দেশের নিম্নআয়ের মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে পৌঁছে দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ–এর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সারাদেশে নতুন করে টিসিবি ডিলার নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২ হাজার ৫৬৯টি ডিলার পদ খালি রয়েছে, যা পূরণ করতে নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় ডিলার নিয়োগ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছিল। অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা নির্ধারিত স্থানে পণ্য বিক্রি না করে কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে নতুন করে ডিলারশিপ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন-টিসিবি’র ডিলার তালিকা ২০২৬ জেলা ভিত্তিক পিডিএফ
কেন নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় টিসিবির পণ্য বিতরণ কার্যক্রম অনেক জায়গায় সীমিত হয়ে পড়েছে। কিছু ডিলার বিভিন্ন কারণে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন না বা আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) এবং টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রম অনেক এলাকায় ব্যাহত হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নীতিমালার আওতায় প্রতি ১ হাজার ৫০০ জন মানুষের জন্য একজন ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পণ্য বিতরণ ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।
পুরোনো নীতিমালা বাতিল
২০২৫ সালের নতুন নীতিমালায় আগের ডিলার নিয়োগের গাইডলাইন বাতিল করা হয়েছে। তবে যেসব ডিলারের চুক্তির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি, তারা মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কিন্তু পুরোনো লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে না। নতুন করে আবেদন করে লাইসেন্স নিতে হবে।
আবেদন করার নিয়ম
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, টিসিবির ডিলার হতে হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের জেলা প্রশাসকের সুপারিশের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে।
ডিলারশিপের জন্য আবেদন করতে হলে সাধারণত নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে—
-
টিসিবির নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করতে হবে।
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে হবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে।
-
জেলা প্রশাসন আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করে সুপারিশ করবে।
-
টিসিবি কর্তৃপক্ষ যাচাই শেষে ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ডিলারশিপ বাতিল ও প্রতিস্থাপনের নিয়ম
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ডিলার যদি স্বেচ্ছায় ডিলারশিপ ছেড়ে দিতে চান, তাহলে যথাযথ কারণ উল্লেখ করে টিসিবির চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীর কোনো বকেয়া দায় না থাকলে ডিলারশিপ বাতিলের আদেশ দেওয়া যাবে।
এছাড়া কোনো ডিলার মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারের একজন সদস্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে পারবেন। জেলা প্রশাসকের সুপারিশের ভিত্তিতে সেই ডিলারশিপ প্রতিস্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক সময় দেখা গেছে, কার্ডধারীদের পণ্য না দিয়ে ডিলাররা নিজেদের পরিচিতদের কাছে পণ্য বিক্রি করছেন অথবা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
সরকার জানিয়েছে, এসব অনিয়ম বন্ধ করতে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। প্রয়োজনে অভিযুক্ত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং নতুন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
টিসিবির ভূমিকা
সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে থাকে। সাধারণত বাজারে যখন তেল, চিনি, ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, তখন টিসিবি তালিকাভুক্ত ডিলারদের মাধ্যমে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি করে। এতে নিম্নআয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা গেলে টিসিবির পণ্য বিতরণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
আরও পড়ুন- টিসিবির পণ্য কোথায় পাওয়া যায়?
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







