মানুষ হিসেবে ভুল করা আমাদের স্বভাব। কিন্তু সেই ভুল থেকে ফিরে এসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করাই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় গুণ। ইসলামে তওবা ও ইস্তেগফারের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, আল্লাহ তাআলা নিজেই বান্দাদের বারবার তাঁর কাছে ফিরে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন। ইস্তেগফারের বহু দোয়ার মধ্যে সাইয়েদুল ইস্তেগফার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ দোয়া হিসেবে পরিচিত।
আরও পড়ুন-রমজানের প্রথম রাতে আসমানে যে চারটি মহিমান্বিত ঘোষণা দেওয়া হয়
সাইয়েদুল ইস্তেগফার কী
আরবি ভাষায় “সাইয়েদ” অর্থ নেতা বা শ্রেষ্ঠ এবং “ইস্তেগফার” অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা। সে হিসেবে সাইয়েদুল ইস্তেগফার অর্থ হলো—ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া। এই দোয়ায় একজন বান্দা আল্লাহর একত্ব স্বীকার করেন, নিজের দাসত্ব ঘোষণা করেন এবং নিজের গোনাহের কথা স্বীকার করে একমাত্র আল্লাহর কাছেই ক্ষমা চান।
সাইয়েদুল ইস্তেগফারের ফজিলত
সাইয়েদুল ইস্তেগফারের ফজিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে বলেছেন—
“যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দো‘আ পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে, সে জান্নাতী হবে।”
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, এই দোয়াটি শুধু গোনাহ মাফের মাধ্যমই নয়, বরং জান্নাত লাভেরও একটি মহান উপায়।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার (আরবি দোয়া)
اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ
সাইয়েদুল ইস্তেগফারের বাংলা উচ্চারণ
আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা।খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু।আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা‘তু।আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী।ফাগফিরলী, ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।
সাইয়েদুল ইস্তেগফারের বাংলা অর্থ
হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা।তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার দাস।
আমি আমার সাধ্যমতো তোমার সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর দৃঢ় আছি।আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।আমি আমার ওপর তোমার দেওয়া নিয়ামতের স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আমার গোনাহের কথাও স্বীকার করছি।অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।নিশ্চয়ই তুমি ছাড়া আর কেউ পাপসমূহ ক্ষমা করতে পারে না।
কখন সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়া উত্তম
এই দোয়াটি নির্দিষ্ট কিছু সময়ে পড়া বিশেষভাবে ফজিলতপূর্ণ। সহজভাবে বলা যায়—
-
প্রতিদিন সকালে (ফজরের পর)।
-
প্রতিদিন সন্ধ্যায় (মাগরিবের পর)।
-
তওবা ও আত্মশুদ্ধির নিয়তে যেকোনো সময়।
-
গোনাহের অনুশোচনায় চোখে পানি আসার সময়।
কেন এই দোয়াটি এত গুরুত্বপূর্ণ
এই দোয়াটির গুরুত্ব বোঝা যায় এর বিষয়বস্তু থেকেই। এখানে—
-
আল্লাহর একত্বের ঘোষণা রয়েছে।
-
বান্দার দাসত্বের স্বীকৃতি রয়েছে।
-
নিজের গোনাহ স্বীকার করার শিক্ষা রয়েছে।
-
একমাত্র আল্লাহর কাছেই ক্ষমা চাওয়ার আকুতি রয়েছে।
এই চারটি বিষয় একসঙ্গে থাকায় এটি ইস্তেগফারের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ দোয়া।
একজন মুসলমানের জীবনে সাইয়েদুল ইস্তেগফারের প্রভাব
নিয়মিত এই দোয়া পাঠ করলে—
-
গোনাহ মাফ হওয়ার আশা জাগে।
-
অন্তরে প্রশান্তি আসে।
-
আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হয়।
-
মৃত্যুর সময় ঈমানের ওপর থাকার তাওফিক পাওয়া যায়।
উপসংহার
সাইয়েদুল ইস্তেগফার শুধু মুখে পড়ার দোয়া নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণের ঘোষণা। যে বান্দা আন্তরিকতার সঙ্গে এই দোয়া পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার ভুল ক্ষমা করে দেন এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এই দোয়াটি মুখস্থ করা এবং প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে পাঠ করা।
আরও পড়ুন-স্বপ্নে অজু করতে দেখলে কি হয় ইসলামী ব্যাখ্যা ও অর্থ
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









