আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

গত রমজানের কাজা রোজা কি এখন রাখা যাবে? ইসলামী শরিয়তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা

February 10, 2026 8:07 PM
গত রমজানের কাজা রোজা কি শাবান মাসে রাখা যাবে

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য ফরজ ইবাদতের এক বিশেষ সময়। তবে শারীরিক অসুস্থতা, সফর, নারীদের ঋতুস্রাব কিংবা অন্য কোনো বৈধ ওজরের কারণে অনেকের পক্ষে রমজানের সব রোজা রাখা সম্ভব হয় না। ইসলামের সৌন্দর্য ও সহজতার একটি দিক হলো—এ ধরনের অপারগতার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ রোজা কাজা করার সুযোগ রেখেছেন। ফলে নির্দিষ্ট সময় পরে এই রোজাগুলো আদায় করা যায়।

আরও পড়ুন-জুমার দিনে যে দোয়া পড়লে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয়

বিশেষ করে রমজানের পূর্ববর্তী মাস শাবান এলে অনেক মুসলমানের মনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জাগে—গত রমজানের কাজা রোজা কি এখন রাখা যাবে, নাকি এত দেরি হয়ে গেছে? বিষয়টি নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকলেও ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, যেকোনো বৈধ কারণে রমজানের রোজা ছুটে গেলে তা পরবর্তী সময়ে কাজা করা ফরজ। অসুস্থতা, সফর বা নারীদের হায়েজ-নিফাস—এসবই শরিয়তসম্মত ওজর হিসেবে গণ্য হয়। এসব কারণে যে কয়টি রোজা ছুটে যায়, ঠিক সেই সংখ্যক রোজা পরে আদায় করতে হয়।

কাজা রোজা আদায়ের জন্য ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো মাস বেঁধে দেওয়া হয়নি। বরং একটি রমজান শেষ হওয়ার পর থেকে পরবর্তী রমজান শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়কে কাজা রোজা আদায়ের সুযোগ হিসেবে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১১ মাস সময় পাওয়া যায়। শাওয়াল মাস থেকে শুরু করে জিলকদ, জিলহজ, মহররম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস সানি, জমাদিউল আউয়াল, জমাদিউস সানি, রজব ও শাবান—এই পুরো সময়জুড়ে কাজা রোজা রাখা জায়েজ।

অনেকেই মনে করেন, শাবান মাসে এসে কাজা রোজা রাখা ঠিক নয় বা এতে কোনো সমস্যা আছে। বাস্তবে এই ধারণার কোনো শরিয়তসম্মত ভিত্তি নেই। শাবান মাসেও কাজা রোজা রাখা বৈধ। বরং পরবর্তী রমজান আসার আগে কাজা রোজা আদায় করা জরুরি। অযথা বিলম্ব করা শরিয়তসম্মতভাবে অনুচিত।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ স্পষ্টভাবে কাজা রোজা সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,
“অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তাকে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪) — কুরআন মাজিদ

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, রোজা ছুটে গেলে অন্য সময়ে তা পূরণ করার নির্দেশ রয়েছে। এখানে কোনো নির্দিষ্ট মাস বা সময়ের বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করা হয়নি। বরং সুযোগ থাকা পর্যন্ত রোজা আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে ফিকহবিদদের মতে, বিনা কারণে কাজা রোজা দীর্ঘদিন পিছিয়ে রাখা ঠিক নয়। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত কাজা রোজা আদায় না করে, তাহলে তার গুনাহ হবে। কিছু মাজহাব অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে কাজা রোজার পাশাপাশি ফিদইয়া দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে মাজহাবভেদে মতভিন্নতা রয়েছে।

নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বাস্তবসম্মতভাবে দেখা হয়। হায়েজ-নিফাসজনিত কারণে রোজা কাজা হওয়া স্বাভাবিক। অনেক নারী সংসার, সন্তান লালন-পালন কিংবা শারীরিক কারণে বছরের বিভিন্ন সময় রোজা রাখতে পারেন না। ইসলামে তাদের জন্যও শাবান মাস পর্যন্ত কাজা রোজা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।

ইসলামি আলেমরা সাধারণত পরামর্শ দেন, কাজা রোজা যত দ্রুত সম্ভব আদায় করে নেওয়াই উত্তম। এতে ফরজ দায়িত্ব আদায়ে গাফিলতি হয় না এবং মানসিক চাপও কমে। পাশাপাশি নফল রোজার আগে ফরজ কাজা রোজাকে অগ্রাধিকার দেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ।

উপসংহার

গত রমজানের কাজা রোজা এখন রাখা সম্পূর্ণ জায়েজ ও শরিয়তসম্মত। শাওয়াল মাস থেকে শুরু করে শাবান মাস পর্যন্ত যেকোনো সময় কাজা রোজা আদায় করা যায়, যতক্ষণ না পরবর্তী রমজান শুরু হয়। তবে অযথা দেরি না করে সুযোগ পেলেই কাজা রোজা আদায় করা একজন মুমিনের দায়িত্ব। এতে ফরজ ইবাদত আদায় যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জিত হয়।

আরও পড়ুন-জুমার প্রথম ও দ্বিতীয় খুতবা

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now