আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

খাবারে বরকত ও গুনাহ মাফের দোয়া – বিসমিল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহর গুরুত্ব

খাবারের সময় আমরা সাধারণত ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করি এবং শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলি। তবে এই দোয়া ও তাসবিহের গুরুত্ব শুধু এটাই নয় যে এটি খাবারে বরকত বাড়ায়, শয়তানের প্রভাব থেকে রক্ষা করে, বরং এটি মুমিনকে ছোট গুনাহ থেকে মুক্তি দেয়।

এই ব্লগ পোস্টে আমরা বিস্তারিত জানবো কীভাবে খাবারের শুরু ও শেষে সঠিক দোয়া পড়া উচিত, এবং গুনাহ মাফের দোয়া সম্পর্কে হাদিস অনুযায়ী কী বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন-মাথা ব্যথার দোয়া অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ | মাথা ব্যথা থেকে শিফা

খাবারের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ার গুরুত্ব

হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

“তোমাদের কেউ খাবার খেতে বসলে যেন বিসমিল্লাহ বলে খাবার শুরু করে। যদি কেউ প্রথমে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তবে শেষেও বলুক:
بِسْمِ الله فِىْ أَوَّلِهِ وَ أخِرِهِ
উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি ফি আউয়্যালিহি ওয়া আখিরিহি’
অর্থ: ‘খাবারের শুরুতে আল্লাহর নাম এবং শেষেও আল্লাহর নাম।’”
(আবু দাউদ)

ফায়দা:

  • খাবারে বরকত বৃদ্ধি পায়।

  • শয়তান খাবারে অংশ নিতে পারে না।

খাবারের শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়ার বিশেষ দোয়া

হজরত মুয়াজ ইবনে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

“যে ব্যক্তি খাবারের শেষে এই দোয়া পড়বে:
الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أطْعَمَنِي هَذَا، وَرَزَقنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلاَ قُوَّةٍ
উচ্চারণ: ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আত্বআমানি হাজা; ওয়া রাযাক্বানিহি মিন গাইরি হাওলিম মিন্নি ওয়া লা কুওয়্যাতিন।’
অর্থ: “সব প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে এটা খাওয়ালেন এবং আমার কোনো প্রচেষ্টা বা সামর্থ্য ছাড়াই জীবিকা দান করলেন।”
তখন তার আগের সব ছোট গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”
(আবু দাউদ, তিরমিজি, রিয়াদুস সালেহিন)

ফায়দা:

  • খাবারে বরকত।

  • শয়তানের প্রভাব থেকে রক্ষা।

  • আগের ছোট গুনাহ ক্ষমা।

গুনাহ মাফের দোয়া: হাদিস অনুসারে সম্পূর্ণ পাঠ

খাবারের শেষে উচ্চারিত দোয়াটি হলো:

الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أطْعَمَنِي هَذَا، وَرَزَقنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلاَ قُوَّةٍ

উচ্চারণ:
‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আত্বআমানি হাজা; ওয়া রাযাক্বানিহি মিন গাইরি হাওলিম মিন্নি ওয়া লা কুওয়্যাতিন।’

বাংলা অর্থ:
“সব প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে এটা খাওয়ালেন এবং আমার কোনো প্রচেষ্টা বা সামর্থ্য ছাড়াই জীবিকা দান করলেন।”

এই দোয়া পড়লে মুমিনের ছোট গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়।

সঠিক খাবারের নিয়ম সংক্ষেপে

  1. খাবারের শুরুতে:

    • অবশ্যই ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ুন।

    • যদি ভুলে যান, শেষে বলুন: ‘বিসমিল্লাহি ফি আউয়্যালিহি ওয়া আখিরিহি’।

  2. খাবারের সময়:

    • খাওয়ার সময় অহংকার বা অবৈধ আচরণ থেকে বিরত থাকুন।

  3. খাবারের শেষে:

    • দোয়া পড়ুন: আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আত্বআমানি হাজা…

    • এতে গুনাহ ক্ষমা এবং খাবারে বরকত।

উপসংহার

খাবারকে শুধু শারীরিক তৃপ্তির জন্য নয়, বরং আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু এবং আলহামদুলিল্লাহ দিয়ে শেষ করলে:

  • খাবারে বরকত বৃদ্ধি পায়।

  • শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্তি।

  • আগের ছোট গুনাহ মাফ।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই দোয়াগুলো নিয়মিত উচ্চারণ করার তাওফিক দিন। আমিন।

আরও পড়ুন-রোজা না রেখে কি ইফতার করা যাবে?

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।