আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

প্রবাসীরা কিভাবে স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড হাতে পাবেন?

February 11, 2026 3:31 PM
প্রবাসীরা কিভাবে স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড হাতে পাবেন

বর্তমান সরকারের ঘোষণার পর বাংলাদেশে নতুন করে স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের ভেতরে বসবাসকারী নাগরিকদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও এই স্মার্ট আইডি কার্ড পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক প্রবাসীই জানেন না—তারা কীভাবে, কোথা থেকে এবং কোন প্রক্রিয়ায় স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করবেন।

এই ব্লগ পোস্টে প্রবাসীদের জন্য স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।

আরও পড়ুন- ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল স্মার্ট সমাধান(BD অ্যাপ)

স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড কী?

স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড হলো একটি আধুনিক জাতীয় পরিচয়পত্র, যেখানে একটি বিশেষ ডিজিটাল চিপ সংযুক্ত থাকে। এই কার্ডে একজন নাগরিকের পরিচয়, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং জাতীয় পরিচয় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকে। এটি আগের ল্যামিনেটেড বা সাধারণ এনআইডি কার্ডের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকর।

প্রবাসীরা কেন স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড পাবেন?

বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হলো—দেশের ভেতরে ও বাইরে অবস্থানরত সকল যোগ্য নাগরিককে একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের আওতায় আনা।
প্রবাসীদের জন্য স্মার্ট আইডি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ কারণ—

  • বিদেশে বসবাসের সময় পরিচয় প্রমাণে সুবিধা হয়।

  • ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোটাধিকার চালু হলে এটি বাধ্যতামূলক হবে।

  • ব্যাংকিং, দূতাবাস ও সরকারি সেবায় ব্যবহারযোগ্য।

  • জাতীয় পরিচয় সংক্রান্ত জটিলতা কমে যায়।

কারা প্রবাসী হিসেবে স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড পাবেন?

প্রবাসী হিসেবে স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড পাওয়ার জন্য আপনাকে—

  • অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

  • আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।

  • আপনার নামে জাতীয় পরিচয় নম্বর (পুরাতন বা নতুন) থাকতে পারে অথবা নতুন করে নিবন্ধনযোগ্য হতে হবে।

প্রবাসীরা কীভাবে স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করবেন?

প্রবাসীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

ধাপ ১: ভোটার তথ্য যাচাই বা নিবন্ধন

প্রথমে যাচাই করা হয়—আপনি আগে ভোটার হয়েছেন কিনা।

  • যদি আপনি আগে বাংলাদেশে ভোটার হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার তথ্য নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজে থাকবে।

  • যদি আগে ভোটার না হয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে প্রবাসী হিসেবে নতুন ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় যেতে হবে।

নতুন ভোটার হলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, জন্ম তথ্য, ঠিকানা ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হয়।

ধাপ ২: বায়োমেট্রিক ও ছবি প্রদান

স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ডের জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য—

  • প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটে নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত হতে হয়

  • সেখানে আপনার ছবি, আঙুলের ছাপ ও প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হয়।

  • অনেক ক্ষেত্রে আগেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া লাগে।

যেসব দেশে স্থায়ীভাবে এই সুবিধা নেই, সেখানে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ টিম নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে।

ধাপ ৩: তথ্য যাচাই ও স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত

বায়োমেট্রিক ও তথ্য সংগ্রহের পর—

  • আপনার তথ্য বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠানো হয়।

  • যাচাই-বাছাই শেষে স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড প্রস্তুত করা হয়।

  • এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আপনার স্মার্ট কার্ড বিতরণের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রবাসীরা কীভাবে হাতে স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড পাবেন?

প্রবাসীদের হাতে স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড পৌঁছানোর কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে—

১. দূতাবাস বা মিশন থেকে সংগ্রহ

সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো—

  • নির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটে উপস্থিত হয়ে।

  • পরিচয় যাচাইয়ের পর নিজ হাতে স্মার্ট আইডি কার্ড গ্রহণ করা।

২. দেশে অবস্থানকালে সংগ্রহ

কিছু ক্ষেত্রে—

  • প্রবাসী ব্যক্তি দেশে এলে।

  • নিজ এলাকার উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিস থেকে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে পারেন।

৩. বিশেষ বিতরণ ক্যাম্প

কিছু দেশে প্রবাসী বেশি হলে—

  • বিশেষ বিতরণ ক্যাম্পের মাধ্যমে একসাথে অনেকের কার্ড বিতরণ করা হয়।

স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড পেতে কত সময় লাগে?

সাধারণত—

  • বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগতে পারে।

  • দেশ, আবেদনকারীর সংখ্যা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর সময় নির্ভর করে।

যদি তথ্য ভুল থাকে তাহলে কী করবেন?

যদি স্মার্ট আইডি কার্ডে—

  • নামের বানান।

  • জন্ম তারিখ।

  • পিতামাতার নাম ভুল থাকে, তাহলে সংশোধনের জন্য আলাদা আবেদন করতে হয়। সংশোধন শেষ হলে নতুন করে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

  • আবেদন করার সময় সব তথ্য সঠিকভাবে দিন।

  • দূতাবাসের ঘোষণা ও নোটিশ নিয়মিত খেয়াল করুন।

  • বায়োমেট্রিক দেওয়ার দিন পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজ সঙ্গে রাখুন।

  • ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন—কার্ড অবশ্যই দেওয়া হবে।

উপসংহার

স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি একজন নাগরিকের রাষ্ট্রের সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগের প্রতীক। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে আরও সহজ ও বিস্তৃত হচ্ছে। সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে এবং ধাপে ধাপে আবেদন সম্পন্ন করলে প্রবাসীরাও নিশ্চিন্তে স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড হাতে পেতে পারেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-এখন আর থানায় জিডি নয়! হারানো NID অনলাইনে পাবেন সহজেই

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now