বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘বয়স্ক ভাতা’ এখন আরও সহজ ও ঝামেলামুক্তভাবে পাওয়া যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই ভাতা সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, ফলে ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন আর নেই।
আরও পড়ুন-মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন করার উপায়
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে চালু হওয়া এই বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল দুস্থ, উপার্জনহীন বা স্বল্প আয়ের প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান। আগে এই ভাতা পেতে বয়স্কদের ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তুলতে হতো, যা তাদের জন্য ছিল বেশ কষ্টসাধ্য।
বর্তমানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। ২০২১ সালের পর থেকে সরকার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)-এর মাধ্যমে ভাতা বিতরণ শুরু করে। এখন বিকাশ, নগদ, রকেট (ডাচ-বাংলা ব্যাংক), শিওর ক্যাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজেই ভাতার টাকা উত্তোলন করা যাচ্ছে।
মোবাইল ব্যাংকিং মূলত এমন একটি সেবা, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে টাকা লেনদেন, ব্যালেন্স চেক, বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন। এতে করে ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন কমে যায় এবং সময় ও শ্রম—দুটোই সাশ্রয় হয়।
বয়স্ক ভাতা উত্তোলনের জন্য প্রথমে উপকারভোগীকে অনলাইনে আবেদন করে নির্বাচিত হতে হয় এবং একটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। এরপর সরকার থেকে ভাতার টাকা পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরে একটি এসএমএস নোটিফিকেশন আসে। সেই নোটিফিকেশন পাওয়ার পর নিকটস্থ এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে সহজেই টাকা উত্তোলন করা যায়।
ভাতার টাকা চেক করার প্রক্রিয়াও বেশ সহজ। উদাহরণ হিসেবে বিকাশ ব্যবহারকারীরা *২৪৭# ডায়াল করে “My bKash” অপশনে গিয়ে ব্যালেন্স চেক করতে পারেন। একইভাবে অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবাতেও অনুরূপ পদ্ধতিতে ব্যালেন্স দেখা যায়।
বর্তমানে একজন উপকারভোগী প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে ভাতা পান। তবে এই অর্থ মাসে মাসে না দিয়ে প্রতি তিন মাস অন্তর একত্রে ১৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়।
বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা রয়েছে। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন থাকতে হবে এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স ৬৫ বছর ও নারীর ক্ষেত্রে ৬২ বছর হতে হবে। পাশাপাশি তার বার্ষিক আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং স্থানীয় বাছাই কমিটির মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হবে।
অন্যদিকে, সরকারি পেনশনভোগী, ভিজিডি কার্ডধারী বা অন্য কোনো সরকারি ভাতা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই সুবিধা পাবেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বেড়েছে। একই সঙ্গে বয়স্ক মানুষদের ভোগান্তিও অনেক কমেছে।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তির সহায়তায় বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি এখন আরও কার্যকর ও জনবান্ধব হয়ে উঠেছে। ঘরে বসেই সহজে ভাতা গ্রহণের এই সুবিধা দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।
আরও পড়ুন-মাতৃত্বকালীন ভাতা অনলাইন আবেদন করার নিয়ম
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉টেক নিউজের সকল খবর সবার আগে পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










