবার ছাড়া টানা ১০ দিন এই কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জন ভোক্তা পণ্য কিনতে পারবেন।
টিসিবি বলছে, শুধু কার্ডধারীরাই নয়, সাধারণ ভোক্তারাও এই ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। ফলে বাজারে বাড়তি চাপ কমবে এবং নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন ৫০টি ট্রাক মোতায়েন থাকবে। চট্টগ্রাম মহানগরী ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকবে ২০টি ট্রাক। এছাড়া দেশের বাকি বিভাগীয় শহর ও জেলাগুলোতে নির্ধারিত সংখ্যক ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হবে।
টিসিবির তথ্যমতে, ট্রাকসেলের মাধ্যমে ভোক্তারা নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল কিনতে পারবেন। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার ভোজ্যতেল, এক কেজি চিনি এবং দুই কেজি মসুর ডাল সংগ্রহ করতে পারবেন। এসব পণ্যের দাম বাজারদরের তুলনায় কম রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে কিনতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির ঈদ ঘিরে সাধারণত বাজারে নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই সুযোগে অনেক সময় পণ্যের দামও বাড়তে দেখা যায়। সরকার তাই ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য টিসিবির কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার সময়ে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য সরবরাহ সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি করে।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাকসেলের পাশাপাশি নিয়মিত কার্ডধারী পরিবারগুলোর কাছেও ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলমান থাকবে। চলতি মাসে প্রায় ৭২ লাখ পরিবারকে টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করা হবে।
এ ছাড়া মে মাসে কার্ডধারী পরিবারগুলোর জন্য প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের পরিমাণ এবং মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে।
টিসিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাকসেলের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সহজে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বাজারে যখন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে, তখন টিসিবির পণ্য অনেক পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ঈদের সময় অতিরিক্ত খরচের চাপের মধ্যে কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া অনেকের জন্য স্বস্তির বিষয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির এই কার্যক্রম বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে পারবেন।
সূত্র: টিসিবির প্রকাশিত তথ্য।
আরও পড়ুন-টিসিবি কার্ড করতে কী কী লাগে জানুন নতুন নিয়ম কাগজপত্র ও আবেদন পদ্ধতি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










