আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

মাতৃত্বকালীন ভাতা কবে দিবে ২০২৬ সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় নিয়ম

February 11, 2026 9:42 AM
মাতৃত্বকালীন ভাতা কবে দিবে

বাংলাদেশে দরিদ্র ও গর্ভবতী মায়েদের আর্থিক সহায়তা হিসেবে সরকার চালু করেছে মাতৃত্বকালীন ভাতা কর্মসূচি। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে এই ভাতা দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহের বিষয় হলো—২০২৬ সালে মাতৃত্বকালীন ভাতা কবে দিবে? এই প্রতিবেদনে ২০২৬ এর সময়সূচি, যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করে তুলে ধরা হলো।

আরও পড়ুন-বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ভাতা কত টাকা ২০২৫–২০২৬ অর্থবছর?

মাতৃত্বকালীন ভাতা কি

মাতৃত্বকালীন ভাতা হলো সরকারের একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার আওতায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের গর্ভবতী মায়েদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ভাতার মূল উদ্দেশ্য হলো—

  • গর্ভাবস্থায় মায়েদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য উন্নত করা।

  • নিরাপদ ডেলিভারি ও শিশুর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা।

  • গর্ভধারণ ও প্রসূতি মেয়েদের আর্থিক চাপ কমানো।

এই ভাতা সাধারণত ইউনিয়ন, পৌরসভা বা উপজেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত ভাতাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

২০২৬ সালে মাতৃত্বকালীন ভাতা কবে দিবে

সরকার সাধারণভাবে মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য ভাতাভোগী নির্বাচন, যাচাই-বাছাই এবং পরে টাকা বিতরণ করার কার্যক্রম চালায়। যদিও সারাদেশে একযোগে নির্দিষ্ট একটি দিন ঘোষণা করা হয় না, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী—

🔹 ভাতাভোগী নির্বাচন সাধারণত জুন–জুলাই ২০২৬ মাসে সম্পন্ন হয়।
🔹 এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ভাতা বিতরণ শুরু হয় আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে।
🔹 কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কারণে অক্টোবর ২০২৬-এও বিতরণ হতে পারে।

অর্থাৎ অভিজ্ঞতা অনুসারে ২০২৬ সালে মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা আগস্ট, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রদান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

মাতৃত্বকালীন ভাতা কত কিস্তিতে দেওয়া হয়

মাতৃত্বকালীন ভাতা সাধারণত একবারে পুরো টাকা না দিয়ে কিস্তিতে প্রদান করা হয়, যাতে মা গর্ভকাল ও পরে কিছু সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।

ভাতা বিতরণের সাধারণ কাঠামো—

  • ভাতা প্রদান করা হয় ৬ মাস পরপর।

  • মোট ২৪ মাসের জন্য ভাতা প্রদান হয়।

  • সাধারণত ৪টি কিস্তিতে টাকা বিতরণ করা হয়।

এই ধাপে ধাপে প্রদানের ফলে ভাতাভোগী মায়েরা দীর্ঘ সময় ধরে সহায়তা পেয়ে থাকেন।

২০২৬ সালে ভাতা কত টাকা পাওয়া যাবে

বর্তমান কার্যক্রম অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ভাতা সাধারণত প্রতি কিস্তিতে নির্দিষ্ট অঙ্কে প্রদান করা হয়। ভাতার মোট অর্থ সাধারণত গর্ভকালীন ও প্রসূতি মেয়েদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে পর্যাপ্ত থাকে।

ভাতার প্রকৃত টাকা ২০২৬ সালে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে, তবে প্রচলিত কাঠামো অনুযায়ী মা প্রতি মাসে প্রতিটি কিস্তির নির্ধারিত মূল্য পেতে পারেন।

মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা

মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে হলে আবেদনকারীকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। সাধারণ শর্তগুলো হলো—

✔️ আবেদনকারী গর্ভবতী বা সদ্য প্রসূতি নারী হতে হবে।
✔️ বয়স সাধারণত ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
✔️ পরিবারের মাসিক আয় নির্দিষ্ট ন্যূনতম স্তরের মধ্যে থাকতে হবে।
✔️ আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা পৌরসভার আওতাভুক্ত হতে হবে।
✔️ একই পরিবার থেকে একই সময়ে একাধিক ভাতা আবেদন করার সুযোগ সীমিত হতে পারে।

এই শর্তগুলো স্থানীয় যাচাই কমিটি দেখে ভাতাভোগীদের নির্বাচন করে।

মাতৃত্বকালীন ভাতা আবেদন করার নিয়ম

মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে হলে সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়—

আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপ
  1. আবেদন ফরম সংগ্রহ

    • ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার কার্যালয়ে সরাসরি আবেদন ফরম নিন

  2. সঠিক তথ্য পূরণ

    • ফরমের সব তথ্য ফরমের নিয়ম অনুযায়ী পূরণ করুন

  3. কাগজপত্র জোগাড়

    • প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র ঠিকভাবে সংযুক্ত করুন

  4. আবেদন জমা

    • আবেদন ও কাগজপত্র নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিন

  5. যাচাই-বাছাই

    • ইউনিয়ন বা উপজেলা কমিটি তথ্য যাচাই করে

  6. অনুমোদন ও সনদ

    • ভাতাভোগী তালিকায় নাম নিশ্চিত হলে অনুমোদন দেওয়া হয়

  7. টাকা প্রেরণ

    • অনুমোদনের পরে ভাতা ভোগীর ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়

অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা থাকলেও বহু এলাকায় এখনও স্থানীয় অফিসের মাধ্যমে আবেদন করেই প্রক্রিয়া চালানো হয়।

মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদনের সময়ে সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্র লাগে—

  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি

  • গর্ভধারণ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সনদ/প্রত্যয়ন

  • পরিবারের আয়ের প্রমাণপত্র

  • ভাতাভোগীর ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য

  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি

সকল কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দিলে প্রক্রিয়া দ্রুত এগোয়।

ভাতা টাকা কিভাবে পাওয়া যায়

মাতৃত্বকালীন ভাতা সরাসরি হাতে পেতে হয় না। এটি ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে প্রদান করা হয় যাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম কম থাকে।

ভাতা পাওয়ার মাধ্যম—

✔️ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
✔️ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা

ভাতার টাকা ভাতাভোগীর নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।

ভাতা পেতে দেরি হলে করণীয়

অনেক সময় নির্ধারিত সময় পার হলেও ভাতার টাকা না পেয়ে থাকলে—

  • ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার কার্যালয়ে খোঁজ নিন

  • উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন

  • নিজের নাম ভাতাভোগী তালিকায় আছে কি না যাচাই করুন

  • ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য সঠিক আছে কি না নিশ্চিত করুন

সঠিক তথ্য প্রদান করলে সাধারণত সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

সতর্কতা ও নির্দেশনা

  • ভাতা দেওয়ার নামে কেউ টাকা দাবি করলে বিশ্বাস করবেন না

  • কোন দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না।

  • সব সময় সরকারি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

  • আবেদন নম্বর ও কাগজপত্রের কপি সংরক্ষণ করুন।

উপসংহার

মাতৃত্বকালীন ভাতা ২০২৬ কবে দিবে—এর সরাসরি একক তারিখ না থাকলেও প্রচলিত সময়সূচি অনুযায়ী ভাতাভোগীদের নির্বাচন জুন–জুলাই ২০২৬ মাসে হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে আগস্ট থেকে অক্টোবর ২০২৬ মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে টাকা বিতরণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ভাতা পেতে হলে সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।

আরও পড়ুন-মাতৃত্বকালীন ভাতা অনলাইন আবেদন করার সঠিক এবং সবচাইতে সহজ নিয়ম (আপডেট)

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now