২৫ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন না করলে বন্ধ হবে অননুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ক্যাম্পাস।

২৫ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন না করলে বন্ধ হবে অননুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ক্যাম্পাস

দেশে অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস, স্টাডি সেন্টার ও টিউটোরিয়াল সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অনুমোদন নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন-এইচএসসি পরীক্ষা ৭ জুন থেকে শুরু অভিন্ন প্রশ্নপত্রে বড় পরিবর্তন।

সোমবার (৩০ জুন) ইউজিসির ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোছা: জেসমিন পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার ও ইউজিসির পূর্বানুমোদন ছাড়া বেশ কিছু দেশি ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে শাখা ক্যাম্পাস, স্টাডি সেন্টার ও টিউটোরিয়াল সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকাও ইউজিসির হাতে এসেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

ইউজিসি জানায়, ‘বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা, ২০১৪’ অনুযায়ী এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান এই বিধিমালা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী ভর্তি ও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে, যা আইনগতভাবে অবৈধ।

এ অবস্থায় অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে ইউজিসিতে আবেদন করে অনুমোদন গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিশন।

শুধু আবেদন করলেই হবে না, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয় বা স্টাডি সেন্টারগুলোতে পড়াশোনা করলে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে সনদের স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণে চাকরি বা উচ্চশিক্ষায় সমস্যা দেখা দেয়। তাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ছিল।

শিক্ষাবিদদের মতে, ইউজিসির এই পদক্ষেপ দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি শিক্ষার্থীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করবে। তারা মনে করেন, সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনেক সময় বিজ্ঞাপন বা প্রলোভনের কারণে শিক্ষার্থীরা এমন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়, যা পরে তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সরকারি এই কঠোর অবস্থান ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সব মিলিয়ে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনুমোদন গ্রহণ ও কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এই নির্দেশনা কতটা গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করে।

আরও পড়ুন-কারিগরি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি পেতে তথ্য আপডেট বাধ্যতামূলক

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

শিক্ষা ও চাকরি বিষয়ক প্রতিবেদক

আমি শিক্ষা, চাকরি, ক্যারিয়ার ও সমসাময়িক উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন লিখি। তথ্যভিত্তিক ও পাঠকবান্ধব কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী এবং সচেতন পাঠকদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষা নীতি, ভর্তি, পরীক্ষা, ফলাফল, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সরকারি-বেসরকারি চাকরির আপডেট ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সংবাদ বিশ্লেষণধর্মীভাবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী। সহজ ভাষা, নির্ভুল তথ্য এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে আমি সবসময় গুরুত্ব দিই। বর্তমান প্রজন্মের জন্য কার্যকর ও সময়োপযোগী তথ্য পৌঁছে দিতে আমি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now