বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য ভোটার আইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID) এখন আর শুধু ভোট দেওয়ার কাগজ নয়—এটি হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। পাসপোর্ট করা বা নবায়ন, দূতাবাসের সেবা গ্রহণ, ব্যাংকিং কার্যক্রম, জমি–জমা বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কাজ—সব ক্ষেত্রেই ভোটার আইডির তথ্য সঠিক থাকা বাধ্যতামূলক।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, বহু প্রবাসীর ভোটার আইডি কার্ডে নাম, জন্ম তারিখ, পিতা–মাতার নাম, ঠিকানা কিংবা ছবি সংক্রান্ত ভুল তথ্য রয়েছে। দেশে থাকলে নির্বাচন অফিসে গিয়ে এসব সংশোধন তুলনামূলক সহজ হলেও, প্রবাসীদের কাছে বিষয়টি অনেক সময় জটিল ও বিভ্রান্তিকর মনে হয়।
এই ব্লগ পোস্টে আমরা আপডেট নিয়ম অনুযায়ী, খুব সহজ ও বাস্তবভিত্তিক ভাষায় জানবো—প্রবাসীরা কীভাবে দেশে না এসেই তাদের ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংশোধন করতে পারবেন।
আরও পড়ুন- ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল স্মার্ট সমাধান(BD অ্যাপ)
প্রবাসীদের জন্য ভোটার আইডি সংশোধন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ভোটার আইডি কার্ডে ভুল তথ্য থাকলে প্রবাসীরা যেসব সমস্যায় পড়েন—
-
পাসপোর্ট নবায়নে জটিলতা।
-
বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে সেবা পেতে দেরি।
-
ব্যাংক হিসাব খোলা বা লেনদেনে সমস্যা।
-
দেশে জমি, ফ্ল্যাট বা সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজে বাধা।
-
সরকারি অনলাইন সেবা নিতে অসুবিধা।
👉 তাই প্রবাসীদের জন্য NID–এর তথ্য সঠিক ও হালনাগাদ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রবাসীরা ভোটার আইডিতে কোন কোন তথ্য সংশোধন করতে পারেন?
প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাধারণত নিচের তথ্যগুলো সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারেন—
-
নামের বানান (বাংলা ও ইংরেজি)।
-
পিতা ও মাতার নাম।
-
জন্ম তারিখ।
-
লিঙ্গ।
-
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা।
-
ছবি ও স্বাক্ষর।
-
বৈবাহিক অবস্থা।
⚠️ মনে রাখতে হবে, জন্ম তারিখ বা নামের বড় পরিবর্তন হলে যাচাই প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ হয়।
প্রবাসীদের ভোটার আইডি কার্ডের ইনফর্মেশন সংশোধন করার নিয়ম (আপডেট)
বর্তমানে প্রবাসীদের জন্য ভোটার আইডি সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয় অনলাইন ভিত্তিতে, যা নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
এখন ধাপে ধাপে পুরো নিয়মটি দেখে নেওয়া যাক।
ধাপ–১: নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল NID ওয়েবসাইটে প্রবেশ
প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে প্রবেশ করুন—
👉 https://services.nidw.gov.bd
এটি জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত একমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
ধাপ–২: NID অ্যাকাউন্টে লগইন বা নতুন রেজিস্ট্রেশন
-
আগে অ্যাকাউন্ট থাকলে NID নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
-
না থাকলে “Register” অপশনে গিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলুন
-
মোবাইল নম্বরে আসা OTP দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন
👉 প্রবাসীরাও এই পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।
ধাপ–৩: “তথ্য সংশোধন” অপশন নির্বাচন
লগইন করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে—
👉 “তথ্য সংশোধন (Correction)” অপশনে ক্লিক করুন।
এখানে আপনি কোন কোন তথ্য সংশোধন করতে চান, তা নির্বাচন করতে পারবেন।
ধাপ–৪: সংশোধিত তথ্য পূরণ ও ডকুমেন্ট আপলোড
এই ধাপে—
-
ভুল তথ্যের জায়গায় সঠিক তথ্য লিখুন।
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন।
সাধারণত যেসব ডকুমেন্ট লাগে—
-
পাসপোর্টের স্ক্যান কপি।
-
জন্ম নিবন্ধন সনদ।
-
শিক্ষাগত সনদ (যদি থাকে)।
-
ম্যারেজ সার্টিফিকেট (বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে)।
-
দূতাবাস প্রদত্ত সনদ (প্রযোজ্য হলে)।
👉 ডকুমেন্ট অবশ্যই পরিষ্কার, রঙিন ও নির্ধারিত সাইজের হতে হবে।
ধাপ–৫: সংশোধন ফি পরিশোধ (যদি প্রযোজ্য হয়)
সব সংশোধনে ফি লাগে না।
-
ছোটখাটো সংশোধন অনেক সময় ফ্রি।
-
বড় সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি দিতে হয়।
ফি থাকলে অনলাইনে নির্ধারিত পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।
ধাপ–৬: আবেদন সাবমিট ও ট্র্যাকিং নম্বর সংগ্রহ
সব তথ্য ঠিক থাকলে—
-
আবেদন সাবমিট করুন।
-
একটি Tracking ID পাবেন।
-
এই নম্বর দিয়ে আবেদন অগ্রগতি দেখা যাবে।
👉 ট্র্যাকিং নম্বরটি অবশ্যই সংরক্ষণ করুন।
ধাপ–৭: নির্বাচন কমিশন ও দূতাবাসের যাচাই
প্রবাসীদের ক্ষেত্রে—
-
নির্বাচন কমিশন আবেদন যাচাই করে।
-
প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
এই ধাপে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে।
সংশোধিত ভোটার আইডি কবে পাওয়া যাবে?
সাধারণত—
-
ছোট সংশোধনে: ৩০–৬০ দিন।
-
বড় সংশোধনে: ৬০–৯০ দিন বা তার বেশি।
সময় নির্ভর করে যাচাইয়ের জটিলতার ওপর।
প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হেল্পলাইন তথ্য
প্রবাসীরা প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন—
-
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের NID হেল্পলাইন।
-
নিজ নিজ দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন।
-
নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ইমেইল সাপোর্ট।
⚠️ দালাল বা অননুমোদিত মাধ্যম ব্যবহার না করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সাধারণ সমস্যা ও করণীয় (হেল্পলাইন স্টাইল)
সমস্যা:
-
অনলাইনে লগইন হচ্ছে না।
-
ডকুমেন্ট আপলোডে সমস্যা।
-
দীর্ঘদিন স্ট্যাটাস অপরিবর্তিত।
করণীয়:
-
অন্য ব্রাউজার ব্যবহার করুন।
-
ডকুমেন্ট সাইজ ও ফরম্যাট ঠিক করুন।
-
প্রয়োজনে দূতাবাসে যোগাযোগ করুন।
প্রশ্ন–উত্তর
প্রবাসীরা কি দেশে না এসেই ভোটার আইডি সংশোধন করতে পারবেন?
হ্যাঁ, অধিকাংশ সংশোধন অনলাইনে করা যায়।
জন্ম তারিখ সংশোধন করা কি কঠিন?
হ্যাঁ, এটি বড় সংশোধন—সময় ও কাগজ বেশি লাগে।
সংশোধনের জন্য কি দূতাবাসে যেতে হয়?
কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে।
এক আবেদনেই একাধিক তথ্য সংশোধন করা যাবে?
হ্যাঁ, সম্ভব।
দালালের মাধ্যমে করলে কি দ্রুত হবে?
না, বরং ঝুঁকি ও সমস্যা বাড়ে।
উপসংহার
প্রবাসীদের ভোটার আইডি কার্ডের ইনফর্মেশন সংশোধন করার নিয়ম (আপডেট) সঠিকভাবে জানা থাকলে বিষয়টি আর জটিল থাকে না। এখন অনলাইনে আবেদন করে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকভাবে আপলোড করলে প্রবাসীরাও সহজেই তাদের NID তথ্য সংশোধন করতে পারেন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-এখন আর থানায় জিডি নয়! হারানো NID অনলাইনে পাবেন সহজেই
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


