আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

২০২৬ সালে দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি কত? জমি ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের সম্পূর্ণ খরচ

January 2, 2026 3:59 PM
২০২৬ সালে দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি কত? জমি ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের সম্পূর্ণ খরচ

বাংলাদেশে জমি বা ফ্ল্যাট কেনা মানেই শুধু টাকা দিয়ে সম্পত্তি কেনা নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বেশ কিছু আইনি ও সরকারি প্রক্রিয়া। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো দলিল রেজিস্ট্রেশন। অনেকেই জমি বা ফ্ল্যাট কেনার সময় শুধু মূল দাম হিসাব করেন, কিন্তু দলিল করতে গিয়ে দেখা যায় অতিরিক্ত অনেক খরচ যোগ হচ্ছে। ফলে শেষ মুহূর্তে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, কখনো প্রতারণার শিকারও হতে হয়।

২০২৬ সালে এসে দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক, উৎসে আয়করসহ বিভিন্ন খাতে কী পরিমাণ টাকা লাগে—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যেমন বেড়েছে, তেমনি সঠিক তথ্যের অভাবও রয়েছে। এই লেখায় আমরা খুব সহজ ভাষায় জানবো ২০২৬ সালে বাংলাদেশে দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি কত, কোন খাতে কত টাকা লাগে এবং মোট খরচ কত হতে পারে।

আরও পড়ুন-ভূমি অ্যাপ’ চালু: নামজারি, ভূমি কর ও খতিয়ান এখন এক ক্লিকে!

দলিল রেজিস্ট্রেশন কী এবং কেন এটি বাধ্যতামূলক

দলিল রেজিস্ট্রেশন হলো জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানা আইনগতভাবে হস্তান্তরের সরকারি প্রক্রিয়া। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন না করলে—

  • আপনি আইনি মালিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন না।

  • ভবিষ্যতে জমি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার ঝুঁকি থাকবে।

  • নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করা যাবে না।

  • জমি বিক্রি বা উত্তরাধিকার হস্তান্তর জটিল হয়ে যাবে।

এই কারণে জমি বা ফ্ল্যাট কেনার পর দলিল রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক।

২০২৬ সালে দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি: মূল খাতসমূহ

দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় সরকার নির্ধারিত কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতে টাকা দিতে হয়। নিচে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।

রেজিস্ট্রেশন ফি (Registration Fee)

রেজিস্ট্রেশন ফি হলো সরকার নির্ধারিত মূল ফি, যা দলিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধনের জন্য দিতে হয়।

  • সাধারণভাবে রেজিস্ট্রেশন ফি ধরা হয় দলিল মূল্যের ১%

  • জমি, ফ্ল্যাট বা স্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই এই হার প্রযোজ্য

উদাহরণ:
👉 যদি দলিলের মূল্য ২০ লাখ টাকা হয়, তাহলে রেজিস্ট্রেশন ফি হবে প্রায় ২০,০০০ টাকা।

স্ট্যাম্প শুল্ক (Stamp Duty)

স্ট্যাম্প শুল্ক ছাড়া কোনো দলিল বৈধ হিসেবে গণ্য হয় না। এটি মূলত সরকারি রাজস্ব খাত।

  • স্ট্যাম্প শুল্ক সাধারণত দলিল মূল্যের ১.৫%।

  • স্ট্যাম্প কোর্ট বা অনুমোদিত স্ট্যাম্প ভেন্ডারের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয়।

উদাহরণ:
👉 ২০ লাখ টাকার দলিলে স্ট্যাম্প শুল্ক প্রায় ৩০,০০০ টাকা।

স্থানীয় সরকার কর (Local Government Tax)

এই করটি এলাকা ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

  • সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় সাধারণত ২%–৩%।

  • ইউনিয়ন বা গ্রামীণ এলাকায় অনেক সময় এই কর কম বা প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

এটি স্থানীয় প্রশাসনের রাজস্ব হিসেবে আদায় করা হয়।

উৎসে আয়কর (Withholding Tax)

জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রয়ের সময় সরকার উৎসে আয়কর আদায় করে থাকে।

  • শহর এলাকায় সাধারণত ২% থেকে ৫% পর্যন্ত হতে পারে।

  • জমির অবস্থান, শ্রেণি ও মূল্য অনুযায়ী এই হার পরিবর্তিত হয়।

এই কর সরাসরি সরকারের কোষাগারে জমা হয়।

ভ্যাট (VAT)

সব ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রযোজ্য হয় না।

  • সাধারণ জমি কেনাবেচায় ভ্যাট নেই।

  • ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপ হতে পারে।

  • ভ্যাটের হার সাধারণত ২%–৪.৫% পর্যন্ত।

অন্যান্য সরকারি ও আনুষঙ্গিক ফি

দলিল করতে গিয়ে আরও কিছু ছোট খাতে খরচ হয়, যেগুলো অনেক সময় মানুষ অবহেলা করেন।

  • ই-ফি: প্রায় ১০০ টাকা।

  • এন-ফি: দলিলের পৃষ্ঠা অনুযায়ী ২০০–৩০০ টাকা।

  • এনএন ফি: দলিল স্ক্যান ও সংরক্ষণ ফি।

  • কোর্ট ফি: সাধারণত ১০ টাকা।

  • হলফনামা/এফিডেভিট: প্রায় ৩০০ টাকা।

মোট দলিল রেজিস্ট্রেশন খরচ কত হতে পারে?

সব খাত মিলিয়ে সাধারণভাবে বলা যায়—

  • মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় দলিল মূল্যের ৮% থেকে ১০% পর্যন্ত।

  • এলাকা ও সম্পত্তির ধরন অনুযায়ী এই হার কম-বেশি হতে পারে।

উদাহরণ:
👉 ৩০ লাখ টাকার একটি জমির ক্ষেত্রে মোট সরকারি খরচ হতে পারে প্রায় ২.৫–৩ লাখ টাকা।

দলিল রেজিস্ট্রেশন করার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

বাংলাদেশে দলিল সংক্রান্ত প্রতারণা নতুন কিছু নয়। তাই কিছু বিষয়ে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি।

  • সব ফি সরকারি রসিদের মাধ্যমে পরিশোধ করুন।

  • দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির ওপর নির্ভর করবেন না।

  • দলিল লেখক যেন লাইসেন্সধারী হন তা নিশ্চিত করুন।

  • দলিল শেষ হওয়ার পর অবশ্যই নামজারি করুন।

  • জমির খতিয়ান, দাগ ও মৌজা ভালোভাবে যাচাই করুন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্ন ১: দলিল রেজিস্ট্রেশন না করলে কী হবে?
উত্তর: আইনগতভাবে আপনি জমির মালিক হবেন না এবং ভবিষ্যতে বড় আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন।

প্রশ্ন ২: ২০২৬ সালে কি দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো হয়েছে?
উত্তর: বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও কিছু ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয়ের কারণে খরচ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।

প্রশ্ন ৩: জমি ও ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন খরচ কি এক?
উত্তর: না, ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও অতিরিক্ত কিছু খরচ যুক্ত হতে পারে।

প্রশ্ন ৪: দলিল করার পর কোন কাজটি সবচেয়ে জরুরি?
উত্তর: দলিলের পরপরই নামজারি করা সবচেয়ে জরুরি।

উপসংহার

দলিল রেজিস্ট্রেশন হলো জমি বা ফ্ল্যাট কেনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২০২৬ সালে এসে সরকারিভাবে নির্ধারিত ফি ও কর সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে আপনি সহজেই অতিরিক্ত খরচ ও প্রতারণা এড়িয়ে চলতে পারবেন। জমি কেনার আগে শুধু দাম নয়, মোট রেজিস্ট্রেশন খরচ হিসাব করে পরিকল্পনা করাই একজন সচেতন নাগরিকের কাজ।

সঠিক তথ্য, ধৈর্য এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেই জমি বা ফ্ল্যাট কেনা হবে নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-জমির মামলা থেকে বাঁচতে আগে থেকেই যেসব কাজ করবেন

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now