ঢাকা পিজি হাসপাতাল, যার সরকারি নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU), বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু প্রথমবার যারা আসেন, তাদের মনে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন থাকে—পিজি হাসপাতালে টিকেটের দাম কত, আউটডোরে কত টাকা লাগে, ইনডোরে ভর্তি হলে কত খরচ হয়, আর পুরো প্রক্রিয়াটা কীভাবে হয়।
অনেক রোগী ও স্বজন সঠিক তথ্য না জানার কারণে অযথা দালাল, অতিরিক্ত খরচ কিংবা বিভ্রান্তির শিকার হন। তাই এই পোস্টে আমরা ২০২৬ সালের সর্বশেষ বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে পিজি হাসপাতালের টিকেটের মূল্য, আউটডোর ও ইনডোর ফি তালিকা এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য সহজ ভাষায় সাজিয়ে তুলে ধরেছি, যেন বাংলাদেশের যেকোনো সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারেন।
আরও পড়ুন- পিজি হাসপাতালের ডাক্তারদের তালিকা
ঢাকা পিজি হাসপাতাল সম্পর্কে সংক্ষেপে
পিজি হাসপাতাল ঢাকা শহরের শাহবাগ এলাকায় অবস্থিত। এটি একটি সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, যেখানে—
-
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগী দেখেন।
-
জটিল ও সাধারণ সব ধরনের চিকিৎসা হয়।
-
আউটডোর ও ইনডোর উভয় সেবা পাওয়া যায়।
-
বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় খরচ অনেক কম।
এই কারণেই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পিজি হাসপাতাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পিজি হাসপাতালের টিকেট বলতে কী বোঝায়?
পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে প্রথমে টিকেট কাটতে হয়। এই টিকেটের মাধ্যমেই আপনি নির্দিষ্ট বিভাগের ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন। টিকেট ছাড়া সরাসরি ডাক্তারের কাছে দেখা সাধারণত সম্ভব হয় না।
টিকেট দুই ধরনের—
-
আউটডোর টিকেট (বহির্বিভাগ)।
-
ইনডোর ভর্তি সংক্রান্ত টিকেট বা ফি।
ঢাকা পিজি হাসপাতাল আউটডোর টিকেটের মূল্য
আউটডোর মানে হলো হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে সরাসরি ডাক্তার দেখানো।
২০২৬ সালে সাধারণত পিজি হাসপাতালে আউটডোর টিকেটের মূল্য—
-
সাধারণ আউটডোর টিকেট: প্রায় ১০ টাকা।
-
বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর টিকেট: প্রায় ৩০ টাকা।
-
ফলোআপ বা পুনরায় দেখানোর টিকেট: প্রায় ৫ টাকা।
👉 এই টাকার পরিমাণ সরকারি হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত এবং এটি সময় ও বিভাগভেদে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
আউটডোর টিকেট সাধারণত সকালে টিকেট কাউন্টার থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে হয়। সকাল যত আগে আসবেন, সিরিয়াল পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে।
আউটডোর টিকেট কেটে কী সুবিধা পাওয়া যায়?
আউটডোর টিকেট কাটলে আপনি—
-
নির্দিষ্ট বিভাগের ডাক্তার দেখাতে পারবেন।
-
প্রেসক্রিপশন পাবেন।
-
প্রয়োজনে টেস্টের পরামর্শ পাবেন।
-
প্রয়োজনে ইনডোরে ভর্তির রেফারেন্স পেতে পারেন।
ঢাকা পিজি হাসপাতাল ইনডোর ফি তালিকা
যখন ডাক্তার মনে করেন রোগীকে ভর্তি করা প্রয়োজন, তখন রোগীকে ইনডোরে ভর্তি করা হয়। ইনডোর খরচ সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় তুলনামূলক অনেক কম।
সাধারণভাবে পিজি হাসপাতালের ইনডোর খরচের একটি ধারণা নিচে দেওয়া হলো—
ইনডোর সাধারণ ওয়ার্ড
-
ভর্তি ফি: প্রায় ২০ টাকা।
-
দৈনিক বেড চার্জ: প্রায় ১০ টাকা।
কেবিন (নন-এসি)
-
ভর্তি ফি: প্রায় ৫০০ টাকা।
-
দৈনিক বেড চার্জ: প্রায় ২৫০ টাকা।
কেবিন (এসি)
-
ভর্তি ফি: প্রায় ৮০০ টাকা
-
দৈনিক বেড চার্জ: প্রায় ৪০০ টাকা
ICU / HDU
-
রোগীর অবস্থা ও সময় অনুযায়ী আলাদা চার্জ নির্ধারিত হয়।
👉 এখানে উল্লেখ করা টাকাগুলো আনুমানিক সরকারি রেট, যা সময় ও নীতিমালার পরিবর্তনের সঙ্গে সামান্য কম-বেশি হতে পারে।
পিজি হাসপাতালে টেস্টের খরচ কেমন?
পিজি হাসপাতালে ল্যাব টেস্টের খরচ বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় অনেক কম। যেমন—
-
রক্ত পরীক্ষা
-
প্রস্রাব পরীক্ষা
-
এক্স-রে
-
আল্ট্রাসনোগ্রাম
-
ইসিজি
-
বিভিন্ন বায়োকেমিক্যাল টেস্ট
এসব পরীক্ষার খরচ সাধারণত সরকারি রেটে নির্ধারিত হয় এবং সাধারণ মানুষের জন্য অনেকটাই সহনীয়।
পিজি হাসপাতালে টিকেট কাটার নিয়ম
পিজি হাসপাতালে টিকেট কাটার প্রক্রিয়া সাধারণত এভাবে হয়—
-
সকালেই হাসপাতালে উপস্থিত হওয়া।
-
টিকেট কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ানো।
-
নাম, বয়স, সমস্যা জানিয়ে টিকেট নেওয়া।
-
টিকেটে দেওয়া রুম নম্বরে গিয়ে ডাক্তার দেখানো।
অনেক সময় অনলাইন সিরিয়াল বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাও চালু থাকে, তবে সরাসরি লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট নেওয়াই সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি।
পিজি হাসপাতালে আউটডোর সময়সূচি
সাধারণত—
-
সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা বা ২:৩০টা পর্যন্ত আউটডোর সেবা দেওয়া হয়।
-
শুক্রবার ও সরকারি ছুটিতে আউটডোর বন্ধ থাকে।
-
তবে জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।
পিজি হাসপাতালে রোগী যাওয়ার সময় যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
-
সকালে যত তাড়াতাড়ি যাবেন, সিরিয়াল পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আগের রিপোর্ট সঙ্গে রাখুন।
-
লাইনে ধৈর্য ধরে দাঁড়ান।
-
দালালের প্রলোভনে পড়বেন না।
-
সরকারি রসিদ ছাড়া কোনো টাকা দেবেন না।
পিজি হাসপাতালের সুবিধা কেন জনপ্রিয়?
-
কম খরচে চিকিৎসা।
-
অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার।
-
উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা।
-
সরকারি নিয়ন্ত্রণ।
-
সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য।
এই কারণেই দেশের লাখো মানুষ পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।
প্রশ্ন ও উত্তর
পিজি হাসপাতালে আউটডোর টিকেটের দাম কত?
সাধারণত ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকার মধ্যে।
ফলোআপ টিকেটের দাম কত?
প্রায় ৫ টাকা।
ইনডোর ভর্তি হলে কি অনেক খরচ হয়?
না, সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় খরচ তুলনামূলক কম।
পিজি হাসপাতালে শুক্রবার কি চিকিৎসা হয়?
শুক্রবার আউটডোর বন্ধ থাকে, তবে জরুরি বিভাগ খোলা থাকে।
টেস্টের খরচ কি বেশি?
না, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় অনেক কম।
পিজি হাসপাতালে অনলাইন টিকেট পাওয়া যায়?
কিছু সময় অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু থাকে।
পিজি হাসপাতালে কেবিন পাওয়া সহজ?
রোগীর চাপ অনুযায়ী কেবিন পাওয়া যায় বা অপেক্ষা করতে হয়।
উপসংহার
ঢাকা পিজি হাসপাতাল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য একটি আশীর্বাদ। খুব অল্প খরচে এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়া যায়, যা অনেক বেসরকারি হাসপাতালে কল্পনাও করা যায় না। মাত্র ১০ থেকে ৩০ টাকার টিকেটে আউটডোরে ডাক্তার দেখানো যায়, আর ইনডোর ভর্তি হলেও খরচ তুলনামূলক অনেক কম।
তাই যারা সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা চান, তাদের জন্য পিজি হাসপাতাল একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। শুধু প্রয়োজন সঠিক নিয়ম জানা, সময়মতো আসা এবং দালাল এড়িয়ে চলা।
আরও পড়ুন-পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










