আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা জেলায় ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়নে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলার মোট ভোটকেন্দ্রের অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা জুড়ে নেওয়া হচ্ছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর অংশ হিসেবে গাইবান্ধায় মোতায়েন করা হচ্ছে বিপুল সংখ্যক সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আরও পড়ুন-এআই ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের ঘোষণা
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের পরিসংখ্যান
নিরাপত্তা মূল্যায়ন অনুযায়ী, গাইবান্ধা জেলায় মোট ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৭৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে ৭৯টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
এই মূল্যায়ন করা হয়েছে—
-
অতীতের নির্বাচনী সহিংসতার ইতিহাস
-
বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা
-
প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা
-
ভৌগোলিক অবস্থান
-
গোয়েন্দা তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া সতর্ক সংকেত
সবকিছু মিলিয়ে প্রশাসন আগেভাগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আসনভিত্তিক ঝুঁকির চিত্র
গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে কয়েকটিতে ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি—
-
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী)
-
মোট কেন্দ্র: ১৪৬
-
ঝুঁকিপূর্ণ: ৮৭টি
-
-
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ)
-
মোট কেন্দ্র: ১৪২
-
ঝুঁকিপূর্ণ: ১১০টি
-
-
ফুলছড়ি উপজেলা
-
মোট কেন্দ্র: ৪৫
-
অতি ঝুঁকিপূর্ণ: ২৭টি
-
এছাড়া অন্যান্য আসনের পরিস্থিতিও কম উদ্বেগজনক নয়—
-
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ)
-
মোট কেন্দ্র: ১২৩
-
ঝুঁকিপূর্ণ: ৪১টি
-
অতি ঝুঁকিপূর্ণ: ১১টি
-
-
গাইবান্ধা-২ (সদর)
-
মোট কেন্দ্র: ১১৮
-
ঝুঁকিপূর্ণ: ৫১টি
-
অতি ঝুঁকিপূর্ণ: ১১টি
-
-
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি–সাঘাটা)
-
মোট কেন্দ্র: ১৪৬
-
ঝুঁকিপূর্ণ: ৯০টি
-
অতি ঝুঁকিপূর্ণ: ৩৫টি
-
নজিরবিহীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি
এই বিপুল সংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রকে ঘিরে গাইবান্ধা জেলায় নেওয়া হয়েছে কড়া ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে—
-
১১০০ সেনা সদস্য মোতায়েন করা হবে।
-
দায়িত্বে থাকবেন ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
-
পাশাপাশি ১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
-
মাঠে থাকবে প্রায় ২,৫০০ পুলিশ সদস্য।
প্রতিটি উপজেলায় থাকবে ২টি করে র্যাব টিম, সব মিলিয়ে ১৪টি র্যাব টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রাখা হবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্য।
দুর্গম এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা
বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম ভোটকেন্দ্রগুলোতে দ্রুত ফোর্স পাঠানোর জন্য সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এতে জরুরি পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হবে।
ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা বিন্যাস
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম–এর বরাতে জানা গেছে—
-
সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ২ জন করে পুলিশ সদস্য।
-
গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন করে পুলিশ সদস্য।
-
প্রতিটি কেন্দ্রে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী আনসার, মোট ১০ জন।
-
সঙ্গে থাকবে ৩ জন অস্ত্রধারী আনসার।
অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তারা ভোট দেবেন—
-
৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের।
-
মোট ৪ হাজার ১০১টি ভোটকক্ষে।
এত বড় পরিসরে ভোট আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, গাইবান্ধা জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেশি হলেও প্রশাসনের প্রস্তুতি তার চেয়েও ব্যাপক। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেসি ব্যবস্থার সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনার মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করাই লক্ষ্য। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নজরদারি ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন-বিটিসিএল চালু করছে .bd ও .বাংলা ডোমেইন রিসেলার সিস্টেম!
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









