মধ্যপ্রাচ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। সৌদি আরব ও কাতার তাদের রাজধানী রিয়াদ ও দোহার মধ্যে উচ্চগতির বুলেট ট্রেন চালুর জন্য একটি বৃহৎ রেল প্রকল্প অনুমোদন করেছে। দুই দেশের মধ্যে দ্রুত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মধ্য দিয়ে উচ্চগতির বৈদ্যুতিক এই রেল প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। দুই দেশের পরিবহন মন্ত্রীরাই নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
আরও দেখুন-মোটরসাইকেল কতদিন না চালালে ইঞ্জিন নষ্ট হয়? জানুন সঠিক সময়সীমা ও সমাধান
রিয়াদ থেকে দোহা, এক রেললাইনে দুই রাজধানী
প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন রুটটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৭৮৫ কিলোমিটার। এই রেললাইন সরাসরি রিয়াদ ও দোহাকে সংযুক্ত করবে। পথে সৌদি আরবের আল-হোফুফ ও দাম্মামের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে আধুনিক স্টেশন থাকবে। পাশাপাশি দুই দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সঙ্গেও রেল সংযোগ নিশ্চিত করা হবে, যা যাত্রীদের জন্য ভ্রমণকে আরও সহজ ও সময় সাশ্রয়ী করে তুলবে।
দুই ঘণ্টায় যাত্রা শেষ
এই প্রকল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ট্রেনের গতি। বুলেট ট্রেনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম হবে। ফলে রিয়াদ থেকে দোহা যেতে যেখানে বর্তমানে অনেক বেশি সময় লাগে, সেখানে ট্রেনে যাত্রার সময় কমে আসবে মাত্র দুই ঘণ্টায়। এটি ব্যবসায়ী, পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য বড় সুবিধা এনে দেবে।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় প্রভাব
এই উচ্চগতির রেল প্রকল্প দুই দেশের অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব ও কাতারের সম্মিলিত জিডিপিতে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ কোটি রিয়াল সমপরিমাণ অর্থনৈতিক অবদান যোগ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ও সহায়ক সেবায় বিপুলসংখ্যক দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনবল যুক্ত হবে।
ছয় বছরে নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ
প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হতে আনুমানিক ছয় বছর সময় লাগবে। পুরো রেলব্যবস্থাটি হবে বৈদ্যুতিক ও পরিবেশবান্ধব, যা কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। টেকসই উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এই প্রকল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছে দুই দেশ।
আঞ্চলিক সংযোগে নতুন দিগন্ত
বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ–দোহা বুলেট ট্রেন শুধু দুটি রাজধানীকে নয়, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে এই রেল নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হয়ে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশকেও যুক্ত করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ৩০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলা এই বুলেট ট্রেন প্রকল্প মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন-পেট্রোল পাম্পে ১০০, ২০০ বা ৫০০ টাকার তেল ভরলে কীভাবে কম তেল দেওয়া হয়
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









