বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবন্ধী ভাতা অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা। প্রতিবছরের মতো ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটেও সরকার এই খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। নতুন বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে করে দেশের লাখো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা করা হয়েছে, আগে কত ছিল, কারা এই ভাতা পাবেন, কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং বাজেটে এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব কী—এসব বিষয় নিয়েই এই পূর্ণাঙ্গ ব্লগ পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
আরও পড়ুন-প্রতিবন্ধী ভাতা কোন মোবাইল ব্যাংকিং এ আসে জানেন?
নতুন বাজেটে প্রতিবন্ধী ভাতার সর্বশেষ আপডেট
২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুযায়ী বাংলাদেশে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার হার বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নতুন ভাতার পরিমাণ
-
বর্তমানে মাসিক ভাতা: ৯০০ টাকা।
-
আগে ছিল: মাসিক ৮৫০ টাকা।
অর্থাৎ, প্রতি মাসে ভাতা ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ন্যূনতম জীবনযাপনের ব্যয় সামাল দিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ভাতা কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
কেন প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি করা হলো
বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম, চিকিৎসা ব্যয় এবং জীবনযাত্রার সামগ্রিক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা, সহায়ক যন্ত্রপাতি এবং যাতায়াত খরচ তুলনামূলক বেশি।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার—
-
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করতে।
-
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নত করতে।
-
অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমাতে।
প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে উপকারভোগীর লক্ষ্যমাত্রা
নতুন বাজেটে শুধু ভাতার পরিমাণই বাড়ানো হয়নি, বরং উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
উপকারভোগীর সংখ্যা
-
২০২৫–২৬ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা: ৩৪.৫০ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।
এর মাধ্যমে আরও নতুন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে এই ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবন্ধী ভাতা কী
প্রতিবন্ধী ভাতা হলো সরকারের একটি নিয়মিত আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি, যা অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রদান করা হয়। এটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির (Social Safety Net Programme) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই ভাতা মূলত দেওয়া হয়—
-
শারীরিক প্রতিবন্ধী।
-
মানসিক প্রতিবন্ধী।
-
দৃষ্টি, শ্রবণ বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।
-
একাধিক প্রতিবন্ধকতাসম্পন্ন ব্যক্তি।
কারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার যোগ্য
সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এই ভাতা পান না। সরকার নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার ভিত্তিতে ভাতা প্রদান করে।
প্রধান যোগ্যতা শর্ত
-
আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
-
সরকার স্বীকৃত প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ ও পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
-
পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হতে হবে।
-
বার্ষিক আয় সরকার নির্ধারিত সীমার নিচে হতে হবে।
-
অন্য কোনো সমমানের সরকারি ভাতা নিয়মিত গ্রহণ না করা।
👉 অগ্রাধিকার দেওয়া হয়—
-
গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে।
-
পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকলে।
-
একাধিক প্রতিবন্ধকতা থাকলে।
প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ ও পরিচয়পত্র কেন জরুরি
প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য সুবর্ণ কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্ট। এই কার্ডের মাধ্যমেই সরকার নিশ্চিত হয় যে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে প্রতিবন্ধী এবং ভাতার যোগ্য।
সুবর্ণ কার্ডে উল্লেখ থাকে—
-
প্রতিবন্ধিতার ধরন।
-
প্রতিবন্ধিতার মাত্রা।
-
ব্যক্তির পরিচয় ও ঠিকানা।
এই কার্ড ছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন গ্রহণ করা হয় না।
প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া
প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন করা যায় দুইভাবে—
১. অনলাইনে আবেদন
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যায়। এখানে আবেদনকারী নিজের তথ্য দিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারেন।
২. স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে
নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে সরাসরি আবেদন করা যায়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
-
প্রতিবন্ধী সনদ (সুবর্ণ কার্ড)।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন।
-
পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
-
আয় সংক্রান্ত তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
ভাতা কীভাবে ও কখন দেওয়া হয়
প্রতিবন্ধী ভাতা সাধারণত তিন মাসে একবার একসাথে প্রদান করা হয়।
ভাতা প্রদানের পদ্ধতি
-
ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে।
-
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (নির্ধারিত ক্ষেত্রে)।
বর্তমানে সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদান করায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বেড়েছে।
ভাতা পেতে দেরি হলে করণীয়
অনেক সময় নাম তালিকাভুক্ত থাকলেও ভাতা দেরিতে আসে। এ ক্ষেত্রে—
-
স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করুন।
-
নিজের নাম তালিকায় আছে কি না যাচাই করুন।
-
ব্যাংক বা মোবাইল একাউন্ট সঠিক আছে কি না নিশ্চিত করুন।
প্রশ্ন–উত্তর
প্রশ্ন: নতুন বাজেটে প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা করা হয়েছে?
উত্তর: ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা মাসিক ৯০০ টাকা করা হয়েছে।
প্রশ্ন: আগে প্রতিবন্ধী ভাতা কত ছিল?
উত্তর: আগে মাসিক ভাতা ছিল ৮৫০ টাকা।
প্রশ্ন: সবাই কি এই ভাতা পাবে?
উত্তর: না, নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে ভাতা পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: সুবর্ণ কার্ড ছাড়া কি আবেদন করা যাবে?
উত্তর: না, সুবর্ণ কার্ড বাধ্যতামূলক।
উপসংহার
২০২৫–২৬ অর্থবছরের নতুন বাজেটে প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। মাসিক ভাতা ৯০০ টাকা করা এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। যারা এই ভাতার যোগ্য, তারা যেন সঠিক নিয়মে আবেদন করেন এবং নিজেদের তথ্য হালনাগাদ রাখেন—তাহলেই এই সরকারি সহায়তার সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন-প্রতিবন্ধী ভাতা মোবাইলের কোন ব্যাংকিং এ দেওয়া হয়?
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









