বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড (NID) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্র। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, পাসপোর্ট তৈরি, সিম নিবন্ধন, জমি রেজিস্ট্রি বা বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে এই কার্ড অপরিহার্য। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় এনআইডি কার্ডে নিজের নামের বানান ভুল থাকে বা ইংরেজি ও বাংলার মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকে। এমন পরিস্থিতিতে নাম সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয়।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সেবার মাধ্যমে খুব সহজেই ভোটার আইডি কার্ডের নাম পরিবর্তনের আবেদন করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাধারণ নাম সংশোধনের জন্য মাত্র ২৩০ টাকা ফি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব। ফলে এখন আর এনআইডি অফিসে ঘুরে বেড়ানোর প্রয়োজন নেই; ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে আবেদন করা যায়।
আরও পড়ুন-১৬ বছরেই এনআইডি মিলবে ভোটাধিকার থাকবে ১৮ তে
এনআইডি কার্ডে নাম পরিবর্তন কেন প্রয়োজন হয়
অনেক নাগরিকের এনআইডি কার্ডে বিভিন্ন কারণে নামের ভুল দেখা যায়। যেমন—
-
নামের বানান ভুল।
-
বাংলা ও ইংরেজি নামের অমিল।
-
স্কুল সনদের সঙ্গে নাম না মেলা।
-
ডাকনাম বা ভুল বানান ব্যবহার হওয়া।
এই ধরনের সমস্যা থাকলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই এনআইডি কার্ডে নামের ভুল থাকলে দ্রুত সংশোধন করা উচিত।
শুধু নাম পরিবর্তনের জন্য ফি কত
জাতীয় পরিচয়পত্রে বিভিন্ন ধরনের সংশোধনের জন্য আলাদা ফি নির্ধারিত রয়েছে। শুধুমাত্র নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত—
-
প্রথমবার সংশোধন ফি → ২৩০ টাকা।
এই ফি অনলাইনে পরিশোধ করা যায়। মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে সহজেই ফি জমা দেওয়া সম্ভব।
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের নাম পরিবর্তন করার নিয়ম
বর্তমানে এনআইডি সংশোধনের আবেদন অনলাইনে করা সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া দেওয়া হলো।
ধাপ ১: এনআইডি সেবার ওয়েবসাইটে প্রবেশ
প্রথমে মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবার নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
যদি আগে অ্যাকাউন্ট তৈরি না করে থাকেন, তাহলে প্রথমে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
ধাপ ২: অ্যাকাউন্ট তৈরি ও লগইন
নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে সাধারণত নিচের তথ্য প্রয়োজন হয়—
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর।
-
জন্মতারিখ।
-
মোবাইল নম্বর।
-
ফেস ভেরিফিকেশন (কিছু ক্ষেত্রে)।
অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে লগইন করতে হবে।
ধাপ ৩: প্রোফাইল থেকে সংশোধন অপশন নির্বাচন
লগইন করার পর প্রোফাইল পেজে গিয়ে Edit Profile বা সংশোধন অপশন নির্বাচন করতে হবে।
এখানে নাম সংশোধনের অপশন পাওয়া যাবে।
ধাপ ৪: সঠিক নাম লিখে আবেদন করা
এখন আপনার সঠিক নাম বাংলায় এবং ইংরেজিতে লিখতে হবে।
এছাড়া প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে।
ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড
নাম সংশোধনের জন্য সাধারণত নিচের কাগজপত্র লাগতে পারে—
-
এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ।
-
জন্ম নিবন্ধন সনদ।
-
পাসপোর্ট (যদি থাকে)।
-
অন্যান্য পরিচয়পত্র।
এই কাগজগুলো স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
ধাপ ৬: ফি পরিশোধ করা
সব তথ্য ঠিক থাকলে সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ২৩০ টাকা ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।
পেমেন্ট সাধারণত নিচের মাধ্যমে করা যায়—
-
বিকাশ
-
নগদ
-
রকেট
-
ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড
ধাপ ৭: আবেদন সাবমিট করা
ফি পরিশোধ করার পর আবেদন সাবমিট করতে হবে। এরপর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আবেদন যাচাই করা হবে।
এনআইডি নাম সংশোধনে কত সময় লাগে
এনআইডি সংশোধনের সময় নির্ভর করে তথ্য যাচাইয়ের ওপর। সাধারণত—
-
আবেদন যাচাই হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
-
অনেক ক্ষেত্রে ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে সংশোধন সম্পন্ন হয়।
তথ্য ও কাগজপত্র সঠিক থাকলে দ্রুত অনুমোদন পাওয়া সম্ভব।
নাম পরিবর্তনের সময় যেসব বিষয় মনে রাখতে হবে
এনআইডি কার্ডে নাম সংশোধনের আবেদন করার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
-
শিক্ষাগত সনদের সঙ্গে নাম মিল থাকা ভালো।
-
বাংলা ও ইংরেজি নাম একইভাবে লিখতে হবে।
-
সঠিক প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে।
-
ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
উপসংহার
জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ভুল থাকলে এখন খুব সহজেই অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করা যায়। শুধুমাত্র নাম পরিবর্তনের জন্য মাত্র ২৩০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করা সম্ভব। সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করলে নির্বাচন কমিশন যাচাই করে সংশোধন সম্পন্ন করে। ফলে ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে সহজে ভোটার আইডি কার্ডের নাম পরিবর্তন করা যায়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন আবেদন করার নিয়ম(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








