রাজস্ব বাড়াতে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ওপর নতুন কর কাঠামো প্রণয়ন এবং মূল্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে চোরাচালান ও জাল স্ট্যাম্প ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন-বান্দরবানে শুরু ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ১,০৯৭ পরিবার পাবে মাসে ২,৫০০ টাকা
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের তামাকজাত পণ্যের দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এখনও কম। তাই রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন করে কর কাঠামো প্রণয়ন এবং মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে চারটি স্তরে সিগারেটের দাম নির্ধারণ করা হলেও করহার ইতোমধ্যেই অনেক বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত।
তিনি আরও জানান, বিড়ি ও গুল খাতে ব্যাপক কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। এ খাতে নিয়ন্ত্রণ আনা এবং কর ব্যবস্থাকে যৌক্তিক করার জন্য পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে বিড়ি শিল্পে শ্রমিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই খাতে পরিবর্তন আনতে গেলে সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রতি বছরই তামাকজাত পণ্যে কিছু সমন্বয় করা হয়। তবে এবার কর কাঠামো আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, শুধু কর বাড়ালেই জালিয়াতি বাড়ে—এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। কর কম থাকলেও জালিয়াতি ঘটে। তাই এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
জাল স্ট্যাম্প ও নকল সিগারেট প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে সহজেই পণ্যের বৈধতা যাচাই করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, এই ব্যবস্থার আওতায় একটি ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস সিস্টেম চালু করা হবে, যেখানে সাধারণ জনগণকেও যুক্ত করা হবে। কেউ যদি সন্দেহজনক পণ্য শনাক্ত করে অ্যাপের মাধ্যমে স্ক্যান করে কর্তৃপক্ষকে জানায়, তাহলে তাকে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও রাখা হবে।
এছাড়া চোরাচালান ও জালিয়াতি প্রতিরোধে জব্দ করা অবৈধ সিগারেট জনসমক্ষে ধ্বংস করার পরিকল্পনার কথাও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। এতে করে জনসচেতনতা বাড়বে এবং অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যাবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সভায় ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মানিক মুনতাছিরসহ অন্যান্য নেতারা অংশ নেন। তারা তামাক খাতের করনীতি নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি একদিকে রাজস্ব বাড়াবে, অন্যদিকে ধূমপান নিরুৎসাহিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কর কাঠামো বাস্তবসম্মত না হলে অবৈধ বাজারও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে তামাক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে এনবিআর। এতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।
আরও পড়ুন-ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










