বর্তমান সময়ে সরকারি হাসপাতালে লাইন দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা অনেকের জন্যই কষ্টকর। এই সমস্যা সমাধানে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল চালু করেছে অনলাইন টিকিট সিস্টেম, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজে OPD টিকিট সংগ্রহ করা যায়। এই ব্লগ পোস্টে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে অনলাইন টিকিট নেওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, সুবিধা, সতর্কতা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-এভারকেয়ার হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট(আপডেট)
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল সংক্ষেপে
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ঢাকা শহরের একটি অন্যতম বড় সরকারি হাসপাতাল। এখানে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, অর্থোপেডিক, ইএনটি, চোখসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
অনলাইন টিকিট কী এবং কেন প্রয়োজন?
অনলাইন টিকিট হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে আগেই OPD টিকিট বুক করার একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা। এর ফলে—
-
হাসপাতালে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় না।
-
সময় ও ভোগান্তি কমে।
-
রোগী ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হয়।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল করার অংশ হিসেবেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে অনলাইন ই-টিকিট নেওয়ার ধাপসমূহ
নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে ঘরে বসেই সহজে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল–এর অনলাইন ই-টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
🔹 ধাপ–০১: অনলাইন ই-টিকিট পোর্টালে প্রবেশ
প্রথমে গুগলে গিয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অনলাইন ই-টিকিট পোর্টাল–এ প্রবেশ করুন।
ওয়েবসাইট ওপেন হলে সেখানে আপনার মোবাইল নম্বর প্রবেশ করান এবং ডান পাশে থাকা Search অপশনে ক্লিক করুন।
👉 প্রয়োজনে নিচে দেওয়া স্ক্রিনশট অনুসরণ করুন।
🔹 ধাপ–০২: OTP ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন
এই ধাপে আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি ৪ সংখ্যার OTP পাঠানো হবে।
প্রাপ্ত OTP কোডটি নির্ধারিত ঘরে বসিয়ে Verify করুন।
সফলভাবে ভেরিফাই হলে পরবর্তী ধাপে চলে যাবেন।
🔹 ধাপ–০৩: নতুন রোগী রেজিস্ট্রেশন শুরু
ভেরিফিকেশন শেষে আপনার প্রোফাইল পেজ ওপেন হবে।
এখানে নিচের দিকে “Register New Patient” অপশন দেখতে পাবেন।
এই অপশনে ক্লিক করে নতুন রোগী রেজিস্ট্রেশনের ধাপে প্রবেশ করুন।
🔹 ধাপ–০৪: পেশেন্ট রেজিস্ট্রেশন ফর্ম পূরণ
এই ধাপে আপনাকে একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্মে নিচের তথ্যগুলো সঠিকভাবে প্রদান করুন—
-
রোগীর নাম
-
জন্ম তারিখ
-
লিঙ্গ
-
বিভাগ (Division)
-
জেলা ও উপজেলা
সব তথ্য পূরণ করার পর নিচে থাকা Register বাটনে ক্লিক করুন।
🔹 ধাপ–০৫: রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন ও ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ
রেজিস্ট্রেশন সফলভাবে সম্পন্ন হলে আপনার ড্যাশবোর্ড ওপেন হবে।
ড্যাশবোর্ডে আপনার নামের পাশে “Book Ticket” নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন।
এখানে ক্লিক করে টিকিট বুকিংয়ের পরবর্তী ধাপে যান।
🔹 ধাপ–০৬: বিভাগ নির্বাচন ও টিকিট বুকিং
এই ধাপে—
-
পেশেন্ট ID ও নাম অটোমেটিকভাবে চলে আসবে
-
আপনি কোন ডিপার্টমেন্ট/বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে চান তা নির্বাচন করুন
-
বুকিং তারিখ (Booking Date) ও সময় (Time Slot) সিলেক্ট করুন
সব তথ্য ঠিক থাকলে নিচে থাকা Book Ticket বাটনে ক্লিক করুন।
🔹 ধাপ–০৭: অনলাইন পেমেন্ট সম্পন্ন করুন
সবশেষে আপনার সামনে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ওপেন হবে।
এখান থেকে আপনি—
-
মোবাইল ব্যাংকিং
-
ব্যাংক
-
ডিজিটাল ওয়ালেট
এর যেকোনো একটি মাধ্যম ব্যবহার করে ১০.৫০ টাকা পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
পেমেন্ট সফল হলে আপনার অনলাইন টিকিট বুকিং সম্পূর্ণ হয়ে যাবে ✅
ধাপ ৮: টিকিট কনফার্মেশন
সফলভাবে আবেদন সম্পন্ন হলে SMS-এর মাধ্যমে টিকিট নম্বর বা কনফার্মেশন পাওয়া যাবে।
ধাপ ৯: হাসপাতালে উপস্থিতি
নির্ধারিত তারিখে টিকিট নম্বর ও পরিচয়পত্র নিয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হতে হবে।
অনলাইন টিকিটের সুবিধাসমূহ
✅ দীর্ঘ লাইনের ঝামেলা নেই।
✅ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেবা পাওয়ার সুযোগ।
✅ নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের জন্য স্বস্তিদায়ক।
✅ ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ।
অনলাইন টিকিট নেওয়ার সময় যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
-
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট দেওয়া হয়, তাই সময়মতো আবেদন করুন।
-
ভুল তথ্য দিলে টিকিট বাতিল হতে পারে।
-
একাধিক টিকিট বুক করা থেকে বিরত থাকুন।
-
SMS কনফার্মেশন সংরক্ষণ করুন।
অনলাইন টিকিট না পেলে কী করবেন?
কখনো কখনো অনলাইন টিকিট শেষ হয়ে গেলে—
-
সরাসরি হাসপাতালের কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করা যায়।
-
পরদিন ভোরে অনলাইনে আবার চেষ্টা করতে পারেন।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অনলাইন টিকিট কাদের জন্য সবচেয়ে উপকারী?
-
চাকরিজীবী রোগী।
-
দূর থেকে আসা রোগী।
-
নারী ও বয়স্ক নাগরিক।
-
দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে অক্ষম রোগী।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল কোথায় অবস্থিত
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ঢাকা মহানগরীর কুর্মিটোলা এলাকায় অবস্থিত। এটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে সহজেই যাতায়াত করা যায়। বিমানবন্দর রোড, ক্যান্টনমেন্ট ও উত্তরা অঞ্চল থেকে বাস, রিকশা ও রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল সাপ্তাহিক বন্ধ
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে সাধারণত শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ হিসেবে ধরা হয়। তবে জরুরি বিভাগ (Emergency) ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে OPD বা বহির্বিভাগ সীমিত বা বন্ধ থাকতে পারে, তাই যাওয়ার আগে সময়সূচি জেনে নেওয়া ভালো।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ডাক্তার তালিকা
এই হাসপাতালে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, অর্থোপেডিক, ইএনটি, চর্মরোগ ও চক্ষু বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে অভিজ্ঞ সরকারি চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করেন। ডাক্তারদের তালিকা বিভাগভেদে পরিবর্তন হতে পারে এবং তা সাধারণত হাসপাতালের নোটিশ বোর্ড বা রেজিস্ট্রেশন কাউন্টার থেকে জানা যায়।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল টেস্ট খরচ
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বিভিন্ন প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক টেস্ট সরকারি নির্ধারিত স্বল্প খরচে করা হয়। রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও অন্যান্য সাধারণ পরীক্ষার খরচ প্রাইভেট হাসপাতালের তুলনায় অনেক কম। নির্দিষ্ট টেস্টের খরচ জানতে হাসপাতালের ল্যাব কাউন্টারে যোগাযোগ করা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল সময়সূচি
হাসপাতালের OPD সেবা সাধারণত সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চালু থাকে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রোগী দেখা হয় এবং সময় শেষ হলে নতুন টিকিট গ্রহণ বন্ধ করা হয়। জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল রোগী দেখার সময়
বহির্বিভাগে রোগী দেখা সাধারণত সকাল বেলা শুরু হয়। অনলাইন বা সরাসরি টিকিট নেওয়া রোগীদের সিরিয়াল অনুযায়ী ডাক্তার দেখানো হয়। রোগীর চাপ বেশি থাকলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বাড়তে পারে, তাই সকালে আগে আসা সুবিধাজনক।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল গাইনি ডাক্তার তালিকা
গাইনি ও প্রসূতি বিভাগ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। এখানে নারী রোগীদের জন্য অভিজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সদের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হয়। গাইনি ডাক্তারদের তালিকা ও রোগী দেখার দিন বিভাগীয় কাউন্টার বা নোটিশ বোর্ডে দেওয়া থাকে।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ডাক্তার দেখানোর নিয়ম
ডাক্তার দেখাতে হলে প্রথমে অনলাইন অথবা সরাসরি OPD টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এরপর নির্ধারিত দিনে টিকিট নম্বর অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগে সিরিয়াল অনুসরণ করে ডাক্তার দেখানো হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র বা পূর্বের চিকিৎসা কাগজ সঙ্গে রাখলে সুবিধা হয়।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ফোন নাম্বার
হাসপাতালের অফিসিয়াল ফোন নম্বর সাধারণত তথ্য কাউন্টার বা প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা হয়। জরুরি তথ্য জানার জন্য সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে অথবা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উপায়।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে কি অনলাইন টিকিট বাধ্যতামূলক?
উত্তর: না, অনলাইন ও সরাসরি—দুইভাবেই টিকিট নেওয়া যায়।
প্রশ্ন: অনলাইন টিকিটের জন্য কোনো ফি লাগে কি?
উত্তর: সাধারণত সরকারি নির্ধারিত নামমাত্র ফি প্রযোজ্য।
প্রশ্ন: এক মোবাইল নম্বর দিয়ে কয়টি টিকিট নেওয়া যাবে?
উত্তর: সাধারণত একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট নেওয়া যায়।
উপসংহার
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে অনলাইন টিকিট ব্যবস্থা সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ ও রোগীবান্ধব করেছে। সঠিক নিয়ম মেনে অনলাইন টিকিট ব্যবহার করলে সময় বাঁচবে, ভোগান্তি কমবে এবং দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব হবে। সরকারি হাসপাতালের সেবা ডিজিটাল হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় সুবিধা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা ফোন নাম্বার ও ঠিকানা(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









