বাংলাদেশে কৃষি খাতে ডিজিটাল সেবার বিস্তার দিন দিন বাড়ছে। সরকারি বিভিন্ন সেবা এখন মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার কৃষকরাও ঘরে বসেই ধান বিক্রির আবেদন করতে পারছেন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে।
আরও পড়ুন-গুগল ট্রান্সলেটে নতুন এআই ফিচার এখন উচ্চারণ শিখবে সহজেই
সরকারি তথ্য বাতায়ন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, “কৃষকের অ্যাপ” নামের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কৃষকরা সহজেই ধান বিক্রির আবেদন জমা দিতে পারবেন। এতে কৃষকদের আর দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়া থেকে হাতে মুঠোয় পৌঁছে দেওয়া। কৃষি খাতেও সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে এই মোবাইলভিত্তিক সেবা। বিশেষ করে খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে সরাসরি ধান বিক্রির আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতেই এই অ্যাপ চালু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যাপটির মাধ্যমে কৃষকরা নিজের মোবাইল ফোন থেকেই আবেদন করতে পারবেন। এতে সময় ও ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রকৃত কৃষকরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
অ্যাপটিতে কৃষকদের জন্য রয়েছে নিবন্ধন ও লগইন সুবিধা। জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও প্রয়োজনীয় কৃষি তথ্য ব্যবহার করে সহজেই অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যাবে। এরপর নির্ধারিত মৌসুমে ধান বিক্রির আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
আবেদন করার সময় কৃষককে তার এলাকার তথ্য, জমির পরিমাণ এবং উৎপাদিত ধানের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে। আবেদন যাচাই শেষে নির্বাচিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং নির্ধারিত সংগ্রহ কেন্দ্রে ধান জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
কৃষি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে অনেক সময় সরকার নির্ধারিত দামের সুবিধা কৃষকদের কাছে পুরোপুরি পৌঁছায় না। ডিজিটাল আবেদন ব্যবস্থা চালু হলে এই সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে আসতে পারে।
এছাড়া অনলাইনভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থা চালুর ফলে কৃষিপণ্য ক্রয় প্রক্রিয়ায় তথ্য সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণও সহজ হবে। সরকারের পক্ষেও প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরি ও যাচাই করা আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। কৃষকের অ্যাপের মতো উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে কৃষকরা সরাসরি বাজার ও সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে অনেক গ্রামীণ এলাকায় এখনো স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এজন্য মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ধান বিক্রির আবেদন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে করার সুযোগ কৃষকদের জন্য একটি বড় পরিবর্তন। এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষিপণ্য ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গতি বাড়বে, পাশাপাশি কৃষকরাও সহজে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সূত্র: সরকারি তথ্য বাতায়ন ও সংশ্লিষ্ট কৃষি সেবা তথ্য।
আরও পড়ুনঃ-Chrome-এর নতুন আপডেটে নিজেই মুছে যাবে ঝুঁকিপূর্ণ সাইটের পারমিশন
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








