ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পর এবার কৃষকদের জন্য স্মার্ট ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব পাইলট প্রকল্প আকারে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করা হবে।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কৃষক কার্ডসংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উৎপাদন সংশ্লিষ্ট সব সুবিধা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন-নতুন ফ্যামিলি কার্ড আবেদন করার নিয়ম(অনলাইন ও অফলাইন)
আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত
তথ্যমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ড দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া হয়েছে। আজকের বৈঠকে বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতোই পাইলট প্রকল্প হিসেবে কিছু এলাকায় শুরু করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
কৃষক কার্ডের উদ্দেশ্য কী
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে—
-
উৎপাদন সহায়তা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছাবে।
-
সার, বীজ ও কৃষিঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা আসবে।
-
ভর্তুকি সুবিধা দ্রুত পাওয়া যাবে।
-
কৃষি সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রণোদনা সহজ হবে।
মন্ত্রী বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে কৃষকদের প্রাপ্য সুবিধা নিতে না পারে, সে লক্ষ্যেই স্মার্ট কৃষক কার্ড চালু করা হচ্ছে।
কীভাবে কাজ করবে স্মার্ট কৃষক কার্ড
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও কৃষিজমির তথ্যের ভিত্তিতে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।
স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে—
-
ভর্তুকি সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে যাবে।
-
কৃষিঋণ ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
-
উৎপাদন পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করা যাবে।
এতে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাইলট প্রকল্পের পরিকল্পনা
ফ্যামিলি কার্ডের মতো কৃষক কার্ডও প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হবে। নির্দিষ্ট কিছু জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে বিতরণ শুরু করা হবে। সফল বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
সরকারের লক্ষ্য ধীরে ধীরে দেশের সব নিবন্ধিত কৃষককে স্মার্ট কার্ড প্রদান করা।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অনেক সময় ভর্তুকি ও প্রণোদনা সুবিধা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছায় না। কৃষক কার্ড চালু হলে—
-
কৃষক সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন।
-
কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা মিলবে।
-
মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমবে।
-
ডিজিটাল ব্যবস্থায় কৃষি তথ্য সংরক্ষণ সহজ হবে।
এটি কৃষি খাতে বড় ধরনের সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উপসংহার
সরকার ফ্যামিলি কার্ডের পর দ্রুতই কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে। উৎপাদন সংশ্লিষ্ট সুবিধা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছানোই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
আরও পড়ুন-ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







