আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু ইলেকট্রিক কার্ট সেবা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সবসময়ই তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আবাসিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থী-বান্ধব উদ্যোগের জন্য আলাদা পরিচিত। তবে দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা ছিল—রাতে ক্যাম্পাসে নিরাপদ যাতায়াত। বিশেষ করে ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি ছিল আরও বেশি সংবেদনশীল।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জাবি প্রশাসন নিয়েছে এক যুগান্তকারী ও প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত—রাতে দুর্ঘটনা ও ঝুঁকি কমাতে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হয়েছে ইলেকট্রিক কার্ট গাড়ি সেবা।

আরও দেখুন – বুয়েটের নকশায় দেশের প্রথম ই-রিকশা চালু 

কী এই ইলেকট্রিক কার্ট সেবা?

ইলেকট্রিক কার্ট হলো ব্যাটারিচালিত ছোট যানবাহন, যা শব্দ ও ধোঁয়ামুক্ত। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বিমানবন্দর কিংবা বড় আবাসিক এলাকায় নিরাপদ ও স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে ব্যবহার করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কার্টগুলো মূলত—

  • রাতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে।
  • দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি কমাতে।
  • ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

এই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে চালু করা হয়েছে।

🌙 কেন রাতে এই উদ্যোগ এত গুরুত্বপূর্ণ?

জাবি ক্যাম্পাস আয়তনে অনেক বড়। রাতে—

  • পর্যাপ্ত আলো না থাকা।

  • ফাঁকা রাস্তা।

  • শীত ও কুয়াশা।

  • বন্যপ্রাণীর চলাচল।

  • বাইক বা দ্রুতগতির যানবাহনের ঝুঁকি।

এসব কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অনেক ছাত্রীকে রাতের ক্লাস, লাইব্রেরি কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বের হতে ভয় পেতে হতো।

👉 ইলেকট্রিক কার্ট চালুর ফলে এই ভয় অনেকটাই কমে এসেছে।

👩‍🎓👨‍🎓 কারা এই সেবা পাচ্ছেন?

এই সেবাটি মূলত—

  • আবাসিক হলের শিক্ষার্থী।

  • রাতের ক্লাস বা লাইব্রেরি থেকে ফেরা শিক্ষার্থী।

  • বিশেষ করে ছাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে।

প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট রুট ও সময়ে এই কার্ট চলাচল করছে, যা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

🔋 পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক উদ্যোগ

এই ইলেকট্রিক কার্টগুলো—

  • কোনো ধোঁয়া ছাড়ে না।

  • শব্দ দূষণ করে না।

  • পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়।

  • জ্বালানি খরচ কম।

এক কথায়, এটি সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার পথে জাবির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

🗣️ শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

অনেক শিক্ষার্থী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়—

  • “এখন রাতে বের হতে আগের মতো ভয় লাগে না”।

  • “ছাত্রীদের জন্য এটা খুবই দরকারি সিদ্ধান্ত”।

  • “অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও চাইলে এটি অনুসরণ করতে পারে”।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।

🔮 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই উদ্যোগ সফল হলে—

  • আরও কার্ট যুক্ত হতে পারে।

  • দিনের বেলাতেও সীমিত আকারে চালু হতে পারে।

  • অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও অনুপ্রাণিত হতে পারে।

এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনায় একটি মডেল উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে।

উপসংহার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক কার্ট সেবা প্রমাণ করে—সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
রাতে দুর্ঘটনা কমানো, ছাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার পথে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন-গণপরিবহনে স্বস্তির নতুন অধ্যায়: রাজধানীতে চালু হচ্ছে ৪০০ ইলেকট্রিক বাস

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।