রাজধানী ঢাকার সড়কে আজ থেকে শুরু হয়েছে নতুন এক বাস্তবতা। এখন আর ট্রাফিক পুলিশ সামনে না থাকলেও আইন ভাঙলেই রেহাই নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দিচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।
আরও পড়ুন-ঢাকায় সিসি ক্যামেরায় ট্রাফিক আইন, ভাঙলেই অটো নোটিশ, না মানলে পরোয়ানা
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে ডিএমপির আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে এই ডিজিটাল প্রসিকিউশন ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। ফলে লাল সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো কিংবা জেব্রা ক্রসিং ব্লক করার মতো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলেই ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ও স্থিরচিত্রের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা রেকর্ড হবে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, এখন থেকে সড়কে আইন ভাঙলেই অটো মামলা তৈরি হবে এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক ও চালকের ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে পরবর্তী ধাপে সমন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর শাহবাগ, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটরসহ ২০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোট ২৫টি স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল ও এআই-চালিত ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ট্রাফিক অপরাধ শনাক্ত করতে সক্ষম।
বর্তমানে যেসব অপরাধ সরাসরি শনাক্ত করে মামলা দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে—লাল বাতি অমান্য, জেব্রা ক্রসিং ব্লক, উল্টো পথে চলাচল, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, সিটবেল্ট না পরা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং অনুমতি ছাড়া ভিআইপি লাইট ব্যবহার।
ডিএমপি জানিয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে ই-প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ক্যামেরায় ধরা পড়া গাড়ির নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ডাটাবেইসের সঙ্গে মিলিয়ে মালিকের তথ্য শনাক্ত করা হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধে জরিমানাও নির্ধারণ করা হয়েছে। লাল সিগন্যাল ভাঙলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত জরিমানা আরোপ করা হবে।
নতুন ব্যবস্থায় স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল ও পুশ-বাটন পেডেস্ট্রিয়ান ক্রসিংও যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ শুধু ট্রাফিক পুলিশ নয়, এখন প্রযুক্তিই সড়কে নিয়ম মানা নিশ্চিত করবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ক্যামেরাগুলোর কোনো মানবিক অনুভূতি নেই—আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা রেকর্ড হবে।
গাড়ির মালিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কবার্তাও দিয়েছে ডিএমপি। তারা বলছে, গাড়ি কে চালাচ্ছে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর সচল রাখতে হবে। কারণ ড্রাইভার আইন ভাঙলেও মামলা যাবে গাড়ির মালিকের নামে।
এছাড়া ফিটনেসবিহীন বা কাগজপত্রে ত্রুটিযুক্ত যানবাহনের ক্ষেত্রেও এআই ক্যামেরা দ্রুত তথ্য শনাক্ত করতে পারবে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থায় সড়কে অনিয়ম করা আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএমপির গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সিসি ক্যামেরার মামলার নামে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে না। কেউ প্রতারণামূলক বার্তা পাঠালে বা অর্থ দাবি করলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্নীতি কমানোর জন্য এই ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চলার অভ্যাসও বাড়াতে হবে।
সব মিলিয়ে, ঢাকার সড়কে এখন শুরু হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগ। “পুলিশ নেই, তাই নিয়ম ভাঙা যাবে”—এই ধারণা এখন আর কাজ করবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: ডিএমপি গণবিজ্ঞপ্তি, ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ই-ট্রাফিক কী? বাংলাদেশে সুবিধা ও ঝুঁকি নিয়ে পূর্ণ বিশ্লেষণ
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









