বিশ্বজুড়ে ওয়্যারেবল প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মার্ট চশমা এখন প্রযুক্তি জগতের নতুন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নতুন দুই মডেলের স্মার্ট চশমা বাজারে আনতে যাচ্ছে Meta Platforms Inc.। প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচনায় থাকা এই ডিভাইসগুলোর কোডনাম রাখা হয়েছে ‘স্ক্রাইবার’ এবং ‘ব্লেজার’, যা ব্যবহারকারীদের জন্য একেবারে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারে।
আরও পড়ুন-স্মার্ট চশমা নজরদারি বাড়ছে Nearby Glasses অ্যাপে মিলবে সতর্কবার্তা
প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এই দুটি স্মার্ট চশমার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। মেটার এই নতুন উদ্যোগ মূলত স্মার্ট ওয়্যারেবল ডিভাইসের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কোম্পানিটি স্মার্ট ডিভাইস খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি হিসেবে স্মার্ট গ্লাসকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
নতুন এই চশমাগুলোর একটি বড় সুবিধা হলো—এগুলোতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের চোখের পাওয়ার অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন লেন্স ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ যারা নিয়মিত চশমা ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি আলাদা করে আরেকটি ডিভাইস না হয়ে একই সঙ্গে দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্য একটি স্মার্ট ডিভাইসে পরিণত হবে। এতে সাধারণ ব্যবহারকারীর পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অফিসগামী এবং পেশাজীবীরাও সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
ফিচারের দিক থেকে এই স্মার্ট চশমাগুলো হবে বেশ আধুনিক। এতে থাকবে বিল্ট-ইন ক্যামেরা, যার মাধ্যমে ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণ করা যাবে। এছাড়া মাইক্রোফোন ও স্পিকার যুক্ত থাকায় ভয়েস কমান্ড, কল রিসিভ বা অডিও শোনার মতো সুবিধাও পাওয়া যাবে। মেটার নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি যুক্ত থাকায় ব্যবহারকারীরা ভয়েসের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য জানতে বা নির্দেশ দিতে পারবেন, যা পুরো অভিজ্ঞতাকে আরও স্মার্ট করে তুলবে।
সংযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও এই ডিভাইসগুলো এগিয়ে থাকবে। এতে ওয়াই-ফাই ৬ এবং ইউএনআইআই৪ ব্যান্ড সাপোর্ট থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দ্রুত ডাটা ট্রান্সফার ও স্থিতিশীল সংযোগ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি উন্নত মানের চার্জিং কেস থাকার কারণে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করাও সহজ হবে।
ডিজাইনের দিক থেকে মেটা কিছু বৈচিত্র্য রাখার চেষ্টা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ‘ব্লেজার’ মডেলটি একাধিক ফ্রেম সাইজে পাওয়া যাবে, যাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারী সহজে নিজের জন্য উপযুক্ত ফ্রেম বেছে নিতে পারেন। অন্যদিকে ‘স্ক্রাইবার’ মডেলটি নির্দিষ্ট একটি স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইনে বাজারে আসবে।
তবে এখনো পর্যন্ত এই স্মার্ট চশমাগুলোর দাম বা নির্দিষ্ট বাজারজাতকরণ সময় সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল আরও বেড়েছে—এই ডিভাইসগুলো কতটা সাশ্রয়ী হবে এবং সাধারণ ব্যবহারকারীর নাগালে থাকবে কিনা।
অন্যদিকে, স্মার্ট চশমার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ বাইরে থেকে বোঝা প্রায় অসম্ভব—কেউ সাধারণ চশমা ব্যবহার করছেন নাকি ক্যামেরাযুক্ত স্মার্ট গ্লাস। ফলে গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আইনগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্ট চশমা প্রযুক্তি ভবিষ্যতে মোবাইল ফোনের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সঠিক নীতিমালা ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, যাতে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যায়।
সব মিলিয়ে, মেটার নতুন স্মার্ট চশমা বাজারে এলে এটি ওয়্যারেবল প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই ডিভাইসগুলো কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং বাজারে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়।
সূত্র: দ্য নেক্সট ওয়েব
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










