রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভাকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে, যা স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক মেয়র উত্তম কুমার সাহা, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে পৌরসভার প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয়পত্র প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন-প্রাণীর জন্য আসছে ভ্যাকসিন কার্ড, রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে বদরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদকে পৌরসভায় উন্নীত করা হয় এবং ২০০০ সাল থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের মধ্যে দিয়ে উত্তম কুমার সাহা পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং পরপর চারবার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তার দায়িত্বকালজুড়ে নিয়োগ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির নানা অভিযোগ স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ছিল।
সাম্প্রতিক অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে বদরগঞ্জ পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেখিয়ে মনোজ কুমার সাহা (রানা) ও রাজীব কুমার সাহা নামে দুই ব্যক্তির জন্মসনদ ইস্যু করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, তারা প্রকৃতপক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং ভারতীয় নাগরিক। তাদের কাছে ভারতীয় পাসপোর্টও রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু জন্মসনদই নয়, একই পরিবারের আরেক সদস্য আরতী রাণী সাহার মৃত্যুসনদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ভারতের কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, কিন্তু একই তারিখ উল্লেখ করে বদরগঞ্জ পৌরসভা থেকে তার নামে মৃত্যুসনদ ইস্যু করা হয়। অভিযোগকারীরা এটিকে পরিকল্পিত জালিয়াতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সম্পত্তি সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে এসব নথি তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট পরিবারের বদরগঞ্জ পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, যার মূল্য শতকোটি টাকার বেশি হতে পারে। এসব সম্পত্তির মালিকানা নিশ্চিত করতে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় জাল জন্ম ও মৃত্যুসনদ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সাবেক মেয়রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছিল বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগকারী প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, সাবেক মেয়রের দায়িত্বকালে পৌরসভায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, যা এতদিন চাপা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক মেয়র উত্তম কুমার সাহা বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক নন। তিনি দাবি করেন, ১৯৯৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদ থাকাকালে তাদের জন্মসনদ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে পৌরসভা থেকে সনদ ইস্যু করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ে ওই সময়ের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুর্নীতি দমন কমিশন-এ একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রংপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাওন মিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু একটি পৌরসভার প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিক তথ্যব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হতে পারে। কারণ জাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকরা দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন-ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









