বাংলাদেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মধ্যে বিকাশ (bKash) অন্যতম জনপ্রিয় একটি প্ল্যাটফর্ম। বর্তমানে কোটি কোটি মানুষ বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা পাঠানো, মোবাইল রিচার্জ, বিল পরিশোধ এবং অনলাইন লেনদেনসহ বিভিন্ন আর্থিক কাজ সম্পন্ন করছেন। বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড ব্যবহার করা হয়।
অনেক সময় দেখা যায়, একজন ব্যক্তির ভোটার আইডি কার্ড ব্যবহার করে একাধিক বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। আবার কেউ কেউ জানতে চান তার নিজের এনআইডি কার্ড দিয়ে কোনো বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা আছে কি না। তাই এই বিষয়টি জানার সঠিক পদ্ধতি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে ভোটার আইডি কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে কিনা তা জানার কয়েকটি সহজ উপায় তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-বিকাশ অ্যাপে তথ্য হালনাগাদ করার নিয়ম(৫০ টাকা ক্যাশব্যাক)
বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় কেন এনআইডি লাগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলার সময় গ্রাহকের পরিচয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াকে KYC (Know Your Customer) বলা হয়।
এই কারণে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারণত নিচের তথ্য নেওয়া হয়—
-
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
-
মোবাইল নম্বর
-
গ্রাহকের ছবি
-
ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাই
এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে একটি বৈধ বিকাশ অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করা হয়।
ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা আছে কিনা জানার উপায়
আপনার ভোটার আইডি কার্ড ব্যবহার করে কোনো বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে কিনা তা জানার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে।
বিকাশ কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বিকাশ কাস্টমার কেয়ারের সাথে যোগাযোগ করা।
এই ক্ষেত্রে—
-
বিকাশ হেল্পলাইন নম্বরে কল করতে পারেন।
-
আপনার এনআইডি নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করতে পারেন।
তারা যাচাই করে বলতে পারে আপনার নামে কোনো অ্যাকাউন্ট আছে কি না।
বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে
যদি আপনার মোবাইল নম্বর দিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা থাকে, তাহলে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই তা যাচাই করা যায়।
ধাপগুলো সাধারণত এমন—
১. বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করুন।
২. মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করার চেষ্টা করুন।
৩. অ্যাকাউন্ট থাকলে সেটি শনাক্ত করা যাবে।
বিকাশ এজেন্ট পয়েন্টে যোগাযোগ
আপনি চাইলে কাছাকাছি কোনো বিকাশ এজেন্ট বা কাস্টমার কেয়ার পয়েন্টে গিয়েও বিষয়টি জানতে পারেন।
এক্ষেত্রে সাধারণত—
-
আপনার এনআইডি কার্ড।
-
মোবাইল নম্বর।
দেখিয়ে তথ্য যাচাই করা যায়।
একটি এনআইডি দিয়ে কতটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা যায়
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত একটি এনআইডি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সংখ্যক মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। তবে একই মোবাইল নম্বর দিয়ে একাধিক বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব নয়।
এছাড়া গ্রাহকের পরিচয় যাচাই ছাড়া নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না।
যদি এনআইডি দিয়ে অন্য কেউ বিকাশ খুলে থাকে তাহলে কী করবেন
যদি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অন্য কেউ বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে থাকে বলে সন্দেহ হয়, তাহলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
আপনি করতে পারেন—
-
বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে অভিযোগ করা।
-
নিকটস্থ বিকাশ সেন্টারে যোগাযোগ করা।
-
প্রয়োজনে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আবেদন করা।
এতে ভবিষ্যতে আর্থিক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
উপসংহার
বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেকেই জানতে চান তাদের এনআইডি দিয়ে কোনো বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে কিনা। বিকাশ কাস্টমার কেয়ার, মোবাইল অ্যাপ বা এজেন্ট পয়েন্টের মাধ্যমে সহজেই এই তথ্য যাচাই করা যায়। তাই নিজের পরিচয়পত্র নিরাপদ রাখা এবং সন্দেহজনক কোনো বিষয় থাকলে দ্রুত যাচাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-অনলাইনে পূবালী ব্যাংকের হোম লোন পেতে চান?
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










