জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি (NID) এখন বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট করা, চাকরির আবেদন কিংবা বিভিন্ন সরকারি অনলাইন সেবা—সব ক্ষেত্রেই এনআইডি অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবে অনেক মানুষের এনআইডি কার্ডে নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা বা ছবি সংক্রান্ত ভুল তথ্য থেকে যায়।
এই ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করার পর সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি মানুষের মনে আসে, তা হলো—
👉 এনআইডি কার্ড সংশোধন করতে কতদিন লাগে?
কেউ বলেন ১৫ দিন, কেউ বলেন কয়েক মাস, আবার কারও ক্ষেত্রে এক বছরও লেগে যায়। আসলে সময় নির্ভর করে সংশোধনের ধরন, যাচাই প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের ওপর। এই লেখায় আমরা আপডেট তথ্য অনুযায়ী বিস্তারিতভাবে জানবো এনআইডি সংশোধনে কতদিন সময় লাগে এবং কেন সময় কম বা বেশি হয়।
আরও পড়ুন-ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়?(আপডেট)
এনআইডি কার্ড সংশোধন কেন সময়সাপেক্ষ হয়
এনআইডি কার্ডে থাকা তথ্য সরাসরি একজন নাগরিকের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত। তাই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কোনো তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক থাকে। বিশেষ করে জন্ম তারিখ বা নামের মতো সংবেদনশীল তথ্য সংশোধনে একাধিক ধাপে যাচাই করা হয়।
এই যাচাই প্রক্রিয়ার কারণেই এনআইডি সংশোধনে সময় লাগে। তবে সব সংশোধনে একই সময় লাগে না।
এনআইডি কার্ড সংশোধন করতে কতদিন লাগে (আপডেট)
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এনআইডি কার্ড সংশোধনের সময়কাল মূলত নির্ভর করে সংশোধনের ক্যাটাগরির ওপর। নিচে ধাপে ধাপে বিষয়টি পরিষ্কার করা হলো।
সাধারণ বা ছোট সংশোধনে কতদিন লাগে
সাধারণ সংশোধনের মধ্যে পড়ে—
-
নামের বানান সংশোধন (ছোট ভুল)।
-
পিতা বা মাতার নামের বানান ঠিক করা।
-
ঠিকানা সংশোধন।
-
ছবি বা স্বাক্ষর পরিবর্তন।
এই ধরনের সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত—
👉 ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবস সময় লাগে।
যদি সব ডকুমেন্ট ঠিক থাকে এবং অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন না হয়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে এর আগেই সংশোধন সম্পন্ন হয়ে যায়।
মাঝারি ধরনের সংশোধনে কতদিন লাগে
মাঝারি সংশোধনের মধ্যে পড়ে—
-
নাম আংশিক পরিবর্তন।
-
বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন।
-
পেশা বা শিক্ষাগত তথ্য সংশোধন।
এই ধরনের সংশোধনে সাধারণত—
👉 ৩০ থেকে ৬০ কার্যদিবস সময় লাগতে পারে।
এক্ষেত্রে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে অতিরিক্ত যাচাই করা হয়।
জন্ম তারিখ সংশোধনে কতদিন লাগে
জন্ম তারিখ সংশোধন হলো এনআইডি সংশোধনের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ। কারণ এটি একজন নাগরিকের আইনি পরিচয়ের মূল ভিত্তি।
জন্ম তারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে—
-
জন্ম নিবন্ধন।
-
শিক্ষাগত সনদ।
-
অন্যান্য সরকারি রেকর্ড।
এই সবকিছু মিলিয়ে কঠোর যাচাই করা হয়।
👉 জন্ম তারিখ সংশোধনে সাধারণত ৬০ থেকে ৯০ কার্যদিবস,
কখনো কখনো ৬ মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
একাধিক তথ্য একসাথে সংশোধন করলে কতদিন লাগে
অনেকে একসাথে নাম, ঠিকানা ও জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন করেন। একাধিক তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে—
-
প্রতিটি তথ্য আলাদাভাবে যাচাই হয়।
-
ফলে সময় তুলনামূলকভাবে বেশি লাগে।
👉 একসাথে একাধিক সংশোধনে সাধারণত ৬০–১২০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
অনলাইনে আবেদন করলে কি সময় কম লাগে
বর্তমানে এনআইডি সংশোধনের আবেদন মূলত অনলাইনের মাধ্যমে করা হয়। অনলাইন আবেদন করলে—
-
আবেদন দ্রুত গ্রহণ হয়।
-
ট্র্যাকিং সুবিধা থাকে।
-
অফিসে বারবার যেতে হয় না।
তবে মনে রাখতে হবে, অনলাইন আবেদন মানেই দ্রুত অনুমোদন নয়। যাচাই প্রক্রিয়া একই থাকে, শুধু আবেদন জমা দেওয়া সহজ হয়।
এনআইডি সংশোধনের সময় বাড়ার কারণগুলো
অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও এনআইডি সংশোধন সম্পন্ন হয় না। এর পেছনে সাধারণত কিছু কারণ থাকে—
-
ভুল বা অস্পষ্ট ডকুমেন্ট আপলোড।
-
ডকুমেন্টের সঙ্গে তথ্যের অমিল।
-
উপজেলা নির্বাচন অফিসে অতিরিক্ত চাপ।
-
জন্ম তারিখ বা নাম সংক্রান্ত জটিলতা।
-
আবেদনকারীকে উপস্থিত হতে বলা হলেও না যাওয়া।
এই কারণগুলো এড়াতে শুরুতেই সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া জরুরি।
এনআইডি সংশোধনের অগ্রগতি কীভাবে জানবেন
এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার পর আপনি অনলাইনে আবেদনের অবস্থা জানতে পারবেন।
এর জন্য—
-
services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে লগইন করুন।
-
“আবেদন ট্র্যাকিং” অপশনে যান।
-
আপনার আবেদন নম্বর ব্যবহার করে স্ট্যাটাস দেখুন।
এতে বোঝা যাবে আবেদন কোন ধাপে আছে।
নির্ধারিত সময় পার হলে কী করবেন
যদি অনেক দিন পার হয়ে যায় কিন্তু কোনো আপডেট না আসে, তাহলে—
-
সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।
-
প্রয়োজনে কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি উপস্থিত হন।
-
আবেদনের ট্র্যাকিং নম্বর দেখান।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে এতে কাজ দ্রুত এগিয়ে যায়।
এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে যেসব ভুল এড়ানো উচিত
এনআইডি সংশোধনের সময় যেসব ভুল করলে দেরি হয়—
-
ভুয়া বা অস্পষ্ট ডকুমেন্ট দেওয়া।
-
একাধিকবার একই তথ্য দিয়ে আবেদন করা।
-
দালালের মাধ্যমে কাজ করানো।
-
ভুল তথ্য গোপন করা।
এসব ভুল এড়ালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
প্রশ্ন–উত্তর
এনআইডি কার্ড সংশোধন করতে সর্বনিম্ন কতদিন লাগে?
সাধারণ সংশোধনে ১৫–৩০ দিন।
জন্ম তারিখ সংশোধনে কেন বেশি সময় লাগে?
কারণ এটি সংবেদনশীল তথ্য এবং কঠোর যাচাই হয়।
অনলাইন আবেদন করলে কি অফিসে যেতে হয়?
কিছু ক্ষেত্রে যাচাইয়ের জন্য যেতে হতে পারে।
সংশোধন হলে নতুন কার্ড কবে পাবো?
অনুমোদনের পর ডাউনলোডযোগ্য ডিজিটাল কপি পাওয়া যায়।
উপসংহার
এনআইডি কার্ড সংশোধন করতে কতদিন লাগে (আপডেট)—এর নির্দিষ্ট একক উত্তর নেই। কারণ সময় নির্ভর করে সংশোধনের ধরন, ডকুমেন্টের মান ও যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর। সাধারণ ভুল হলে দ্রুত হয়, আর জন্ম তারিখের মতো বড় সংশোধনে সময় বেশি লাগে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সঠিক তথ্য, সঠিক কাগজপত্র এবং ধৈর্য। অফিসিয়াল নিয়ম মেনে আবেদন করলে দেরি হলেও শেষ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-এখন আর থানায় জিডি নয়! হারানো NID অনলাইনে পাবেন সহজেই
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










