রাজধানীতে ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও মাদককারবার নিয়ন্ত্রণে এবার বড় ধরনের নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির নতুন যুগ শুরু হবে।
আরও পড়ুন-এআই ই-ট্রাফিক ক্যামেরায় যে সব অপরাধ ধরা পড়ছে ঢাকার রাস্তায়
ডিএমপি জানিয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শুধু সিসি ক্যামেরা নয়, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লক রেইড অভিযান, পুলিশি টহল, বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, রাজধানীতে নজরদারি বাড়াতে ১১ হাজার নতুন সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। বিশেষ করে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই প্রতিরোধে ৭০০ সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হলে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।
তিনি আরও জানান, মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বসিলা এলাকায় একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন করা হয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর ৫০টি থানায় অতিরিক্ত এডিসি, এসি ও পেট্রোল ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থাকে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, ছিনতাই ও সড়কভিত্তিক অপরাধ দ্রুত শনাক্ত করতে ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হবে। অপরাধ ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই কন্ট্রোল রুম থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় রেসপন্স টিম পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লক রেইড অভিযান বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ১ হাজার ৯১০টি সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপি ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৭১০টি এবং গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন এলাকার বাড়ির মালিক সমিতি ও স্থানীয় ল অ্যান্ড অর্ডার কো-অর্ডিনেশন কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত প্রায় ১ হাজার ২০০টি ক্যামেরা নিয়মিত কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গুলশান, বনানী ও কূটনৈতিক এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা অনেকাংশে কমেছে। এখন সেই অভিজ্ঞতাকে রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণ করতে চায় ডিএমপি।
ডিএমপি জানিয়েছে, নতুন সিসি ক্যামেরা কেনা ও স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় এসব ক্যামেরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক, অলিগলি, অপরাধপ্রবণ এলাকা এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে বসানো হবে। এতে যানজট নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত শনাক্তকরণ সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, শুধু স্থায়ী ক্যামেরাই নয়, বড় জাতীয় অনুষ্ঠান বা উৎসব উপলক্ষেও অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। যেমন পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি বা স্বাধীনতা দিবসের মতো বড় আয়োজনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যামেরাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনো ক্যামেরা বিকল হলে তা দ্রুত মেরামত বা পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে নজরদারিতে দীর্ঘ সময়ের জন্য কোনো বিঘ্ন তৈরি হয় না।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় সিসি ক্যামেরা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শুধু অপরাধী শনাক্ত করাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে ক্যামেরার উপস্থিতিই অপরাধ কমাতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ক্যামেরা বসালেই অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। এর সঙ্গে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা, নিয়মিত টহল, সামাজিক সচেতনতা এবং কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধে সামাজিক উদ্যোগও জরুরি।
সব মিলিয়ে, রাজধানীতে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে নগর নিরাপত্তা জোরদারের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সঠিক বাস্তবায়ন হলে ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সড়কভিত্তিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: ডিএমপি, বাসস ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য।
আরও পড়ুন-আজ থেকেই ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরায় অটো মামলা ট্রাফিক আইন চালু
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









